বিনোদন ডেক্স:
সোহাগি এক নারী ধীরে ধীরে নিজেকে সাজায়—কাউকে দেখানোর জন্য না, বরং কারো কাছে নিজেকে নিবেদন করার এক নীরব ইচ্ছা থেকে। একান্ত পুরুষের এনে দেওয়া লাল শাড়িটা পরতে গিয়ে তার মনে এক অদ্ভুত কম্পন জেগে ওঠে। শাড়ির প্রতিটা ভাঁজ যেন আলাদা করে কথা বলে—মায়া, ভালোবাসা আর অদৃশ্য এক টানের গল্প।
হাতে লাল চুড়ি পরার সময় তার আঙুলগুলো একটু থমকে যায়, যেন প্রতিটা শব্দ, প্রতিটা ঝংকারে সেই মানুষের উপস্থিতি খুঁজে পায়। পায়ে আলতার নরম ছোঁয়া, খোপায় গুঁজে দেওয়া ফুল—সবকিছু মিলিয়ে সে যেন নিজের ভেতরের সৌন্দর্যটাকে ধীরে ধীরে ফুটিয়ে তোলে। সিঁথিতে সিঁদুরের লাল রেখা টেনে নেওয়ার সময় তার চোখে এক ধরনের নীরব শান্তি ভেসে ওঠে—যেন এই সাজ শুধু বাহ্যিক না, বরং গভীর এক অনুভূতির প্রকাশ।
সব প্রস্তুতি শেষে সে ধীরে ধীরে গিয়ে দাঁড়ায় তার একান্ত মানুষের সামনে। চারপাশে কোনো শব্দ নেই, তবুও মুহূর্তটা ভরে থাকে অদ্ভুত এক উষ্ণতায়। তার চোখে লাজুক মায়া, ঠোঁটে অল্প এক হাসি—যেখানে অনেক না বলা কথা লুকিয়ে থাকে।
তারপর খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে, হালকা স্বরে বলে—
“সেফটিপিনটা লাগিয়ে দিবে?”
এই ছোট্ট কথাটার ভেতরেই যেন লুকিয়ে থাকে গভীর এক ঘনিষ্ঠতা। এটা শুধু একটা অনুরোধ না—এটা কাছে আসার এক নীরব আহ্বান, একটা বিশ্বাসের স্পর্শ। সেই মুহূর্তে দুজনের দূরত্বটুকু মিলিয়ে যায় খুব সহজে, খুব স্বাভাবিকভাবে।
এভাবেই শুরু হয় সোহাগ—বড় কোনো আয়োজন দিয়ে না, বরং ছোট ছোট স্পর্শ, নরম ইশারা আর আন্তরিক উপস্থিতির ভেতর দিয়ে। যেখানে ভালোবাসা শব্দে প্রকাশ পায় না, কিন্তু অনুভবে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
সোহাগের নারী আর তার একান্ত পুরুষ—দুজনেই তখন একে অপরের ভেতরে জায়গা করে নেয়, নিঃশব্দে, কিন্তু গভীরভাবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : ইসমাইল হোসেন সৌরভ,
নির্বাহী সম্পাদক:মো:শাহাবুদ্দিন খান
বার্তা প্রধান : মোহাম্মদ শাহ্ কামাল,
কপিরাইট © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত