মো:মনিরুল ইসলাম, বরগুনা প্রতিনিধি:
বরগুনার আমতলী উপজেলার আমড়াগাছিয়া বাজারের পশ্চিম পাশে এলাকার একমাত্র খেলার মাঠ থেকে মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। মাটি কাটার ফলে মাঠে সৃষ্টি হওয়া গভীর গর্তে জমে থাকা পানিতে ডুবে খাদিজা নামে তিন বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মেডিকেল অফিসার স্বর্ণা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমড়া গাছিয়া বাজারের পশ্চিম পাশে চাওড়া খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। ওই সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য বাজারের পশ্চিম পাশে থাকা এলাকার একমাত্র খেলার মাঠ থেকে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। মাটি কাটার পর মাঠে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়। বৃষ্টির পানি জমে এসব গর্ত এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঠ থেকে মাটি কাটতে নিষেধ করা হলেও ঠিকাদার মো. মিলন মাটি কাটা বন্ধ করেননি। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে স্থানীয়দের চাঁদাবাজির মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। 
স্থানীয় নিখিল বলেন, গত শুক্রবার মাঠে খেলতে গিয়ে তাঁর চার বছর বয়সী নাতি পানিতে পড়ে যায়। স্থানীয়রা দেখতে পেয়ে দ্রুত তাকে উদ্ধার করায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে। এর তিন দিন আগেও আরেকটি শিশু ওই গর্তে পড়ে গিয়েছিল। তাকেও স্থানীয়রা উদ্ধার করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহিম মোল্লা ও হারুন মুন্সিসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, খেলার মাঠ থেকে মাটি কাটতে ঠিকাদারকে একাধিকবার নিষেধ করা হয়েছিল। তখন তিনি গর্তগুলো ভরাট করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে আর গর্তগুলো ভরাট করা হয়নি।
তাঁরা বলেন, মাঠটি এলাকার শিশুদের খেলাধুলার একমাত্র জায়গা। সেখানে এভাবে গভীর গর্ত করে রাখায় যেকোনো সময় আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত গর্তগুলো ভরাট করে শিশুদের জন্য মাঠটি নিরাপদ করার দাবি জানান তাঁরা।
একই সঙ্গে শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত করে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের দায়িত্ব নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে ঠিকাদার মো. মিলনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ওখানে আগে থেকেই গর্ত ছিলো উল্টো আমরা গর্ত ভড়াট করে দিয়েছি। ওখানে আমরা কোন গর্ত করিনি।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ইয়াকুব হোসাইন বলেন, এ বিষয়ে আমার জানা নেই। যথাযথ প্রক্রিয়ায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : ইসমাইল হোসেন সৌরভ,
নির্বাহী সম্পাদক:মো:শাহাবুদ্দিন খান
বার্তা প্রধান : মোহাম্মদ শাহ্ কামাল,
কপিরাইট © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত