নিজস্ব প্রতিবেদক:
ইতালি যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে দালালের প্রতারণার শিকার হয়েছেন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার আব্দুল ওয়াদুদ নামে এক যুবক। বিদেশে ভালো কাজের আশায় দালালের দেওয়া প্রলোভনে পড়ে তিনি প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা দেনায় পড়ে, বর্তমানে তাহার পরিবার অনাহারে অর্ধাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে একই এলাকার এক দালাল নিজেকে “ইতালি ভিসা প্রসেসিং বিশেষজ্ঞ” পরিচয় দিয়ে ওয়াদুদকে অল্প সময়ে ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দেয়। প্রচুর আয় এবং দ্রুত রওনা হওয়ার লোভ দেখিয়ে দালাল প্রথমে ৭ লাখ টাকা অগ্রিম এবং পরে ধাপে ধাপে সব টাকা আদায় করে।নিজেদের অর্থ সম্পদ না থাকায় টাকার বড় একটি অংশ জোগাড় করতে আব্দুল ওয়াদুদ স্থানীয় এনজিও এবং পরিচিতদের কাছ থেকে ঋণ নেন।
আব্দুল ওয়াদুদ এর সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলে জানা যায় যে, সে এখন পর্যন্ত ইতালিতে কোন কাজকর্ম পায় নাই খুবই খারাপ অবস্থায় রহিয়াছে।
“বৈধভাবে বিদেশে গিয়ে পরিবারের হাল ধরার আশা ছিল। দালালের কথায় বিশ্বাস করে সব শেষ হয়ে গেল। এখন ঋণের টাকাই পরিশোধ করতে পারছি না।”
ঘটনার বিষয় আরো জানা যায় যে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ২০২৩ সালে ১৫ লক্ষ টাকার ঋণ নেয় ওই ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পারার কারণে ব্যাংক আদালতে মামলা করে তাদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করেছে এবং পুলিশ আব্দুল ওয়াদুদকে না পেয়ে তাহার মা এবং ভাই বোনকে ঘর ছাড়া নির্দেশ প্রদান করেন এবং এও বলেন যে বাড়িঘর অর্থাৎ থাকার জায়গা টুকু নিলামে বিক্রি করে দিবেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সুমন আহমেদ বলেন, এলাকায় কয়েক বছর ধরে কিছু সিন্ডিকেট বিদেশে পাঠানোর নাম করে মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অনেকেই প্রতারিত হলেও লোকজন লজ্জা ও ভয়ে অভিযোগ করতে চান না।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির বাইরে দালালচক্রের মাধ্যমে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করলে প্রতারণার ঝুঁকি থাকে বেশি। তাই বিদেশগমনে সরকার অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে সকল তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : ইসমাইল হোসেন সৌরভ,
নির্বাহী সম্পাদক:মো:শাহাবুদ্দিন খান
বার্তা প্রধান : মোহাম্মদ শাহ্ কামাল,
কপিরাইট © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত