তপন দাস, নীলফামারী
নীলফামারীর জলঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত বাস হেলপার সাব্বির হোসেনের চিকিৎসা ও খোঁজখবর না নেওয়ার অভিযোগে যমুনা লাইন পরিবহনের একটি ঢাকাগামী যাত্রীবাহী বাস আটক করেছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। আহত হেলপারের চিকিৎসা ও সার্বিক দায়িত্ব নেওয়ার দাবিতে মঙ্গলবার রাতে ডোমার-ডিমলা সড়কের সালনগ্রাম এলাকায় বাসটি আটক করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ অক্টোবর ডিমলা উপজেলা থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয় যমুনা লাইন পরিবহনের একটি বাস। পথে সাভার থানা এলাকায় বাসটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে বেশ কয়েকজন যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং বাসের হেলপার সাব্বির হোসেন গুরুতর আহত হন।
সাব্বির নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বালাগ্রাম ইউনিয়নের সালনগ্রাম এলাকার বাসিন্দা মশিয়ার রহমানের ছেলে। দুর্ঘটনার পর তাঁকে প্রথমে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অর্থসংকটের কারণে তাঁর বাবা-মা উন্নত চিকিৎসার আশায় তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাব্বিরের একটি পা কেটে ফেলতে হয়েছে। অপর পাটিও গুরুতর ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে সাব্বিরের বাবা মশিয়ার রহমান অন্যের জমিতে বসতবাড়ি করে কষ্টে জীবিকা নির্বাহ করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, দুর্ঘটনার ১৩ দিন পেরিয়ে গেলেও বাস কোম্পানির মালিকের পক্ষ থেকে তাঁর ছেলের কোনো খোঁজখবর নেওয়া হয়নি। এমনকি চিকিৎসার ব্যয় বহন বা চিকিৎসাসহায়তার ক্ষেত্রেও কোনো সহযোগিতা করা হয়নি।
আহত সাব্বিরের এমন অসহায় অবস্থার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার রাতে ডিমলা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী যমুনা লাইন পরিবহনের একটি চেয়ারকোচ সালনগ্রাম এলাকায় আটক করেন তাঁরা।
এ সময় বাসটি নিজেদের হেফাজতে রেখে পরিবহন কোম্পানির মালিককে সাব্বিরের চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়া এবং তাঁর সার্বিক দেখভালের ব্যবস্থা করার দাবি জানান এলাকাবাসী।
এলাকাবাসীর দাবি, দুর্ঘটনায় আহত একজন কর্মীর চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দায়িত্ব যথাযথভাবে নিশ্চিত করতে হবে। তাঁদের প্রত্যাশা, পরিবহন কর্তৃপক্ষ দ্রুত এগিয়ে এসে সাব্বিরের চিকিৎসা ও ভবিষ্যৎ জীবনের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : ইসমাইল হোসেন সৌরভ,
নির্বাহী সম্পাদক:মো:শাহাবুদ্দিন খান
বার্তা প্রধান : মোহাম্মদ শাহ্ কামাল,
কপিরাইট © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত