নওগাঁ প্রতিনিধি:
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় প্রতিপক্ষের লাথিতে একটি দুগ্ধদানকারী মা ছাগল মারা যাওয়ার অভিযোগে বিচার চেয়ে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন এক গৃহবধূ। রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে মৃত ছাগলটি ভ্যানে করে সরাসরি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে নিয়ে হাজির হন ভুক্তভোগী ফাতেমা বেগম।
ঘটনাটি উপজেলার বিলাশবাড়ী ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে ঘটে। অভিযুক্ত আব্দুর রশীদ একই গ্রামের বাসিন্দা এবং বদলগাছী উপজেলা পরিষদে অফিস সহায়ক পদে কর্মরত।
ভুক্তভোগী ফাতেমা বেগম অভিযোগ করে জানান, গত শনিবার তাঁর একটি পোষা ছাগল প্রতিবেশী আব্দুর রশীদের জমিতে ঢুকে পড়লে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ছাগলটির পেটে সজোরে লাথি মারেন। এতে ছাগলটি গুরুতর আহত হয় এবং পরে মারা যায়। তিনি আরও জানান, মাত্র দুই দিন আগে ছাগলটি দুটি বাচ্চা প্রসব করেছিল।
ফাতেমা বেগম বলেন, “আমার ছাগলটিকে অন্যায়ভাবে মেরে ফেলা হয়েছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।” এ ঘটনায় তিনি থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন।
তবে অভিযুক্ত আব্দুর রশীদ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, “আমি ছাগলটিকে লাথি মারিনি। বাচ্চা প্রসবের পর শারীরিক জটিলতায় সেটি মারা গেছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে এবং বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। অন্যদিকে, গ্রাম্য চিকিৎসক রেজাউল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখেন ছাগলটির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল এবং তাপমাত্রা অনেক কমে যাওয়ায় চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়নি।
বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান জানান, বিষয়টি তাঁর জানা রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনির সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
মৃত ছাগল নিয়ে ইউএনও কার্যালয়ে গৃহবধূর হাজির হওয়ার ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : ইসমাইল হোসেন সৌরভ,
নির্বাহী সম্পাদক:মো:শাহাবুদ্দিন খান
বার্তা প্রধান : মোহাম্মদ শাহ্ কামাল,
কপিরাইট © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত