বরগুনা প্রতিনিধি:
হাইকোর্টের আদেশের পর বরগুনার আমতলী উপজেলার ৬ নম্বর আমতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহিদুল ইসলাম (মিঠু মৃধা) পুনরায় দায়িত্বে বহাল হলে দায়িত্ব পালনের জন্য যোগদানপত্র দিয়েছেন।
মো:জাহিদুল ইসলাম মিঠু মৃধা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের উপজেলার সভাপতি।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) তিনি আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে এ যোগদানপত্র দাখিল করেন।
যোগদানপত্রে মো. জাহিদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের ৭৫৯৫/২০২৬ নম্বর রিট পিটিশনে গত ৩০ জুন দেওয়া আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি ৬ নম্বর আমতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য যোগদান করছেন। একই সঙ্গে তাঁর যোগদানপত্র গ্রহণ এবং দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
জানা গেছে, হাইকোর্টের ওই আদেশের পর বরগুনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে গত ২৪ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২৭ সেপ্টেম্বর আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগদানপত্র দাখিল করেন জাহিদুল ইসলাম।
যোগদানপত্রের অনুলিপি বরগুনার জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক, ৬ নম্বর আমতলী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে জনপ্রতিনিধিশূন্য হয়ে পড়া আমতলী উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদের দাপ্তরিক কার্যক্রম সচল রাখতে স্থানীয় সরকার বিভাগ উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তাকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেয়। এর অংশ হিসেবে ৬ নম্বর আমতলী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাঞ্জারুল হক কাওসারকে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের ওই সিদ্ধান্তের পর ইউনিয়ন পরিষদের নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছিল। এখন হাইকোর্টের আদেশের পর চেয়ারম্যান হিসেবে জাহিদুল ইসলামের যোগদানপত্র দাখিলের ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, হাইকোর্টের আদেশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পর্যালোচনা করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চেয়ারম্যান মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, হাইকোর্টের আদেশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার আলোকে আমি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য যোগদানপত্র দিয়েছি। দায়িত্ব পালনে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।
উল্লেখ্য, আমতলী উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদে জনপ্রতিনিধিদের মেয়াদ শেষ হওয়া ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখার প্রয়োজনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর মধ্যে আমতলী ইউনিয়ন পরিষদেও একজন সরকারি কর্মকর্তাকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
সম্পাদক ও প্রকাশক : ইসমাইল হোসেন সৌরভ,
নির্বাহী সম্পাদক:মো:শাহাবুদ্দিন খান
বার্তা প্রধান : মোহাম্মদ শাহ্ কামাল,
কপিরাইট © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত