এম জাফরান হারুন:
পটুয়াখালী সদর উপজেলায় জমি দখল, গাছ কাটা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার পটুয়াখালী সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের মিঠাপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল লতিফ হাওলাদারের মালিকানাধীন প্রায় ৪৫ শতাংশ জমিতে অবৈধভাবে একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ভেরীবাধের রাস্তার কাজে প্রবেশ করে গাছ কেটে ফেলে এবং মাটি কেটে ভেরীবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, তারা জেলা শহরে বসবাস করার সুযোগে এই কাজ করা হয়েছে।
এবিষয়ে আব্দুল লতিফ হাওলাদারের ছেলে মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গত ৫ মে রাতের বেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ কয়েকজন কর্মকর্তা লোকজন নিয়ে আমাদের জমিতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে। তারা মাটি কেটে রাস্তা তৈরি করে এবং আমাদের রোপণ করা গাছ কেটে ফেলে। এতে আমাদের প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে আমাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
স্থানীয় কয়েকজন গ্রামবাসী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রাতের সময় মেশিন নিয়ে এসে জমিতে কাজ করা হয়েছে। আমরা গাছ কাটতেও দেখেছি। তবে লতিফ হাওলাদারের জমিতে ভেরীবাধ তৈরি করবে ভালো কথা, সেটা তাদের অনুমতি নিয়ে করা উচিত ছিল। তিন থেকে সারে তিন বছরের একটা গাছের বাগান ভেকু মেশিন দিয়ে সব শেষ করে দিল। বিষয়টি তদন্ত করে সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
আরেক গ্রামবাসী বলেন, জমির মালিক না থাকায় এই সুযোগ নেওয়া হয়েছে বলে আমরা মনে করি। প্রশাসনের উচিত দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করা।
ভুক্তভূগী আব্দুল লতিফ হাওলাদার বলেন, আমার জমিতে ভেরীবাঁধ নির্মাণ কিংবা মাটি কাটার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো ধরনের অনুমতি নেয়নি। এতে আমার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতো বড় ক্ষতি মেনে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমি এর সঠিক বিচার চাই।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ড, পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাকিব বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। প্রকল্পের কাজ কোথায় এবং কীভাবে হয়েছে তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে। যদি কোনো অনিয়ম বা ব্যক্তিগত জমিতে কাজ করার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় পটুয়াখালী সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট থানা কর্তৃপক্ষ। অভিযোগের পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
সম্পাদক ও প্রকাশক : ইসমাইল হোসেন সৌরভ,
নির্বাহী সম্পাদক:মো:শাহাবুদ্দিন খান
বার্তা প্রধান : মোহাম্মদ শাহ্ কামাল,
কপিরাইট © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত