আলমগীর হোসেন শুভ
বরগুনায় কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ছাত্রের মা'কে পিটিয়ে জখম এবং ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মো. ইসমাইল, তিনি বরগুনা জান্নাতুল বাকী মাদ্রাসার শিক্ষক।
জানা যায়, গত ২৬ জুলাই রাত সাড়ে ৭ টার দিকে ভুক্তভোগী নারীর বাসায় প্রবেশ করে ধর্ষণ চেষ্টা করে অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক। এসময় ওই নারী বাধা দিলে তাকে ইট দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে ইসমাইল। পরে ওই নারীকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এঘটনায় মামলা হলেও অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মামলা থেকে মূল আসামিদের বাদ দেয়ার পায়তারা চলছে বলে আশঙ্কা ভুক্তভোগীর।
এঘটনায় আজ রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১ টায় এক সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী নারী। বরগুনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করে জানান, তার ছেলে স্থানীয় জান্নাতুল বাকি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করার সুবাদে ওই মাদ্রাসার শিক্ষক মোঃ ইসমাইল (৩৮) দীর্ঘদিন ধরে তাকে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় শিক্ষক ইসমাইল তাকে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখাতেন।
ঘটনার দিন ২৬ জুলাই রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে ঘর খোলা থাকার সুযোগে ইসমাইল ভেতরে প্রবেশ করে ওই নারীকে জাপটে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। ভুক্তভোগীর বাধা ও ডাক-চিৎকারে ক্ষিপ্ত হয়ে ইসমাইল ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এ সময় প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে ইসমাইলের স্ত্রী মোসাঃ নুসরাত (২৬) ইট দিয়ে ওই নারীর মাথায় আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে।
অভিযোগ অনুযায়ী, নুসরাত ভুক্তভোগীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলে এবং গলার প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের সোনার চেইন ছিনিয়ে নেয়। একই সাথে মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল রেদওয়ানও ভুক্তভোগীকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন।
পরে ভুক্তভোগীর বাবা মোঃ বাবুল ও চাচা আবুল মল্লিক স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে বরগুনা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং- ৪৪/৩৩৮, তারিখ: ২৭/০৭/২০২৬)।
তবে মামলা দায়েরের পর আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। নুসরাত ও রেডওয়ানসহ অন্য সহযোগীরা ভুক্তভোগীর শ্বশুরের বাসায় গিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি-ধামকি দিচ্ছে।
ভুক্তভোগী ওই নারী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, মামলা করার পরও আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, কিন্তু পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না। প্রভাব খাটিয়ে তারা মামলা থেকে রেহাই পাওয়ার চেষ্টা করছে।
এঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকির বিষয়টি নিশ্চিত করে এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর মোঃ জাহাঙ্গীর বলেন, মামলার আসামিরা বর্তমানে পলাতক রয়েছে। তবে তাদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : ইসমাইল হোসেন সৌরভ,
নির্বাহী সম্পাদক:মো:শাহাবুদ্দিন খান
বার্তা প্রধান : মোহাম্মদ শাহ্ কামাল,
কপিরাইট © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত