মনিরুল ইসলাম,বরগুনা প্রতিনিধি:
অর্থ সংকটে চিকিৎসা বন্ধ হওয়া আমতলী উপজেলার আরপাঙ্গাসিয়া ইউনিয়নের তারিকাটা গ্রামের নজরুলকে কর্দমাক্ত পথ,খালি পায়ে হেঁটে খাদ্য সামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা বাড়িতে পৌঁছে দিলেন ইউএনও।
রবিবার ০২ (আগষ্ট) বিকালে দুই কর্মকর্তা সাথে নিয়ে অসহায় পঙ্গু নজরুলের বাড়িতে গিয়ে শারীরিক অবস্থা ও পরিবারের খোঁজ খবর নেন।এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী খাদ্য সামগ্রী ও নগদ অর্থ প্রদান করেন।
পরিবার সূএে জানা যায়, আমতলী উপজেলার আরপাঙ্গাসিয়া ইউনিয়নের তারিকাটা গ্রামে জুলমত খানের ছেলে নজরুল খান (৪৩)।দু বছর ধরে দূর্ঘটনায় পঙ্গুত্ব বরন করে শয্যাশায়ী নজরুল পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী ছিলেন!মিস্ত্রির কাজ করে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে, বৃদ্ধ বাবা, মা নিয়ে মোটামুটি দিন ভালোই কাটছিলো।
২০২৪ সালে হঠাৎ একটা দূর্ঘটনায়, তার সুন্দর জীবনটা তছনছ হয়ে যায়,গাছ কাটতে গিয়ে,ওপর থেকে পড়ে মেরুদন্ড সহ দু পায়ে গুরত্বর আঘাত পায়!
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি হন।টাকার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যায়।যেটুকু সহায় সম্বল ছিলো সব বিক্রি আর ধার দেনা করে প্রায় তিন লক্ষাধিক টাকা ব্যয় করে নজরুল চলে আসেন বাড়িতে। এখন সে নি:স্ব হয়ে বাড়িতে শয্যাশায়ী!
ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস!যে বয়সে পুরোদমে কাজ
করে সংসার চালানোর কথা, সে বয়সে দূর্ঘটনায় পঙ্গুত্ব বরন করে দু বছর ধরে ঘড়ের চার বেড়ার মধ্যে বৃদ্ধ বাবা মায়ের বোঝা হয়ে মানবেতর জীবন নিয়ে ধুকে ধুকে চিকিৎসার অভাবে ভূগছে!
এদিকে পঙ্গু নজরুলের সংসারে অভাব, অনটন, দৈন্যতা দেখে, দের বছর আগে দুই সন্থান নিয়ে,স্ত্রী ও তার বাবার বাড়ি চলে যায়।
চরম বিপদের মূহুর্তে স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে গেলে ও ছেড়ে যাননি বৃদ্ধা বাবা মা।
বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরীর নজরে এলে পঙ্গু নজরুল কে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক ও খাদ্য সামগ্রী সহায়তা নিয়ে কাঁদা মাখা পথ খালি পায়ে হেঁটে ছুটে যান ভুক্তভোগীর বাড়িতে।
অসহায় পঙ্গু নজরুলের বাড়িতে গিয়ে তার বৃদ্ধ বাবা জুলমত খানের হাতে চিকিৎসা সহায়তার নগদ ২০ হাজার টাকা ও খাদ্য সামগ্রী বুঝিয়ে দেন আমতলীর ইউএনও।
অর্থসংকটে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়া পঙ্গু নজরুলের পাশে দাঁড়িয়ে এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বরগুনার আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী।
কাদামাখা ও পিচ্ছিল গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা জুতো খুলে খালি পায়ে হেঁটে অবশেষে তিনি পৌঁছান অসহায় নজরুলের বাড়িতে। সঙ্গে করে নিয়ে যান জরুরি খাদ্যসামগ্রী এবং নগদ অর্থ সহায়তা। ইউএনও-র এমন মানবিকতা স্থানীয়দের মন স্পর্শ করেছে! প্রশংসায় ভাসছেন প্রশাসনের এই কর্মকর্তা।
ইউএনও-র এই মানবিক অভিযাত্রায় তাঁর সঙ্গে ছিলেন আমতলী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মনজুরুল হক কাউসার এবং উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলী। তাঁরা নজরুলের হাতে খাদ্যসামগ্রী ও চিকিৎসার জন্য নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে নজরুলের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে সরকারি সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেওয়া হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এমন সাদামাটা ও মানবিক উদ্যোগ দেখে মুগ্ধ এলাকাবাসী। স্থানীয় বাসিন্দারা আবেগপ্লুত হয়ে জানান, "উপজেলার একজন সর্বোচ্চ কর্মকর্তা হয়েও এভাবে খালি পায়ে কাদাপানি পেরিয়ে একজন পঙ্গু মানুষের পাশে এসে দাঁড়াবেন, তা আমরা ভাবতেও পারিনি। একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার এমন মহতী উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।"
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী জানান, জনসেবা ও আর্তপীড়িতের পাশে দাঁড়ানো প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্বের অংশ। অর্থভাবে কোনো মানুষের চিকিৎসা বন্ধ থাকবে—এটা হতে পারে না। নজরুলের চিকিৎসা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় প্রশাসনের এই সহায়তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : ইসমাইল হোসেন সৌরভ,
নির্বাহী সম্পাদক:মো:শাহাবুদ্দিন খান
বার্তা প্রধান : মোহাম্মদ শাহ্ কামাল,
কপিরাইট © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত