ইত্তেজা হাসান :
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বাংলাদেশ কংগ্রেস সমর্থিত মেয়র প্রার্থী শামীম আহমদ বিএনপি চেয়ারপার্সন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সমর্থন চেয়েছেন। আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ঢাকা উত্তরে বিএনপির কোন প্রার্থী না দিয়ে তাকে আনুষ্ঠানিক সমর্থনের আহ্বান জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ কংগ্রেস নেতা শামীম আহমদ আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কংগ্রেস সমর্থিত মেয়র প্রার্থী হবেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা ১৭ আসনে বাংলাদেশ কংগ্রেসের মনোনয়ন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন। সেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে শামীম আহমদ একই আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানকে সমর্থন দিয়েছিলেন। এখন আসন্ন মেয়র নির্বাচনে শামীম আহমদ বিএনপি চেয়ারপার্সন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আনুষ্ঠানিক সমর্থন চেয়েছেন।
তিনি বলেছেন- "আমি জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে আমার আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তারেক রহমানকে (বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে) আনুষ্ঠানিক সমর্থন দিয়েছিলাম। আমার সমর্থনে তার বিজয়ী হওয়ার পথ মসৃণ হয়েছে। তাই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী না দিয়ে আমাকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন দেয়ার ব্যাপারে তারেক রহমানের বিবেচনাবোধের উদয় হবে"। তিনি বলেন, ভোটের আগের দিন আমার সমর্থনের খবর গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পরায় বিএনপির প্রতীক "ধানের শীষে" ভোট বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বিএনপির সরকার গঠনের পথ দৃঢ় হয়েছে। সেই সহায়তার কথা মনে করিয়ে দিয়ে আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তারেক রহমানের সমর্থন চেয়ে এই প্রার্থী বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর এবং বিএনপির সকল ভোটারদের সমর্থন আমার প্রাপ্য।
গত ২৪ এপ্রিল শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ কংগ্রেসের চতুর্থ কাউন্সিলে দলটির প্রতিষ্ঠা ও নবনির্বাচিত সভাপতি এ্যডভোকেট কাজী রেজাউল হোসেন বলেছেন তার দল শামীম আহমদকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে সমর্থন করে। শামীম আহমদ দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম তথ্য প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়াও তাকে ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক করা হয়েছে।
"নবরূপে ঢাকা" গড়তে শামীম আহমদ কিছু পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেছেন, ঢাকা উত্তর সিটি অঞ্চলের নাগরিকদের বাসযোগ্য শহরে রূপায়ণ করে ঢাকা নবরূপে সাজিয়ে দেয়া আমার নির্বাচনী অঙ্গীকার। "নবরূপে ঢাকা" বলতে মূলত ঢাকার আধুনিকায়ন, ঐতিহাসিক স্থাপনার সংস্কার এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নকে বোঝানো নয়। বরং সিটি করপোরেশনের আওতায় বসবাসরত সকল নাগরিকদের স্বাস্থ্যকর পরিবেশে নির্বিঘ্ন জীবনযাপন নিশ্চিত করা তার অন্যতম লক্ষ। নগরীর সড়ক উন্নয়ন, পার্ক-খেলার মাঠ সংস্কার এবং সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে বাসযোগ্য ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে চান তিনি। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে মায়েরা নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে ভ্রমণ করতে পারে এমন ১০০টি পার্ক ও মাঠ সৃজন করার পরিকল্পনা তার আছে। ব্যানার পোস্টার বিলবোর্ডের মাধ্যমে প্রচারণার পাশাপাশি ওয়ার্ড পর্যায়ে জনসংযোগ করে ইতোমধ্যেই তিনি ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনী ভবিষ্যৎ রূপরেখা প্রণয়নের কাজ করছে।
পরিচ্ছন্ন সড়ক: পথচারীদের চলাচলে পরিচ্ছন্ন ও নির্মল ফুটপাত নিশ্চিত করার পাশাপাশি ফুল ও ফলের গাছগাছালী বেষ্টিত সড়ক বিনির্মাণ। ফুটপাত দখলদার চাঁদাবাজদের স্থায়ীভাবে নির্মুল করতে প্রয়োজনে জনশক্তি প্রয়োগ করা হবে।
পরিবহন সেবা: ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা ও মিশুক মহানগরীর সর্বত্র চলাচল করবে। মহানগরীর জন্য নারীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ৩০ শতাংশ ও সকলের জন্য ৭০ শতাংশ মেট্রো পরিবহন থাকবে। ঢাকা মহানগরীর কোথাও দূরপাল্লার বাস প্রবেশ করতে পারবে না। রাত ১টার পূর্বে মহানগরীর কোথাও ট্রাক লরি প্রবেশ করতে পারবে না।
পাখির কূজন: শহরে পাখিদের কলরব ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। অথচ পাখিদের এই কলরব প্রকৃতির ভারসাম্য ও সৌন্দর্যের প্রতীক। ভোর ও সন্ধ্যায় পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ প্রাকৃতিক সংগীত। যা প্রকৃতিকে মুখরিত ও শান্ত করে তোলে। ঋতুভেদে কোকিলের কুহুতান বা ভোরের দোয়েল-শ্যামার ডাক মানুষের মন ভালো করে দেয় এবং প্রকৃতির জীবন্ত রূপ তুলে ধরে। শিশুরা পার্ক বা উদ্যানে গিয়ে পাখি দেখবে বা পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ শুনতে পাবে সেই পদক্ষেপ নেয়া হবে।
খাল পুনরুদ্ধার : শহরে বুক চিরে খাল খননের মাধ্যমে উত্তর ও দক্ষিণ সিটি বিভাজন করতে একটি সীমানা খাল খনন করা হবে। উত্তর সিটির আওতায় সকল খাল পুনরুদ্ধার করে জলস্রোত দৃশ্যমান করা হবে। মাঝিমাল্লাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য জলপথ বা নৌপথ চালু করা হবে। খাল পুনরুদ্ধার করতে যেকোন প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করতে জনগণকে সাথে নিয়ে এই কাজটি শুরু করা হবে নির্বাচিত হওয়ার পরের দিন থেকেই। খাল- জলাশয় দখলমুক্ত করে ঢাকার জীববৈচিত্রে নবরূপ ফিরিয়ে আনা হবে।
অবকাঠামো সুবিধা: যানজটমুক্ত সড়ক ব্যবস্থা, সড়কের দু'পাশে পাশে হাঁটার পথ (walkable paths) এবং সুলভ গণপরিবহন ব্যবস্থা। ফ্লাইওভার, মেট্রোরেল এবং সড়কে জনগণের যাতায়াত ব্যবস্থা নিরাপদ করা।
সৌন্দর্যবর্ধন: খেলার মাঠ, উদ্যান, এবং সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বৃদ্ধি করা হবে। শহরের বিভিন্ন স্থানে ভাস্কর্য স্থাপন, দেয়ালচিত্র, এবং পার্ক বা খেলার মাঠের আধুনিকায়ন। উত্তর সিটি করপোরেশন অঞ্চলে মোট ১০০টি খেলার মাঠ সৃজন করা হবে।
পরিবেশ ও উন্নয়ন: সরকারি সকল অব্যবহৃত ফাঁকা জায়গা উদ্যানে রূপান্তরিত করে বৃক্ষরোপণ করা হবে। এসকল উদ্যান নারী ও শিশুদের ভ্রমণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। এছাড়াও নগরীর যানজট ও দূষণ কমাতে নানামুখী দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা।
কোরবানির হাট বন্ধ: শহরের অভ্যন্তরে কোন পশু ক্রয়বিক্রয় হাট বসবে না। হাটের জন্য কোন মাঠ বা স্থান সিটি করপোরেশন বরাদ্দ দেবে না। কোরবানির পশু দালাল মুক্ত ক্রয়বিক্রয়ের লক্ষে অনলাইনে পরিকল্পিত একটি প্লাটফর্ম সৃজন করা হবে। পশু কুরবানির জন্য প্রত্যেক মহল্লায় মহল্লায় স্থান নির্ধারণ করে দেবে সিটি করপোরেশন। সর্বস্তরে প্রয়োজনীয় পরিচ্ছন্ন কর্মী প্রস্তুত রাখা হবে।
বর্জ্য ক্রয়: বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংক্রান্ত কোন বিল নেয়া হবে না। সড়কের প্রতিদিনের বর্জ্য নিয়মিত সংগ্রহ করা এবং তা সঠিকভাবে অপসারণ বা পুনর্ব্যবহার (Recycle) করা। যত্রতত্র ময়লা ফেলার পরিবর্তে নির্দিষ্ট ডাস্টবিন ও ময়লা ফেলার জায়গা (Landfill) রাখা হবে। বর্তমানে বাসা-বাড়ি থেকে প্রতি মাসে ১শ থেকে ৫শ টাকা পর্যন্ত ময়লার বিল নেয়া হয়ে থাকে। আমি মেয়র নির্বাচিত হলে ময়লা (বর্জ্য) কিনে নিব। ভাড়াটিয়ারা ময়লা দিলে প্রতি ভাড়াটিয়ার মোবাইল নাম্বারে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ১শ টাকা বিকাশের মাধ্যমে পৌঁছে দিব। ময়লা বা বর্জ্য সম্পদ, এগুলো দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।
পরিচ্ছন্ন পাবলিক স্পেস: সড়কে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর হয়ে, রাস্তা, ফুটপাত, পার্ক এবং বাজার এলাকা সবসময় আবর্জনামুক্ত রাখা। ড্রেনেজ বা নর্দমাগুলো পরিষ্কার রাখা, শহরে জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ করা।
দূষণমুক্ত বাতাস ও পরিবেশ: শিল্পকারখানার ধোঁয়া ও গাড়ির ধোঁয়া নিয়ন্ত্রিত রাখা, বায়ুদূষণ রোধে পর্যাপ্ত সবুজায়ন বা গাছপালা লাগানো। যত্রতত্র কলকারখানা স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব মোকাবিলা করতে স্থানীয় জনশক্তি প্রয়োগ করা হবে।
সচেতন নাগরিক সমাজ: শহরের বাসিন্দাদের ময়লা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার বিষয়ে সচেতন করা এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সচেষ্ট হতে উদ্বুদ্ধকরণ। এ ব্যাপারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সচেতন করতে শিক্ষকদের উদ্বুদ্ধ করা হবে।
স্বাস্থ্যকর পরিবেশ: মশা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ফগিং (ধোঁয়া) ও লার্ভিসাইডিং (ওষুধ ছিটানো) কার্যক্রম। এলাকাভিত্তিক মশার হটস্পট চিহ্নিত করে ড্রেন ও জলাশয়ে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করে জীবাণুমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে জীবনযাপন এবং মশারী বিহীন রাত্রিযাপন নিশ্চিত করা।
বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ: শহরের বাসিন্দাদের জন্য শতভাগ বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। পানির জন্য বাড়িওয়ালারা ভাড়াটিয়ার নিকট থেকে আলাদা বিল নিতে পারবে না।
প্লাস্টিক ও বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ: প্লাস্টিক ও অন্যান্য কঠিন বর্জ্যের ব্যবহার কমিয়ে আনা বা সেগুলোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা করা। প্লাস্টিক ও বর্জ্য নিয়মিত পরিষ্কার করাতে আধুনিক প্রযুক্তি ও সরঞ্জামের ব্যবহার করে দ্রুত ও দক্ষতার সাথে শহর পরিষ্কার রাখা।
মৌলিক চাহিদা পূরণ: শিক্ষা চিকিৎসা সহজলভ্যতার পাশাপাশি সাশ্রয়ী ও মানসম্মত আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। এব্যাপারে বিল্ডিং নির্মাণ কোম্পানিগুলো জবাবদিহিতার আওতায় রেখে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। রিয়েল এস্টেট হাউজিং এসোসিয়েশন "রিহ্যাব" অকার্যকর করা হবে। আবাসন সুবিধা নিতে গিয়ে সাধারণ গ্রাহক প্রতারণা বা হয়রানির স্বীকার হবে না।
অর্থনৈতিক সুযোগ: ব্যবসা ও চাকরির সুযোগ সহজলভ্যতার পাশাপাশি শহরের বাসিন্দাদের স্বনির্ভর হতে সাহায্য করে এমন সিটি গড়তে শামীম আহমদ ঢাকার মেয়ের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। পিপিপি উন্নয়নে দৃষ্টি ফেরানো হবে, শহর উন্নয়ন ও সৌন্দর্য বর্ধন করতে বেসরকারি কোম্পানির সাথে একসাথে কাজ করা হবে।
শয়তান শিকার: জঙ্গি দমনে শূন্য সহনশীলতা প্রদর্শন করা হবে। বিদেশি অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের তারাবো ৩০ দিনের মধ্যে। পাকিস্তানিদের তারাবো ২৪ ঘন্টার মধ্যে। ঢাকার আবাসিক বাসিন্দাদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে শয়তান ধরার একটি বিশেষ অভিযান চালানো হবে। সন্ত্রাসী, দুষ্কৃতকারী এবং দেশবিরোধী চক্রকে আইনের আওতায় এনে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা হবে।
মাদকদ্রব্য বন্ধ: আমাদের দেশের সরকার নানাভাবে মাদকদ্রব্য ব্যাবসার সাথে জড়িত। সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিচালিত একটি অধিদপ্তরের নাম- "মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর"। এতেই স্পষ্ট হয় যে, সরকার মাদকদ্রব্য বন্ধ করতে বদ্ধপরিকর নয়। সরকারের ওই দপ্তরের নাম যদি হতো, "মাদকদ্রব্য অবসান অধিদপ্তর" তাহলে সরকারের সৎ উদ্দেশ্য প্রতীয়মান হতো। সিটি করপোরেশন পরিচালিত "মাদকদ্রব্য অবসান কর্তৃপক্ষ" নামে একটি সংস্থা সৃজন করে ঢাকা থেকে মাদকদ্রব্য সম্পূর্ণভাবে বিনাশ করা হবে। কোন বার মদের দোকান চলবে না। বিদেশি কুটনৈতিকরা যে যার বাসায় বা অফিসে খেতে পারে। তাদের জন্য আলাদা কোন ক্লাব বা বার থাকবে না।
সিটি অ্যাম্বুলেন্স:- ঢাকা সিটির বাসিন্দাদের জরুরী স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করতে হটলাইনে কল করে মাত্র ৩০০ টাকায় অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস নেয়া যাবে। উত্তর সিটি করপোরেশনের অধীনে প্রত্যেক ওয়ার্ডে ২টি করে অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হবে।
প্রাথমিক চিকিৎসা:- উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রত্যেক ওয়ার্ডে ২টি করে স্বাস্থ্য সেবা কক্ষ থাকবে। একজন নারী চিকিৎসক এবং একজন পুরুষ চিকিৎসক সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা বা স্বাস্থ্যসেবা সম্পুর্ণ ফ্রী প্রদান করবে। সেখানে মাতৃত্বকালীন পরামর্শ ও সেবা দিতে একজন নারী মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ২৪ ঘন্টা সক্রিয় উপস্থিত থাকবে। বিনামূল্যে সকল নাগরিকদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হবে।
দৈনন্দিন কার্যক্রম:- মেয়রের দৈনন্দিন কার্যক্রম বা অফিস পরিচালিত হবে সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। সাপ্তাহিক কোন বন্ধ থাকবে না। চক্রাকারে প্রত্যেক ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কমিশনারের কার্যালয়ে অফিস করবেন। স্থানীয় নাগরিকদের সুবিধার্থে মেয়র সেবাগ্রহীতার কাছাকাছি পৌঁছাবে।
শূন্য দুর্নীতি:- সিটি করপোরেশনের সর্বস্তরের কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের কোন কাজে দূর্নীতি ও গাফেলতির লেশমাত্র প্রমাণ পাওয়া গেলে তার দায় নেবে মেয়র। নাগরিকরা সেবা পেতে বিড়ম্বনার স্বীকার হলে, সরাসরি মেয়ের হটসঅ্যপে নোট পাঠালে তাৎক্ষণিকভাবে সেবা নিশ্চিত করা হবে।
জন্ম নিবন্ধন:- জন্ম নিবন্ধনের জন্য কোন ফি নেবে না সিটি করপোরেশন। জন্ম নিবন্ধন যে লোকে ডাটাএন্ট্রি করবে তার নাম পরিচয় শনাক্ত করা হবে। ভবিষ্যতে নামের ভুল বানান বা সংশোধন প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ডাটাবেজ তৈরিকারীর নিকট থেকে জরিমানা চার্জ সংগ্রহ করা হবে। গ্রাহকদের কোন ফি দিতে হবে না।
একটি ওয়ার্ড একটি পার্ক:- আমি নির্বাচিত হওয়ার ৬ মাসের মধ্যে বেসরকারি কোম্পানির সহায়তায় "একটি ওয়ার্ড একটি পার্ক" প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। দৃষ্টিনন্দন সেই পার্কে শিশু বান্ধব নানারকম খেলনা থাকবে। মাত্র ১০০ টাকা ফি দিয়ে সারাদিন সেখানে ভ্রমণ করার পাশাপাশি বিনা মূল্যে শিশুরা খেলনা ব্যাবহার করবে। প্রতিবন্ধীদের জন্য থাকবে সম্পূর্ণ ফ্রী।
নতুন ঢাকা: আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলা এলাকা ও তার আশেপাশে গড়ে ওঠা জনবসতি শৃঙ্খল ভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে বেসরকারি আবাসন নির্মাণপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দিকনির্দেশনা দেয়া হবে। উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যেতে পারে বসুন্ধরা আবাসিককে।
বসুন্ধরা মডেল: আমি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হলে নির্বাহী আদেশে বসুন্ধরা আবাসিক অঞ্চলটি সিটি করপোরেশনের আওতামুক্ত রাখবো। বসুন্ধরার মডেলে আরো আবাসিক এলাকা সৃজন করার পরিকল্পনা হাতে নেয়া হবে। গুলশান বনানী ঢাকার আভিজাত্যপূর্ণ এরিয়া হিসেবে বর্ণনা করা হলেও বাস্তবে এই এলাকা পুরোপুরি বাণিজ্যিক। অবৈধ হোটেল, মদের বার, চোরাকারবারি সব নিয়ন্ত্রণ হয় এসব এলাকা থেকে। সেই বিবেচনায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা আভিজাত্যের একমাত্র উদাহরণ। আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সড়কগুলো হকারদের কাছে বিক্রি করতে দেব না। এই এলাকা থাকবে ভিক্ষুক ও হকার মুক্ত।
সম্পাদক ও প্রকাশক : ইসমাইল হোসেন সৌরভ,
নির্বাহী সম্পাদক:মো:শাহাবুদ্দিন খান
বার্তা প্রধান : মোহাম্মদ শাহ্ কামাল,
কপিরাইট © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত