বিশেষ প্রতিনিধি:
রাজধানীর মিরপুরের শাহআলী থানাধীন গুদারাঘাট এলাকায় সরকারি রাস্তা দখল, চাঁদাবাজি এবং এক বৃদ্ধ ব্যবসায়ীকে ধারালো ব্লেড দিয়ে কেটে রক্তাক্ত করার খবর পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে শাহআলী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শাহআলী থানাধীন গুদারাঘাট এ-ব্লক, ১ নং রোডস্থ কাজীফুরী স্কুলের পেছনের সরকারি রাস্তা নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তি দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে কাঁচাবাজার বসিয়ে চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছে একটি মহল। গতকাল রবিবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে মো. ফুরকান (৬০) নামে এক বৃদ্ধ ব্যবসায়ীর দোকানে গিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়।
ভুক্তভোগী ফুরকান জানান, "আমি দীর্ঘদিন ধরে এখানে ব্যবসা করছি। কিন্তু গত ৫ই আগস্টের পর থেকে প্রতিদিন ১৫০ টাকা এবং প্রতি সপ্তাহে মন্টু নামে এক ব্যক্তিকে ১,০০০ টাকা চাঁদা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। ঘটনার দিন রাতে মন্টু এসে চাঁদার টাকা চাইলে আমি দিতে দেরি হবে বলায় সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার ওপর আক্রমণ করে। হাতে থাকা ব্লেড দিয়ে পোচ দিলে আমার কপালের বাম পাশ কেটে যায়। এরপর আমাকে বেধড়ক কিল-ঘুষি মেরে রক্তাক্ত করা হয়।"
স্থানীয়রা এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসাসেবা শেষে বাড়ি ফিরে তিনি শাহআলী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, থানায় অভিযোগ করার কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে উক্ত গোষ্ঠী ফুরকানের মেয়ে ও বোনকে দ্বিতীয় দফায় মারধর করে। পরদিন সকালে ফুরকান দোকানের সামনে গেলে স্থানীয় বিএনপি নেতা আরশাদ আলী তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং দোকান সরিয়ে নেওয়ার হুমকি দিয়ে গালাগালি করেন।
স্থানীয় ও তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, সরকারি রাস্তা দখল ও বাজার বসিয়ে চাঁদাবাজির মূল নেতৃত্বে রয়েছেন শাহআলী থানা এ-ব্লক ইউনিট বিএনপির সভাপতি আরশাদ আলী, তার ছোট ভাই মুখা, পুলিশের কথিত সোর্স মন্টু, বাসচালক নয়ন ও রিফাতসহ আরও কয়েকজন। এলাকায় অভিযোগ রয়েছে, আরশাদ আলী ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত এবং মাদক বিক্রির অর্থ দিয়ে সাভারের কাউন্দিয়ায় বাড়ি নির্মাণ করেছেন।
বিষয়টি নিয়ে শাহআলী থানা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির রুহুল আমিন বলেন, "আরশাদ আলীকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। মন্টু মূলত পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করত এবং বিগত সরকারের আমলে অনেক নির্দোষ বিএনপি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করিয়ে অর্থ বাণিজ্য করেছে। এরা প্রকৃতপক্ষে মাদক কারবারি ও চাঁদাবাজ। দলের নাম ভাঙিয়ে যারা অপকর্ম করছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।"
বর্তমান সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সব ধরনের অপরাধ, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করলেও স্থানীয় কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকার সাধারণ ব্যবসায়ীরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক : ইসমাইল হোসেন সৌরভ,
নির্বাহী সম্পাদক:মো:শাহাবুদ্দিন খান
বার্তা প্রধান : মোহাম্মদ শাহ্ কামাল,
কপিরাইট © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত