
সোহাগ হাওলাদার:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা–১৪ আসনে ক্রমেই জমে উঠছে রাজনৈতিক সমীকরণ। মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি ও দলীয় তৎপরতা বিশ্লেষণে এ আসনে এবার ত্রিমুখী নির্বাচনী লড়াইয়ের আভাস মিলছে। এতে করে দীর্ঘদিনের শক্ত অবস্থান থাকা সত্ত্বেও বিএনপির আসন ধরে রাখা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা–১৪ আসনে এবার ক্ষমতাসীন দল, বিএনপি এবং একটি শক্তিশালী তৃতীয় পক্ষ বা স্বতন্ত্র প্রার্থীর উপস্থিতি ভোটের হিসাবকে জটিল করে তুলেছে। অতীতে বিএনপির ভোটব্যাংক তুলনামূলকভাবে সুসংহত থাকলেও বর্তমানে দলীয় কোন্দল, নেতৃত্ব সংকট ও মাঠের সাংগঠনিক দুর্বলতা ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী নিয়মিত গণসংযোগ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরলেও বিএনপির প্রার্থী এখনও পুরোপুরি মাঠ গোছাতে পারেননি। অপরদিকে, প্রভাবশালী তৃতীয় পক্ষের প্রার্থী স্থানীয় পর্যায়ে আলাদা ভোটব্যাংক তৈরি করতে সক্ষম হওয়ায় বিএনপির ঐতিহ্যগত ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপি নেতার দাবি- ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও বিএনপির মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন তুখোড় রাজনীতিবিদ এসএ সিদ্দিক সাজু। এছাড়া তিনি মাঠ পর্যায়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতিক নিয়ে সক্রীয় ভুমিকায় রয়েছেন। যার ফলে বিএনপির ভোট বিভক্তি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা আগেভাগেই নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পন্ন করায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে প্রধান শক্তিশালী বিরোধী দল জামায়াতে-ইসলাম। জামায়াতে-ইসলাম মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাশেম আরমান এর ঢাকা- ১৪ আসেন ব্যাপক পরিচিতি না থাকলেও নির্বাচনী সমীকরণে বিএনপির ভোট বিভক্তির আশঙ্কায় রয়েছেন বেশ সম্ভাবনার স্থানে। এলাকার একজন সাধারণ ভোটার নজরুল মিয়া- বিরূপ মন্তব্য করে বলেন, দিনের বেলায় অনেককেই দেখছি, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি আপার জন্য কাজ করছেন, আবার তারাই রাতে সাজু ভাইয়ের সাথে দেখা করছেন। এটা বিএনপির জন্য ১৪ আসনে অশনি সংকেত।
সব মিলিয়ে ঢাকা–১৪ আসনে এবার নির্বাচন হাড্ডাহাড্ডি ও অনিশ্চিত হতে যাচ্ছে। ভোটের শেষ মুহূর্তে সমীকরণ বদল না হলে বিএনপির জন্য এ আসন ধরে রাখা কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।