শরিফা বেগম শিউলী,স্টাফ রিপোর্টার
রংপুর নগরীতে পারিবারিক বিরোধ নিরসনের জন্য ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের বাসার অফিসে বৈঠক চলাকালে শালিসি সিদ্ধান্ত অমান্য করে কাউন্সিলরের অফিসে জাহাঙ্গীর আলম ভুট্টুগং সেলিনা পারভীন, সাহানাজ পারভিন ও তার মা জাহানারা বেগমকে পরিকল্পিতভাবে এলোপাথাড়ি কিল ঘুসি ও গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করেন।
এ ঘটনায় মোঃ জাহাঙ্গীর আলম ভুট্টু (৫০), পিতা-মৃত আবুল কালাম, মোঃ আবু জাফর (৫৪), পিতা-মৃত আব্দুল কুদ্দুছ, মোঃ সাদ্দাম হোসেন মানিক (২৪), পিতা-মোফাজ্জল হোসেন খোকা, মোঃ ইমরান হোসেন মিলন (৩২), পিতা-আবুল খায়ের, মোঃ রফিকুল ইসলাম (৪৭), পিতা-মৃত আঃ কুদ্দুছ, মোঃ মারুফ হোসেন (১৯), পিতা-আবু জাফর, মোঃ আবুল বাসার (৩৯), পিতা-মৃত আঃ কুদ্দুছ, মোঃ জুয়েল রানা (২২), পিতা-আবু বক্কর সিদ্দিক, এনাদেরকে আসামি করে মেট্রোপলিটন হারাগাছ থানায় একটি মামলা রুজু হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায় গত (২১ শুক্রবার ২৫) সন্ধ্যার দিকে কাউন্সিলরের বাহার কাছনা তেলিটারীস্থ বাসায় অফিসে এ ধরনের ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী সেলিনা পারভীন বলেন, অনেকদিন আগে আমার মা জমি কিনে আমার ভাই জাহাঙ্গীর আলম ভুট্টুু নামে দলিল করে। ভাই নেশা করে ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়ায় জমিটি বিক্রি করবে বলে পায়তারা করে। সেই জমি আমার মা আবার টাকা দিয়ে মায়ের নামে দলিল করে নেয়। পরে মায়ের টাকার প্রয়োজন হলে আমার কাছে বিক্রি করে।
হঠাৎ এক বছর আগে ৩৬ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ভুট্টু আবার বাহার কাচান রামগোবিন্দ এসে জমি দাবি করে। সে বলে হয় জমি দাও নাহলে টাকা দাও। সেক্ষেত্রে মা বলে এখানে তোর কোন জমি নাই। তারপর থেকে আমার বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম ভুট্টুসহ অন্যান্য আসামিরা আমাকে, আমার মা বোনকে প্রায় প্রতিদিনেই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। একই সঙ্গে ইট পাথর দিয়ে বাসায় ঢেলাঢেলি করে আসছে।
সেলিনা পারভীন আরো বলেন, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে জাহাঙ্গীর আলম ভুট্টুসহ আসামীরা সাবেক কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম দেওয়ানীর বাসার অফিসে আসামিদের সাথে পারিবারিক বিরোধ নিরসনের জন্য শালিসি সিদ্ধান্ত না মেনে অতর্কিতভাবে সাবেক কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম দেওয়ানির সামনে জাহাঙ্গীর আলম ভুট্টুর হুকুমে আমার ছোট মামা আমার মায়ের বাম কানে সজোরে থাপর মারলে সঙ্গে সঙ্গে মা মাটিতে লুটে পড়ে। আমার মাকে ধরতে গেলে আমার ছোট বোন শাহনাজ পারভীনকে মাটিতে ফেলে আবু জাফর, ইমরান হোসেন মিলন, রফিকুল ইসলাম,আবুল বাশার, আবুল খায়ের চড়, থাপ্পড়, ঘুসি ও লাথি মারতে থাকে।
একই সঙ্গে আমাকে কাউন্সিলর এর বৈঠক খানার ঘর থেকে বাহিরের দিকে টেনে হেঁচড়ে রাস্তা দিয়ে ছ্যাঁচড়ায় ২০০ গজ সামনে নিয়ে গিয়ে রাস্তার উপর একজন গালে ব্লেড মারে, আরেকজন গলাচিপে ধরে ও ওড়না দিয়ে গলায় শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার চেষ্টা করে। অন্যান্য আসামিরা এলোপাথাড়ি চড়, ঘুসি ও লাথি মারতে থাকে। পূর্ব পরিকল্পিত আক্রমণ করে সাদ্দাম হোসেন মানিক, মারুফ হোসেন, জুয়েল রানা, আকাশ মিয়া।
এ সময় উপস্থিত শালিসি বৈঠকের লোকজন ও স্থানীয়রা আহত অবস্থায় আমাকে ও আমার মা জাহানারা বেগমকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পাঠিয়ে দেয়। সেখানেই আমরা চিকিৎসাধীন থাকার পরে সুস্থ হয়ে বাসায় আসি।
এই মামলার হুকুমদাতা জাহাঙ্গীর আলম ভুট্টু তার সম্পত্তি বিক্রি করে কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলায় দ্বিতীয় বিয়া করে। সেখানে তিনি সক্রিয়ভাবে আওয়ামী লীগের সংগঠন করতো কিন্তু ৩৬নজুলাইয়ের পর তার নামে রাজনৈতিক মামলা হওয়ায় রংপুরের বাহার কাছনা রামগোবিন্দ এলাকায় এসে গা ঢাকা দিয়ে থাকে। এখানে নেশার টাকা জোগাড় করতে পারছে না সেজন্য এজাহারভুক্ত আসামি মোঃ আবুল খায়েরসহ বাকি আসামিদের সঙ্গে আতাত করে মা বোনদের উপর অমানবিক অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। আবুল খায়ের রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ৯ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি দায়িত্ব পালন করছিলেন।
এ বিষয়ে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম দেওয়ানি কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেলিনারা খুব ভালো ও ভদ্র মেয়ে। আমার সামনেই এধরনের ঘটনা ঘটাবে আমি কখনোই ভাবতে পারিনি। জাহাঙ্গীর আলম ভুট্টুসহ বাকিরা যে কাজটা করেছে। অবশ্যই খুব খারাপ কাজ করেছে। খুব অন্যায় করেছে। অন্যায়কারি যেই হোক তার শাস্তি হওয়া উচিত।
এদিকে রংপুর মেট্রোপলিটন হারাগাছ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আজাদ রহমান জানান, এ বিষয়ে মামলা হয়েছে। আসামি ধরার প্রক্রিয়া চলমান।
সম্পাদক ও প্রকাশক : ইসমাইল হোসেন সৌরভ,
নির্বাহী সম্পাদক:মো:শাহাবুদ্দিন খান
বার্তা প্রধান : মোহাম্মদ শাহ্ কামাল,
কপিরাইট © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত