এম জাফরান হারুন::
পটুয়াখালী জজকোর্টের স্বনামধন্য এ্যাডভোকেট ও নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের সাবেক পিপি আবদুল্লাহ আল নোমান তার ভেরিফাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটা পোস্ট কে কেন্দ্র করে প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।
তিনি তার পোস্টে লিখেছেন- 'জীবনে এমন অনেক পরিস্থিতি আসে, যখন রাগ, অপমান, ভুল বোঝাবুঝি কিংবা অন্যের কথায় উত্তেজিত হয়ে আমরা হঠাৎ কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি। বিশেষ করে কারও বিরুদ্ধে মামলা করার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আবেগের বশে নেওয়া কখনোই উচিত নয়। মনে রাখতে হবে—যারা আপনাকে উস্কানি দিয়ে বলে, “মামলা করে দেন”, “ওকে শিক্ষা দিতে হবে”, “এখনই ব্যবস্থা নিন”—তারা অনেক সময় ঘটনার পরিণতি ভোগ করার সময় আপনার পাশে থাকে না। ঝামেলা তৈরি হলে তারাই সবার আগে দূরে সরে যায়। কিন্তু মামলার বাদী হিসেবে আপনাকেই আদালত, আইনজীবী, সময়, অর্থ ও মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তাই কারও কথায় উত্তেজিত হয়ে নয়, তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে এবং নিজের বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
তিনি তার পোস্টে আরও লিখেছেন- 'ঘটনা আসলে কী ঘটেছে, অপর পক্ষের বক্তব্য কী, আপনার কাছে কী প্রমাণ আছে, আইনগতভাবে বিষয়টি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে কি না—এসব বিষয় আগে বুঝতে হবে।
অনেক সময় একটি ভুল বোঝাবুঝি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। আবার কিছু ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে। তাই মামলা করা বা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে যোগ্য আইনজীবীর কাছ থেকে আইনি পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ মামলা করা শুধু কাউকে হয়রানি করার বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আইনি দায়বদ্ধতা, সময়, অর্থ এবং ভবিষ্যতের নানা জটিলতা। মিথ্যা, অতিরঞ্জিত বা ভিত্তিহীন অভিযোগ শেষ পর্যন্ত নিজের জন্যও বিপদ ডেকে আনতে পারে।
পোস্টে আরও লেখা রয়েছে যে- ''রাগের সময় সিদ্ধান্ত নয়, ধৈর্য ধরে সিদ্ধান্ত নিন। উস্কানিতে নয়, বাস্তবতায় বিশ্বাস রাখুন। প্রতিশোধের চিন্তায় নয়, ন্যায়বিচারের চিন্তায় আইনের আশ্রয় নিন। মনে রাখবেন—একটি মামলা করা সহজ হতে পারে, কিন্তু একটি মামলা চালিয়ে যাওয়া দীর্ঘ ও কঠিন প্রক্রিয়া। তাই অন্যের কথায় নয়, নিজের বিবেক, বাস্তবতা, প্রমাণ এবং প্রয়োজন হলে আইনজীবীর পরামর্শের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ ও বিচক্ষণ পথ।"
পোস্টটি করার সাথে সাথে ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং পোস্টটি পড়ে সবাই তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। এমন ভাবে এমন করে যদি প্রতিটা আইনজীবী বা এ্যাডভোকেটরা যদি তার স্ব স্ব অবস্থান থেকে পরামর্শ দিতো তাহলে কেউ কখনই মিথ্যা বানোয়াট সাজানো মামলা দিয়ে কাউকে হয়রানি করতো না।
সম্পাদক ও প্রকাশক : ইসমাইল হোসেন সৌরভ,
নির্বাহী সম্পাদক:মো:শাহাবুদ্দিন খান
বার্তা প্রধান : মোহাম্মদ শাহ্ কামাল,
কপিরাইট © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত