সোহাগ হাওলাদার :
দেশজুড়ে মাদকের বিস্তার এখন সামাজিক উদ্বেগের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক সময় মাদকাসক্তি মূলত পুরুষদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল বলে ধারণা করা হতো। কিন্তু সময়ের সাথে সেই চিত্র পাল্টে এখন নেশার করাল গ্রাসে জড়িয়ে পড়ছেন নারীরাও। শিক্ষার্থী, কর্মজীবী নারী, এমনকি গৃহিণীদের মধ্যেও বাড়ছে আসক্তির প্রবণতা। এটি শুধু আইনশৃঙ্খা পরিপন্থী নয় বরং একটি সামাজিক ব্যাধি ও মানসিক সংকট।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান না থাকার কারণে জুলাই বিপ্লবের পর থেকে বিভিন্ন এলাকায় মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতা উদ্বেগজনক। ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন নেশাজাত দ্রব্য এখন অনেক ক্ষেত্রেই হাতের নাগালে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে গোপন আড্ডা, অনলাইন যোগাযোগ ও বন্ধুমহলের প্রভাবে তরুণ-তরুণীরা দ্রুত আসক্তির দিকে ঝুঁকছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (ট্রেন্ড বা লাইফস্টাইল) হিসেবে মাদককে উপস্থাপন করাও একটি বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যে কারনে বাড়ছে নারী আসক্তি!
বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীদের মধ্যে মাদকাসক্তি বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ। পারিবারিক অস্থিরতা, দাম্পত্য কলহ, মানসিক চাপ, হতাশা, সম্পর্ক ভাঙন কিংবা কর্মক্ষেত্রের চাপ। এসব থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই ভুল পথে পা বাড়াচ্ছেন। আবার কিছু ক্ষেত্রে কৌতূহল, বন্ধুমহলের প্ররোচনা বা সঙ্গীর প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সমাজের চোখে লজ্জা বা সম্মানহানির ভয় থাকায় অনেক নারী তাদের আসক্তির বিষয়টি গোপন রাখেন, ফলে চিকিৎসা বা পুনর্বাসনের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হন। এতে সমস্যা আরও গভীর হয়।
যার ফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে পরিবার ও সমাজে, মাদকাসক্তি শুধু একজন ব্যক্তির ক্ষতি করে না, এটি পুরো পরিবার ও সমাজকে বিপর্যস্ত করে তোলে। আর্থিক সংকট, পারিবারিক সহিংসতা, সন্তানদের অবহেলা, অপরাধ প্রবণতা,সবকিছুর সঙ্গে মাদকের যোগসূত্র ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। নতুন সরকার গঠনের পরে মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি, নিয়মিত অভিযান, সচেতনতামূলক কর্মসূচি চলমান রয়েছে। তবে মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসন প্রতিরোধ করতে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন পরিবারভিত্তিক সচেতনতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাউন্সেলিং এবং সমাজে মাদকবিরোধী শক্তিশালী জনমত গড়ে তোলা।
দেশজুড়ে মাদকের এই আগ্রাসন রোধে প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র একসঙ্গে কাজ করলে তবেই নেশার এই অন্ধকার ছায়া থেকে মুক্তি সম্ভব। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : ইসমাইল হোসেন সৌরভ,
নির্বাহী সম্পাদক:মো:শাহাবুদ্দিন খান
বার্তা প্রধান : মোহাম্মদ শাহ্ কামাল,
কপিরাইট © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত