স্টাফ রিপোর্টার: মোঃ আশিকুর রহমান
গাজীপুরের কাশিমপুর থানাধীন দক্ষিণ পানিশাইলের পলাশ হাউজিং সংলগ্ন ভূমি জরিপ (বিডিএস) কার্যালয়ে রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে অপকর্ম, সাপ্তাহিক চাঁদা আদায় এবং কোটি টাকার ঘুষ-বাণিজ্যের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর বর্বরোচিত হামলা, গলা চেপে হত্যাচেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকির মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. রমজান মিয়া (৫২) বাদী হয়ে মো. সাইফুল ইসলাম সরকার (৪০), তার সহযোগী মো. আব্দুর রহিম (৩৫), মো. আশরাফুল ইসলাম (৪০) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে বিবাদী করে কাশিমপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ক্ষমতার পালাবদলে দলীয় রূপ বদল ও মুখোশধারী সুযোগসন্ধানী:
অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম সরকার একজন চিহ্নিত সুযোগসন্ধানী ও ছদ্মবেশী চাঁদাবাজ। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সে ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিল। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের সাথে সাইফুলের একাধিক ঘনিষ্ঠ ছবি ও ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিদ্যমান রয়েছে। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিজের অপকর্ম ঢাকতে ও চাঁদাবাজি বজায় রাখতে নতুন রূপ ধারণ করে এই সাইফুল। সম্প্রতি গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক জনাব শওকত হোসেন সরকারের সাথে ফটোসেশনে অংশ নিয়ে সে নিজেকে কাশিমপুর থানা বিএনপির সক্রিয় নেতা বলে পরিচয় দেওয়া শুরু করে। এভাবে ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও নিজের রূপ বদলে এলাকা ও বিডিএস অফিসে মাস্তানি অব্যাহত রেখেছে এই সুযোগসন্ধানী চাঁদাবাজ।
ঘুষ-বাণিজ্য ও বিডিএস অফিসে সাইফুলের একক আধিপত্য:
স্থানীয় অধিবাসীদের অভিযোগ, পানিশাইলের পলাশ হাউজিং সংলগ্ন সেটেলমেন্ট (বিডিএস) অফিসে প্রতিদিন বিপুল অংকের ঘুষ-বাণিজ্য চলে। বিএনপি কর্মী ও নেতা পরিচয়ের আড়ালে সাইফুল ও তার সহযোগী আব্দুর রহিম এবং আশরাফুল দীর্ঘদিন ধরে পুরো এলাকায় ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছে। এমনকি উক্ত সেটেলমেন্ট অফিস থেকেও তারা নিয়মিত 'সাপ্তাহিক চাঁদা' আদায় করত। ঘুষের সিন্ডিকেট নির্বিঘ্নে পরিচালনা করতে সে নিজেকে এই সেটেলমেন্ট অফিসের 'পোষা মাস্টার' বা প্রধান নিয়ন্ত্রক হিসেবে ঘোষণা করে আসছিল।
ঘটনাক্রম ও সাংবাদিকদের হত্যাচেষ্টা:
লিখিত অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ অক্টোবর ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) দুপুর আনুমানিক ১২:৩০ ঘটিকার সময় সাংবাদিক মো. রমজান মিয়া ও তাঁর সহকর্মীরা ওই অফিসে গিয়ে অনিয়ম ও চাঁদাবাজির তথ্য সংগ্রহ করতে যান। সেসময় বিডিএস অফিসের অনিয়ম ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় সাইফুল ইসলাম সরকার তার সহযোগীদের নিয়ে সাংবাদিকদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই সাইফুল, আব্দুর রহিম ও আশরাফুলসহ ৪/৫ জন সন্ত্রাসী সাংবাদিকদের ঘিরে ধরে অতর্কিত হামলা চালায় এবং এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর নীলাফুলা জখম করে। একপর্যায়ে মূল অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম সরকার সাংবাদিক রমজান মিয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে সজোরে গলা চেপে ধরে।
সাংবাদিকদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা হাত ছেড়ে দেয়, তবে ১০ মিনিটের মধ্যে এলাকা না ছাড়লে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
সাংবাদিকদের ক্ষোভ ও প্রশাসনের অবস্থান:
সাংবাদিকের ওপর এমন নগ্ন হামলা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় গাজীপুরসহ সারাদেশে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিক নেতারা এই মুখোশধারী চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার বলেন, "অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে। অপরাধী যে দলের বা পরিচয়েরই হোক না কেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং চাঁদাবাজির ঘটনায় কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
বর্তমানে কাশিমপুর থানা পুলিশ ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তবে রূপ পরিবর্তনকারী মাস্তান সাইফুলের গ্রেফতার ও সেটেলমেন্ট অফিসের ঘুষ সিন্ডিকেট গুঁড়িয়ে দিতে পুলিশের দৃশ্যমান পদক্ষেপের অপেক্ষায় আছেন ভুক্তভোগীরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক : ইসমাইল হোসেন সৌরভ,
নির্বাহী সম্পাদক:মো:শাহাবুদ্দিন খান
বার্তা প্রধান : মোহাম্মদ শাহ্ কামাল,
কপিরাইট © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত