নিজস্ব প্রতিবেদক:
অন্তু আক্তার, সাবেক সেনাসদস্য সৈনিক মাহফুজ খানের স্ত্রী। তার স্বামী বর্তমানে বাংলাদেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে পরিবারের সদস্যরা অবগত নন।
পরিবারের দাবি, মাহফুজ খান সাবেক NTMC মহাপরিচালক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এ সংক্রান্ত তথ্য ও নথি তাদের কাছে রয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।
বর্তমানে মাহফুজ খানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে দুটি মামলা রয়েছে বলে তার পরিবার জানতে পেরেছে। এর মধ্যে একটি ICT-সংক্রান্ত মামলা এবং অন্যটি হত্যা মামলা। পরিবারের অভিযোগ, এসব মামলায় মাহফুজ খানকে উদ্দেশ্য করে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাদী পক্ষের কিছু সাক্ষ্যের সত্যতা নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছেন।
পরিবারের আশঙ্কা, এসব সাক্ষ্য ও অভিযোগের ভিত্তিতে মাহফুজ খানের বিরুদ্ধে আদালতে নেতিবাচক রায় আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে মাহফুজ খানের অবস্থান জানার জন্য তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের একাধিকবার ঢাকা সেনানিবাস এবং শ্রীনগর থানায় তলব করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিবারের দাবি, সেখানে মাহফুজ খান কোথায় আছেন, তার সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ করা যায় এবং তাকে কীভাবে হাজির বা হস্তান্তর করা যায়—এসব বিষয়ে তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে এবং চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে।
তবে পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মাহফুজ খান বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে তারা অবগত নন। ফলে একদিকে তার বিরুদ্ধে গুরুতর দুটি মামলা এবং অন্যদিকে তার অবস্থান জানাতে পরিবারের সদস্যদের ওপর ধারাবাহিক চাপ ও তলব—দুই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদের।
পরিবারের আরও অভিযোগ, মাহফুজ খানের অবস্থান জানার জন্য তাদের অন্যান্য সদস্যদেরও চাপ ও হয়রানির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এ ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহারকারী ব্যক্তিদের নামও উঠে এসেছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও NCP-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে পরিচয় দেওয়া কয়েকজন ব্যক্তির বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ:
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয় যে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকাল ৫:০০ ঘটিকায় বিএনপির স্থানীয় কর্মীরা তাদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায় এবং ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এই ঘটনার পর থেকে নিজস্ব বাসায় বসবাস করা তাদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছেন। পরিবারের আরও অভিযোগ, এই ঘটনার পর শ্রীনগর থানায় আইনি প্রতিকারের জন্য লিখিত অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ তাদের অভিযোগ গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়।
পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অযাচাইকৃত অভিযোগকে আদালতের রায় বা প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করতে চায় না। বরং বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম যেন মামলার নথি, এজাহার, আদালতের কার্যক্রম, সাক্ষ্য, তলবের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য যাচাই করে স্বাধীন অনুসন্ধান করে।
পরিবারের কাছে থাকা নথি ও অন্যান্য প্রমাণ সাংবাদিকদের যাচাইয়ের জন্য সরবরাহ করতে তারা প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে—মাহফুজ খানের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোর প্রকৃত ভিত্তি কী এবং তিনি কোথায় আছেন সে বিষয়ে পরিবার অবগত না থাকা সত্ত্বেও তার অবস্থান জানার জন্য কেন তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের বারবার তলব ও চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে? পাশাপাশি হামলার শিকার হওয়ার পর পুলিশ কেন তাদের আইনি অভিযোগ গ্রহণ করছে না?
সম্পাদক ও প্রকাশক : ইসমাইল হোসেন সৌরভ,
নির্বাহী সম্পাদক:মো:শাহাবুদ্দিন খান
বার্তা প্রধান : মোহাম্মদ শাহ্ কামাল,
কপিরাইট © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত