সোহাগ হাওলাদার,বিশেষ প্রতিনিধি :
নুরুল হক নূর বাংলাদেশের একজন পরিচিত ছাত্রনেতা ও রাজনৈতিক কর্মী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে (ডাকসু) ভিপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই আলোচনায় আসেন। পরবর্তীতে তিনি নতুন রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ গণঅধিকার পরিষদ গঠন করেন এবং সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত আছেন।
তাঁর বিরুদ্ধে সমালোচনা যেমন আছে, তেমনি সমর্থনও আছে। অনেকেই তাকে দুর্নীতিবিরোধী ও গণমানুষের কণ্ঠস্বর বলে মনে করেন, আবার অনেকে তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
তাই বলা যায়—তিনি শুধু স্বাভাবিক জীবন যাপনের জন্য জন্ম নেননি, বরং ছাত্র-রাজনীতি থেকে মূলধারার রাজনীতিতে এসে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করছেন। তবে নুর কতটা সফল বা ব্যর্থ হবেন, তা সময়ই প্রমাণ করবে।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় থেকেই নুরুল হক নূরকে টার্গেট করা শুরু হয়।
৩০ জুন ২০১৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রথমবার হামলার শিকার হন তিনি। ২০১৯ সালে সব থেকে বেশি হামলার শিকার হন নুরুল হক নুর।
২৪ জানুয়ারি ২০১৯ ছাত্রলীগ কর্মীদের হামলায় আহত হন নুর।
১১ মার্চ ২০১৯ ডাকসু নির্বাচনকালীন উত্তেজনার মধ্যে আরেক দফা হামলার মুখে পড়েন এবং ভিপি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পরপরই তার ওপর হামলার সংখ্যা বেড়ে যায়। ১২ মার্চ ২০১৯ টিএসসি এলাকায় হামলা চালানো হয় নুরের ওপর এছাড়া ২ এপ্রিল ২০১৯ সালে এস.এম হলে ছাত্রদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাকে ঘেরাও ও হামলা করা হয়।
২৫ মে ২০১৯ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হামলা হয়।
২৬ মে ২০১৯ বগুড়ায় সভায় যোগ দিতে গিয়ে হামলার শিকার হন।
১৪ আগস্ট ২০১৯ নিজ জেলা পটুয়াখালীতে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তার ওপর হামলা চালায়।
আলোচিত ডাকসু ভবন হামলা: ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ও ছাত্রলীগের একাংশ ডাকসু ভবনে প্রবেশ করে নূরের কক্ষে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং দীর্ঘ সময় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এ হামলার পর দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
২০১৯ সালের পর গণঅধিকার পরিষদের ব্যানারে কর্মসূচি পরিচালনার সময় রাজধানী ও বিভিন্ন জেলায় নূর অন্তত আরও ১৫–২০ বার হামলার শিকার হয়েছেন। এসব হামলায় বহুবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে।
নুরুল হক নূরের ভাষায়, “আমি ভিপি হওয়ার আগে ও পরে মিলিয়ে অন্তত ২৫ বার হামলার শিকার হয়েছি। এর একটিরও বিচার হয়নি। রাজনৈতিকভাবে দমন করার জন্যই এসব হামলা চালানো হয়েছে।” গতকাল ২৯ আগস্ট রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়, এবং আল রাজী টাওয়ারের সামনে অবস্থানরত গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা লাঠিচার্জের শিকার হন ।
তখন সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর এবং অন্যান্য শীর্ষ নেতারা ।
এই সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলায় নুর গুরুতর আহত হন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয় ।
রাত ১১টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয় এবং দ্রুত আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়, সেখানে বর্তমানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে নুরুল হক নুরকে ।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নাক ও চোখের পাশে আঘাত ও অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ দেখা যাচ্ছে, এবং তার অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কাজনক। আগামী ৪৮ ঘণ্টা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম এই হামলাকেই "অত্যন্ত ন্যক্কারজনক" হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ।
এ ঘটনার প্রতিবাদে গণঅধিকার পরিষদ ৩০ আগস্ট, শনিবার সারা দেশে বিক্ষোভ ও মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ।
সার্বিকভাবে দেখা যায়, নুরুল হক নূর বাংলাদেশে ছাত্ররাজনীতি ও জাতীয় রাজনীতিতে সবচেয়ে বেশি হামলার শিকার হওয়া নেতাদের একজন। তবে বারবার হামলার মুখে পড়েও তিনি তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : ইসমাইল হোসেন সৌরভ,
নির্বাহী সম্পাদক:মো:শাহাবুদ্দিন খান
বার্তা প্রধান : মোহাম্মদ শাহ্ কামাল,
কপিরাইট © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত