
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজনৈতিক সহিংসতা, বাবার নৃশংস হত্যাকাণ্ড এবং মিথ্যা মামলায় ভাইয়ের গ্রেপ্তারের পর প্রাণভয়ে আত্ম গোপনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের তরুণ ছাত্রনেতা রিফাত মিয়া (২২)।
রিফাত মিয়া জানান, তিনি নাসিরনগর সরকারি ডিগ্রি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং গোকর্ণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি একটি মানবিক সংগঠন “টিম মানবিক শওকত”-এর সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
রিফাতের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাতে নিজ বাড়িতে বিএনপি ও জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীরা তার বাবা আবু লাল মিয়াকে কুপিয়ে হত্যা করে। সে সময় বাড়িতে তার মা ও বড় ভাই উপস্থিত ছিলেন তারা তাদের প্রাণ বাঁচানোর জন্য ঘর থেকে পালিয়ে যান এবং রিফাত আরো জানান তিনি সেই সময় কক্সবাজারে মানবিক কাজে নিয়োজিত ছিল,
রিফাত বলেন,
“আমার বাবা নাসিরনগর আওয়ামী লীগের সাবেক সংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। আমরা রাজনৈতিকভাবে পরিচিত পরিবার ছিলাম। ”
ঘটনার পর পুলিশকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
হত্যার পর ৭ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। কিন্তু এরপর থানায় মামলা করতে গেলে থানার দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ করেন রিফাত মিয়া। নিরাপত্তার অভাবে বাবার লাশ নিজ বাড়ির পরিবর্তে মামার বাড়িতে দাফন করা হয়।
দাফনের দুই দিন পর উল্টো তাদের দুই ভাইয়ের নামে বিএনপি-জামায়াতের প্রভাবশালী নেতাদের প্ররোচনায় রিফাত ও তার বড় ভাই রিহানের বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়।
রিফাতের বিরুদ্ধে করা হয়—
১..হত্যা মামলা
অস্ত্র মামলা
২..একই ধরনের মামলা হয় তার ভাইয়ের বিরুদ্ধেও।
১০ আগস্ট রাতে মামার বাড়ি থেকে বড় ভাই রিহানকে গ্রেপ্তার করা হয়। রিফাত অন্যত্র থাকায় গ্রেপ্তার এড়াতে সক্ষম হন।
মানসিক বিপর্যয়ে মা,
এই ঘটনার পর রিফাতের মা গুরুতর মানসিক সমস্যায় ভুগছেন বলে জানান তিনি।
“স্বামীকে চোখের সামনে কুপিয়ে হত্যা, ছেলেকে জেলে পাঠানো—এসব সহ্য করতে না পেরে মা প্রায় মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন।
এলাকার স্থানীয় জনগন এবং চেয়ারম্যান মেম্বারের সাথে যোগাযোগ করিয়া জানা যায় যে রিফাতের পরিবার খুবই ভালো এবং বিভিন্ন মানবিক কাজের সাথে জড়িত, এলাকার কুচক্রী মহল রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করার জন্য মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করিতেছে।