নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকা বন বিভাগের শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মোখলেসুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, বন উজাড়, অবৈধ করাতকল থেকে উৎকোচ গ্রহণ এবং বাগান সৃজনে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও বন অধিদপ্তরের পৃথক প্রতিবেদনে এসব অনিয়মের চিত্র উঠে এলেও দীর্ঘ সময় পার হলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বন আইনের বিধান অনুযায়ী বন এলাকার ১০ কিলোমিটারের মধ্যে করাতকল স্থাপনের অনুমতি না থাকলেও শ্রীপুর রেঞ্জ এলাকায় অন্তত ২১টি করাতকল অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, রেঞ্জ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তাদের যোগসাজশেই এসব করাতকল দীর্ঘদিন ধরে নির্বিঘ্নে চলছে।
দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজীপুর জেলার সাতখামাইর বিট এলাকায় পরিচালিত করাতকলগুলো থেকে মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা করে উৎকোচ নেওয়া হয়। বিনিময়ে করাতকল পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। গাজীপুর দুদকের উপপরিচালক মোজাহার আলী সরদার স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে রেঞ্জ কর্মকর্তা মোখলেসুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
তবে প্রতিবেদনের সুপারিশের প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এতে প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে।
অন্যদিকে, বন অধিদপ্তরের পরীক্ষণ ও মূল্যায়ন ইউনিটের ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে বাগান সৃজন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। ২০২০-২০২১ ও ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে শ্রীপুর রেঞ্জে মোট ২৪টি বাগান সৃজন করা হলেও এর মধ্যে ২২টিই ব্যর্থ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বাকি দুটি বাগানের জার্নাল এবং অধিকাংশ চুক্তিনামাও পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, অনেক বাগানে সাইনবোর্ড নেই, প্রয়োজনীয় সংখ্যক গাছ বা চারা রোপণ করা হয়নি। অথচ এসব প্রকল্পের জন্য প্রায় ১ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। অভিযোগ রয়েছে, যথাযথ কাজ সম্পন্ন না করেই অধিকাংশ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এদিকে, স্থানীয় সূত্র দাবি করছে, গত তিন বছরে কয়েক কোটি টাকার বনভূমি দখল এবং হাজার হাজার গাছ নিধনের ঘটনা ঘটেছে, যা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগ অস্বীকার:
এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মোখলেসুর রহমান। তিনি বলেন, “আমি যোগদানের পরপরই তদন্ত শুরু হয়। বর্তমানে অবৈধ করাতকল উচ্ছেদে অভিযান চলছে এবং ইতোমধ্যে একাধিক মামলা করা হয়েছে।”
বাগান সৃজন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, “যেসব বাগানে গাছ কম ছিল, সেখানে পুনরায় গাছ লাগানো হয়েছে।”
উৎকোচ গ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, “সারা দেশেই করাতকল রয়েছে। এটি এক দিনে তৈরি হয়নি। আমি কোনো ধরনের সুবিধা গ্রহণ করিনি।”
তিনি আরও দাবি করেন, বনভূমি উদ্ধারে কাজ করতে গিয়ে তিনি হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন।
তবে দীর্ঘ সময়েও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে—কোন প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় রয়েছেন এই কর্মকর্তা? দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।
সম্পাদক ও প্রকাশক : ইসমাইল হোসেন সৌরভ,
নির্বাহী সম্পাদক:মো:শাহাবুদ্দিন খান
বার্তা প্রধান : মোহাম্মদ শাহ্ কামাল,
কপিরাইট © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত