নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজধানীর গুলশান ও বনানী এলাকার কয়েকটি স্পা সেন্টারকে ঘিরে মাদক সেবন, মাদক সরবরাহ এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানগুলোত দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে মদক সেবন ও অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালিত হলেও প্রশাসনের কার্যকর অভিযান ও নজরদারির অভাব রয়েছে। মাঝেমধ্যে প্রশাসন কর্তৃক লোক দেখানো অভিযান পরিচালিত হলেও কিছুতেই যেন থামছে না এসব অনৈতিক কর্মকান্ড ও মাদকের রমরমা বাণিজ্য। অভিযোগ রয়েছে, এসব স্পা সেন্টারে অনৈতিক কাজের গোপন ভিডিও ধারণ করে চলে ব্লাকমেইল এর মত সঙ্ঘবদ্ধ অপকর্ম। গুলশান বনানী রাজধানীর অভিজাত এলাকা হওয়ায় এসব স্পা সেন্টারে দেশের সনামধন্য ব্যবসায়ীসহ বড় লোকের বিগড়ে যাওয়া ছেলেদের আসাযাওয়া চলে অবাধে। আর সে-সব এলিট শ্রেনীর লোকেদের টার্গেট করেই একটি চক্র অনৈতিক কাজের সময় তাদের গোপন ভিডিও ধারণ করে রাখে। পরবর্তী কৌশলে তাদের ফোন নাম্বার সংগ্রহ করে হোয়াটসঅ্যাপে অনৈতিক কাজের গোপনে ধারণ করা ভিডিও পাঠিয়ে মোটা অংকের টাকা দাবি করে। লোক লজ্জা ও সংসার ভাঙার ভয়ে অনেকেই তাদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়। এছাড়া অনেক কলেজ পড়ুয়া মেয়েদের ভিডিও ধারণ করে রেখে পরবর্তীতে ভিডিও ইন্টারনেটে ভাইরাল করে দেয়ার ভয় দেখিয়ে বছরের পর বছর তাদের দিয়ে দেহ ব্যবসা করতে বাধ্য করা হয়। গুলশান-১ রবি টাওয়ারের চতুর্থ তলায় রয়েছে শাহ্ আলমের একটি স্পা সেন্টার। স্থানীয়দের অভিযোগ, শাহ্ আলমের এই স্পা সেন্টারে বেশ কয়েকবার র্যাব,সিটি কর্পোরেশন ও পুলিশি অভিযান পরিচালনা হলেও কিছুতেই স্থায়ীভাবে বন্ধ হচ্ছে না মাদক সাপ্লাই ও রমরমা দেহ বাণিজ্যের এই প্রতিষ্ঠানটি। অপরদিকে গুলশান ৯৯ নম্বর রোড, ৩৩/এ, ব্লুবেল ভবনের ষষ্ঠ তলায় বাহার মিয়া, একইভাবে স্পা সেন্টারের আড়ালে পরিচালনা করছে দেহ ব্যবসা ও মাদক বাণিজ্য। এছাড়া গুলশান ২ ল্যাব এইড ভবনের পশ্চিম পাশের বিল্ডিং এর ষষ্ঠ তলায় নুর ইসলামের স্পা সেন্টারের অন্তরালে অবৈধ কার্যক্রম চলেছে বহু বছর, তবে এই ভবনের প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানেও চালু রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখার বিষয়, প্রত্যক্ষদর্শীরা কেউ কেউ বলছেন এখান থেকে প্রতিষ্ঠানটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে আবার কেউ কেউ বলছে, প্রশাসন ও গণমাধ্যমের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি এখনো চলমান রয়েছে। তবে গুলশান ২ এর ৪৭ নং রোডের ২৫ নম্বর বাড়ির চতুর্থ তলায় নুর ইসলামের আরেকটি স্পাসেন্টার রয়েছে। সেখানেও ২৪ ঘন্টাই চলে মাদক সেবনের মহোৎসব ও স্পার আড়ালে অনৈতিক দেহ বাণিজ্য। আরো খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গুলশান ৫৫ নম্বর রোডে নুর ইসলামের আরও একটি স্পা সেন্টার রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত কয়েকদিন পূর্বে সেখানে প্রশাসনিক অভিযান পরিচালনা হয়েছে। যার ফলে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে বন্ধ থাকলেও পুনরায় চালু করার জন্য জোর পায়তারা চালাচ্ছে নুর ইসলাম। স্পা সেন্টারের অন্তরালে এসব অনৈতিক কাজের প্রমাণ মিলেছে অনুসন্ধানে। স্বাভাবিকভাবে এসব প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাংবাদিক পরিচয়ে প্রবেশের কোন সুযোগ নেই। তাই গ্রাহক সেজে সেবা নিতে প্রতিষ্ঠানে গিয়ে গোপন ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিওতে দেখা যায়, স্পা সেন্টারগুলোতে প্রবেশের পরেই গ্রাহকদের সামনে হাজির করা হয় এক ঝাঁক রমণীদের। সেখানে বিভিন্ন বয়সী তরুণীরা ফ্যাশন শো প্রদর্শনের মত সামনে এসে হাজির হয়। যেখানে যে কাউকে বেছে নিতে হবে। তবে টাকার অংক নির্ধারণ হয় সময়ের উপরে। ঘন্টা ও কতবার শারীরিক সম্পর্ক করা হবে তার উপরেই নির্ধারণ হয় টাকার অংক। এক ঘন্টা সময় দুইবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকে এসব প্রতিষ্ঠানগুলো। সময় যত বাড়বে টাকার পরিমাণও তত বাড়বে। স্থানীয়দের দাবি প্রশাসনের নাকের ডগায় বছরের পর বছর স্পা নামের এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিতো হলেও অবৈধ এসব প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধে প্রশাসনের উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো ভূমিকা নেই । মাঝেমধ্যে লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা হলেও লেজুড়বৃত্তিক মাসোহারায় বছরের পর বছর চলছে এসব অবৈধ কার্যক্রম। অচিরেই এই স্পা সেন্টারগুলো চিরতরে বন্ধ না হলে মাদকের ভয়ংকর থাবায় যেমন ধ্বংস হবে যুবসমাজ তেমনি বাড়বে সামাজিক অবক্ষয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক : ইসমাইল হোসেন সৌরভ,
নির্বাহী সম্পাদক:মো:শাহাবুদ্দিন খান
বার্তা প্রধান : মোহাম্মদ শাহ্ কামাল,
কপিরাইট © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত