গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভুয়া কর্মকর্তা সেজে সাধারণ নিরীহ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ, মোবাইল এবং সর্বস্ব লুটে নেওয়ার এক জঘন্যতম অপরাধের উৎসব শুরু করেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। ডিবির পবিত্র পোশাক ও পদের নাম ভাঙিয়ে রাতের আঁধারে এই ধূর্ত সিন্ডিকেট নিরীহ নাগরিকদের ব্ল্যাকমেইল ও সর্বস্বান্ত করছে। এই ন্যাক্কারজনক জালিয়াতি ও প্রকাশ্য চাঁদাবাজির ঘটনায় জেলাজুড়ে চরম গণঅসন্তোষ, তীব্র ক্ষোভ এবং জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
অনুসন্ধানে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১০ থেকে ১৫ জনের এই সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রটি দলবদ্ধ হয়ে রাতের আঁধারে নির্দিষ্ট কিছু বাড়ি ও এলাকায় হানা দিচ্ছে। চক্রের সদস্যরা নিজেদের ডিবির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা (ওসি) পরিচয় দিয়ে রাজনৈতিক তকমা, মাদক ব্যবসায়ী কিংবা ক্যাসিনো এজেন্ট বানানোর সাজানো ভয় দেখাচ্ছে। মামলা, গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের ভয় দেখিয়ে নিরীহ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা। বিশেষ করে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুককানুপুর ও দরবস্ত ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে এই প্রতারক চক্রের আনাগোনা ও জঘন্য হয়রানি সবচেয়ে বেশি জ্যামিতিক হারে বাড়ছে।
ডিবির নাম ব্যবহার করে এমন জঘন্য প্রতারণার বিরুদ্ধে কঠোর ও আপসহীন অবস্থানের কথা জানিয়েছেন গাইবান্ধা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল মোত্তালিব সরকার। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী এবং ডিবির নাম ব্যবহার করে ত্রাস সৃষ্টিকারী এই সিন্ডিকেটের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। এই জালিয়াত চক্রের মূল হোতা ও তাদের নেপথ্যের মদদদাতাদের টেনে হিঁচড়ে খাঁচায় পুরতে ডিবি ও থানা পুলিশ যৌথভাবে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করার পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েছে।
ডিবি পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনো সচেতন নাগরিকেরই এই ভুয়া চক্রের হুমকিতে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। কেউ ডিবি বা থানা পুলিশের পরিচয় দিয়ে কোনো বাড়িতে হানা দিলে বা অর্থ দাবি করলে, তৎক্ষণাৎ তাদের অফিশিয়াল পরিচয়পত্র ও অভিযানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করতে হবে। জনগণকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার এবং সন্দেহভাজন দেখা মাত্রই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সরাসরি তথ্য দিয়ে সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : ইসমাইল হোসেন সৌরভ,
নির্বাহী সম্পাদক:মো:শাহাবুদ্দিন খান
বার্তা প্রধান : মোহাম্মদ শাহ্ কামাল,
কপিরাইট © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত