সোহাগ হাওলাদার:
দেশজুড়ে অনলাইন জুয়া ও মাদকের বিস্তার বর্তমানে এক গভীর সামাজিক সংকটে রূপ নিয়েছে। প্রযুক্তির সহজলভ্যতা, স্মার্টফোনের ব্যাপক ব্যবহার এবং ইন্টারনেটের প্রসারের সুযোগে অনলাইন জুয়ার বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণদের একটি বড় অংশ খুব সহজেই এই ভার্চুয়াল ফাঁদে জড়িয়ে পড়ছে, যা তাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং সামাজিক জীবনে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
অনলাইন জুয়া শুরুতে বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা হলেও, অল্প সময়ের মধ্যেই তা আসক্তিতে রূপ নেয়। এক পর্যায়ে ব্যবহারকারীরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন, পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দিকেও ঝুঁকে পড়েন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জুয়ার চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে জুয়া খেলায় আসক্ত করা হচ্ছে তরুণদের। এ আই প্রযুক্তি ব্যবহার করে অশ্লীল ভিডিও তৈরি ও অসামাজিক অঙ্গভঙ্গিতে কিশোর থেকে তরুণ যুবসমাজ আকৃষ্ট হয়ে পড়ছে। নামে বেনামে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষের আইওয়াস করছে এসব অবৈধ অনলাইন প্লাটফর্মগুলো। বিভিন্ন সেলিব্রিটিদের ছবি দিয়ে এ আই ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে ভুয়া অনলাইন বিজ্ঞাপন। এর পাশাপাশি, মাদকের ভয়াবহ বিস্তার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা থেকে শুরু করে নগরীর অলিগলি পর্যন্ত মাদকদ্রব্যের সহজ প্রাপ্যতা সমাজের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তরুণ সমাজের একটি অংশ মাদকের করাল গ্রাসে আটকা পড়ে তাদের স্বাভাবিক জীবন থেকে বিচ্যুত হচ্ছে, যা জাতির ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন জুয়া ও মাদক একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। অনেক ক্ষেত্রে জুয়ার আসক্তি থেকে সৃষ্ট মানসিক চাপ ও হতাশা মানুষকে মাদকের দিকে ঠেলে দেয়। আবার মাদক গ্রহণের অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে অনেকে জুয়ার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ফলে একটি ভয়ংকর চক্র তৈরি হচ্ছে, যা থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বৃদ্ধি, অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্মগুলো নিয়ন্ত্রণ, মাদক পাচার রোধে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা সময়ের দাবি।
একইসঙ্গে, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা জোরদার এবং তরুণদের জন্য ইতিবাচক বিকল্প কার্যক্রম ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এখনই যদি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ না করা হয়, তবে অনলাইন জুয়া ও মাদকের এই ভয়াবহ তাণ্ডব দেশের সামাজিক স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। তাই সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলা করা অপরিহার্য। ইতিমধ্যে বর্তমান সরকারের পক্ষথেকে অনলাইন জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে। অনলাইন জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও তৎপর রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : ইসমাইল হোসেন সৌরভ,
নির্বাহী সম্পাদক:মো:শাহাবুদ্দিন খান
বার্তা প্রধান : মোহাম্মদ শাহ্ কামাল,
কপিরাইট © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত