নীলফামারী প্রতিনিধি:
একসময় বিআরটিএর দালাল হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তি এখন নীলফামারী জেলা পরিষদের হিসাব শাখায় দৈনিক মজুরিভিত্তিক ‘হিসাব সহায়ক’ হিসেবে কাজ করছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে। তাকে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি বিধি-বিধান, অনুমোদিত জনবল কাঠামো এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের আমলে জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মমতাজুল ইসলামের সময়ে ওই ব্যক্তির স্ত্রীকে জেলা পরিষদের পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে নিয়োগের পর তিনি জেলা পরিষদের নির্ধারিত কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন না করে তৎকালীন জেলা প্রশাসকের বাসায় কাজ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জেলা পরিষদের বেতনভুক্ত একজন কর্মচারী কীভাবে জেলা পরিষদের বাইরে অন্য একটি সরকারি কর্মকর্তার বাসায় দায়িত্ব পালন করতেন এবং এ বিষয়ে কোনো লিখিত আদেশ বা প্রশাসনিক অনুমোদন ছিল কি না—এখন সেই প্রশ্নই সামনে এসেছে।
অভিযোগের নতুন অধ্যায় শুরু হয় সরকার পরিবর্তনের পর। জেলা পরিষদের প্রশাসকের সময়ে ওই নারীর স্বামী জাহিদ ওরফে রতনকে জেলা পরিষদের হিসাব শাখায় দৈনিক মজুরিভিত্তিক ‘হিসাব সহায়ক’ হিসেবে কাজ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, জেলা পরিষদের অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামোতে ‘হিসাব সহায়ক’ নামে কোনো পদ রয়েছে কি না। যদি পদটি অনুমোদিত না হয়ে থাকে, তাহলে কোন বিধির অধীনে এবং কার অনুমোদনে তাকে ওই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে? উক্ত সংবাদ প্রকাশ সুত্রে জাহিদ হাসান রতনের কাছে জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে বলেন
জেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশের দাবি, বিশেষ ও জরুরি প্রয়োজনে অস্থায়ীভাবে মাস্টাররোল বা দৈনিক মজুরিভিত্তিক লোকবল নেওয়ার সুযোগ থাকলেও তা নির্দিষ্ট কাজ ও অনুমোদনের ভিত্তিতে হতে হয়। অনুমোদিত জনবল কাঠামোর বাইরে নিয়মিত ধরনের দায়িত্বে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হলে বিষয়টি তদন্তের দাবি রাখে।
জেলা পরিষদের প্রশাসক কোন পর্যায়ে জনবল নিয়োগ বা অস্থায়ীভাবে লোকবল নিয়োজিত করতে পারেন, সেটি সংশ্লিষ্ট আইন, চাকরি বিধিমালা, সরকারি আদেশ ও অনুমোদিত জনবল কাঠামোর আলোকে নির্ধারিত।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো অস্থায়ী কাজের জন্য লোকবল প্রয়োজন হলে তার প্রয়োজনীয়তা, কাজের ধরন, মেয়াদ এবং অনুমোদনের বিষয়টি নথিভুক্ত থাকা উচিত। একই ব্যক্তিকে নিয়মিত প্রকৃতির দায়িত্বে দীর্ঘদিন কাজ করানো হলে সেটি নিয়োগের প্রকৃতি ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, জাহিদ ওরফে রতন একসময় নিজেকে যুবলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে পরিচয় দিতেন। সরকার পরিবর্তনের পর বর্তমানে তিনি ছাত্রদলের পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে তার রাজনৈতিক পরিচয় ও কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দলীয় সূত্রের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন। একইভাবে তাকে ‘বিআরটিএর দালাল’ হিসেবে পরিচয় দেওয়ার অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই প্রয়োজন।
হিসাব শাখায় নথির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
হিসাব শাখায় দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাওয়ায় জেলা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও প্রশাসনিক নথিতে তার প্রবেশাধিকার তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সংরক্ষিত নথি ও দাপ্তরিক তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে কোনো গোপন নথি বা সরকারি তথ্য বাস্তবে বাইরে গেছে কি না, তা নির্ভরযোগ্য তদন্ত ও নথি যাচাই ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। এ কারণে সংশ্লিষ্ট রেজিস্টার, নথি ব্যবস্থাপনা ও প্রবেশাধিকারের তথ্য পরীক্ষা করার দাবি উঠেছে।
তদন্তে যেসব বিষয় খতিয়ে দেখা দরকার
সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে জেলা পরিষদের নিয়োগসংক্রান্ত নথি ও আর্থিক কাগজপত্র পরীক্ষা করা জরুরি। বিশেষ করে—
জাহিদের স্ত্রীর পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে নিয়োগের আদেশ;
তার নিয়োগের অনুমোদন ও যোগ্যতা;
তৎকালীন জেলা প্রশাসকের বাসায় দায়িত্ব পালনের লিখিত আদেশ বা অনুমোদন;
জাহিদ ওরফে রতনকে হিসাব শাখায় দায়িত্ব দেওয়ার আদেশ;
‘হিসাব সহায়ক’ পদটি অনুমোদিত জনবল কাঠামোতে আছে কি না;
দৈনিক মজুরি প্রদানের বিল ও হাজিরা খাতা;
নিয়োগ বা দায়িত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন; এবং
হিসাব শাখার সংরক্ষিত নথিতে তার প্রবেশাধিকারের বিষয়।
এ প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জাহিদ ওরফে রতনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে। অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা এবং অভিযোগ অসত্য হলে তারও স্পষ্ট ব্যাখ্যা জনসম্মুখে আসা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সংবাদ প্রকাশ সুত্রে জাহিদ ওরফে রতনকে কল করলে তিনি মুঠোফোনে জানান যে সংবাদ টি আমাকে নিয়ে প্রকাশ করেছে তা সম্পুর্ণ ব্যক্তিক আক্রোসবসত। সংবাদকর্মীদের সাথে আমার সাক্ষাৎ হলে আমি দলিল আকারে সব ডকুমেন্টস দেখাতে পারবো।
সম্পাদক ও প্রকাশক : ইসমাইল হোসেন সৌরভ,
নির্বাহী সম্পাদক:মো:শাহাবুদ্দিন খান
বার্তা প্রধান : মোহাম্মদ শাহ্ কামাল,
কপিরাইট © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত