মোঃ রাকিবুল ইসলাম রাসেল, বরগুনা জেলা প্রতিনিধি :
বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলো থেকে এক নারী ও তার দুই শিশুকন্যার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৩ জুন) বিকেলে বরগুনা জেলা পরিষোদের ডাকবাংলোর তৃতীয় তলার দুটি কক্ষ থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক, চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহতরা হলেন বরগুনা শহরের কালীবাড়ি এলাকার বাসিন্দা স্মৃতি রানী (৩০), তার দুই কন্যা আরাধ্যা (১২) ও অনুরাধা (৬)। স্মৃতি রানী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় খণ্ডকালীন পরিচ্ছন্নতাকর্মী (ঝাড়ুদার) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে ডাকবাংলোর পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দীর্ঘ সময় ধরে স্মৃতি রানী ও তার সন্তানদের কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে সন্দেহ করেন। পরে তারা পাশাপাশি দুটি কক্ষে মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে বরগুনা সদর থানা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ জানায়, ডাকবাংলোর ৩ নম্বর কক্ষের একটি বিছানা থেকে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অপরদিকে পাশের ৪ নম্বর কক্ষের দরজা ভেঙে স্মৃতি রানী ও তার আরেক কন্যার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী ও উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। স্বজনদের আহাজারিতে পুরো পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা, বরগুনার পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খোদা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মোহাম্মদ ইব্রাহিমসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ সময় জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি ইয়াকুব হোসাইন এবং প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, স্মৃতি রানী দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে ভুগছিলেন এবং বিভিন্ন ঋণের চাপে ছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঋণজনিত মানসিক চাপের কারণে তিনি চরম কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন। তবে পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল আলীম জানান, ঘটনাটির রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, উদ্ধারকৃত মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। আত্মহত্যা, হত্যাকাণ্ড কিংবা অন্য কোনো সম্ভাবনা- কোনোটিই আপাতত উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।এদিকে এমন মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতদের স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মা ও দুই শিশুকন্যার একসঙ্গে মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো এলাকার মানুষের হৃদয়কে নাড়িয়ে দিয়েছে। কীভাবে এমন করুণ পরিণতি ঘটল, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে সবাই।পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তবে ঘটনাটির প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখে প্রকৃত সত্য উদঘাটনে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : ইসমাইল হোসেন সৌরভ,
নির্বাহী সম্পাদক:মো:শাহাবুদ্দিন খান
বার্তা প্রধান : মোহাম্মদ শাহ্ কামাল,
কপিরাইট © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত