শরিফা বেগম শিউলী
স্টাফ রিপোর্টার
রংপুর সদর উপজেলার কোতোয়ালি থানার খোদ্দপাড়া এলাকায় প্রেম ও বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এক দম্পতির বিরুদ্ধে সাজানো ধর্ষণ মামলা দায়ের করার অভিযোগ উঠেছে। সম্পূর্ণ মেয়ের পারিবারিক সম্মতিতে বিয়ে ও এফিডেভিট সম্পাদন হওয়া সত্ত্বেও পরবর্তীতে স্বামী ও তার আত্মীয়দের বিরুদ্ধে এ ধরনের মিথ্যা মামলা দেওয়ায় স্থানীয়দের মাঝেধ্যে চরম চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
সদর উপজেলার কোতোয়ালি থানাধীন খোদ্দপাড়া গ্রামের পল্লব চন্দ্রের সাথে হরিদেবপুর এলাকার শ্যামা রানী মহন্তের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে কনে শ্যামা রানী মহন্তের পিতা পরিমল মহন্ত, মাতা রেখা রানী সম্মতিতে তাদের বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বিয়ের পর তারা এফিডেভিটের (হলফনামা)রেজিস্ট্রির মাধ্যমে এবং হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী শাঁখা-সিঁদুর পরিয়ে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে দাম্পত্য জীবন শুরু করেন।
তবে রহস্যজনকভাবে বিয়ের কিছু দিন যেতে না যেতেই কনে পক্ষ থেকে বর পল্লব চন্দ্র, তার আত্মীয় তাপস এবং লিপি নামের এক নারীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের অভিযোগে মনগড়া মামলা দায়ের করা হয়।
এ বিষয়ে পল্লব চন্দ্রের বাবা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের না জানিয়ে কনে পক্ষের অভিভাবক পরিমল ও রেখা রানীর উপস্থিতিতেই বিয়ে হয়। পরবর্তীতে তারা বদরগঞ্জে তাদের আরেক মেয়ের বাড়িতে গিয়ে সংসারও করতে দেয়। কিন্তু হঠাৎ কনে পক্ষ মত বদলে আমার ছেলে ও স্বজনদের নামে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো মামলা দায়ের করেছে। আসামিদের মধ্যে তাপস দীর্ঘদিন ধরে পড়াশোনা ও কাজের সুবাদে ঢাকায় অবস্থান করছে, অথচ তাকেও এ মামলায় জড়ানো হয়েছে।আমরা এই ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলার সুষ্ঠু বিচার চাই।
ভুক্তভোগী পরিবারের অন্য সদস্যরা অভিযোগ করে জানান, কনে পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের হেয় প্রতিপন্ন করতে এবং অর্থ হাতিয়ে নিতে এই মিথ্যা মামলার জাল বুনেছে।
কনের মা রেখা রানী বলেন, আমার মেয়ে শ্যামা রানীসহ আমি আমার বড় মেয়ের বাড়ি বদরগঞ্জে যাওয়ার সময় লাহিড়ীর হাটে পল্লব ও তার বন্ধুর সাথে দেখা হয়। পল্লব আমার মেয়েকে বিয়ে করতে চাইলে ওখান থেকে বলরাম নামে এক কাজী অফিসে গিয়ে রেজিস্ট্রি করে হিন্দু ধর্মাবলম্বী মেনে শাখাশিদুর পড়িয়ে বিয়ে হয়।
এদিকে এলাকাবাসীর মতে, এফিডেভিট ও বিয়ের রেজিস্ট্রি কাগজপত্র, বিয়ের ভিডিও, ছবি প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের মামলা সামাজিক ও আইনি কাঠামোর চরম অপব্যবহার। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উন্মোচন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এ ব্যাপারে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আতাউর রহমানের বলেন, নারী শিশু কোর্ট থেকে একটি ধর্ষণ মামলার তদন্ত দিয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রকৃত বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কোর্টে চার্জশিট প্রদান করবেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : ইসমাইল হোসেন সৌরভ,
নির্বাহী সম্পাদক:মো:শাহাবুদ্দিন খান
বার্তা প্রধান : মোহাম্মদ শাহ্ কামাল,
কপিরাইট © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত