নিজস্ব প্রতিবেদক
মুক্তাগাছা থানার মামলা নং-১৪, তারিখ: ২০/০৯/২০২৫* এর এজাহার + চার্জশিটের কপি। আসামি: *ইফতেখার প্রকাশ শাহীন ওরফে ভুয়া "এসপি শাহিন"*। ধারা: দণ্ডবিধি ১৭০/৪২০/৪০৮ স্পেশাল কোর্ট ১৭০/৪১৯/৪০৮।
উপযুক্ত প্রমাণ ও মুক্তাগাছা থানার মামলা থাকার পরেও জাহাঙ্গীর গেটে আটক হওয়া ভুয়া "মেজর" পরিচয়দানকারী *ইফতেখার প্রকাশ শাহীন* কে সেনা ক্যাম্পে হস্তান্তরের কথা বলে লিয়াজু করে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় সাংবাদিক ও ভুক্তভোগীকে হুমকি-ধামকি এবং সাইবার ও অপহরণ মামলার ভয় দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ।
*মুক্তাগাছার মামলাই শেষমেশ কাল হলো*
মুক্তাগাছা থানার এজাহার অনুযায়ী, থানার মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ২২/০৮/২০২৫ ইং তারিখ রাত আনুমানিক ১টার দিকে আসামি *ইফতেখার প্রকাশ শাহীন* নিজেকে "এসপি" পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ৩ লক্ষ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে চাকরির ক্ষতি ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেয়।
এসময় ভুক্তভোগী পুলিশে খবর দিলে মুক্তাগাছা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে সে নিজেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর "ক্যাপ্টেন" বলেও পরিচয় দেয়। পরে তার কাছ থেকে ৪টি মোবাইল ও ১টি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়।
এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৭০/৪২০/৪০৮ ধারায় মুক্তাগাছা থানায় মামলা নং-১৪ রুজু করা হয়।
*জাহাঙ্গীর গেটে নাটক, তারপর পলায়ন*
ভুক্তভোগী সেনা সদস্য মোঃ সাব্বির আহমেদ সৌরভের অভিযোগ, গত ০৪/০৯/২০২৬ ইং রাতে ঢাকা তেজগাঁও জাহাঙ্গীর গেট এলাকা থেকে শাহিনকে আটক করা হয়। তাকে ৪৬ ইনফেন্ট্রি ব্রিগেডের এমপির কাছে হস্তান্তরের কথা বলে সৌরভকে "লিয়াজু" করে। কিন্তু মুক্তাগাছার পুরনো মামলার ভয় দেখিয়ে সৌরভকে ভার্চুয়ালি কনফিউজ করে দুজনেই সেনা ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে পালিয়ে যায়।
*সংবাদ প্রকাশের পর হুমকি*
ঘটনার ভিডিও ও নথিপত্রসহ গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর থেকে বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে ফোন করে সংবাদ সরিয়ে ফেলার চাপ দেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগী ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সাইবার মামলা এমনকি অপহরণ মামলা দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।
*আইন কি বলে?*
আইনজীবীদের মতে, কেউ যদি ক্ষুদ্রতম কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে সুপারিশ, আইনি অপব্যবহার করে জনগণের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আত্মসাৎ করে তবে তা দণ্ডবিধির ১৭০ ধারা "ছদ্মবেশে সরকারি কর্মচারী সেজে প্রতারণা", ৪২০ ধারা "প্রতারণা" এবং ৪০৯ ধারা "বিশ্বাসভঙ্গ করে অপরাধমূলক আত্মসাৎ" এর আওতায় পড়ে।
এছাড়া রাষ্ট্র ও সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি নষ্ট করায় রাষ্ট্রদ্রোহীতার অভিযোগও আনা যেতে পারে।
দেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গণমাধ্যমের সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। হুমকি দিয়ে তা বন্ধ করা দণ্ডনীয় অপরাধ।
ভুক্তভোগী সৌরভ বলেন, _"প্রমাণ, মামলা, ভিডিও সব থাকার পরেও অপরাধী পার পেয়ে যাচ্ছে। উল্টো আমাকে আর সাংবাদিকদের হুমকি দিচ্ছে। আমি প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই।"
তবে আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রশাসনের কাছে থেকে এখনো কোনো বক্তব্য নেওয়া যায়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশক : ইসমাইল হোসেন সৌরভ,
নির্বাহী সম্পাদক:মো:শাহাবুদ্দিন খান
বার্তা প্রধান : মোহাম্মদ শাহ্ কামাল,
কপিরাইট © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত