
নিজস্ব প্রতিবেদক:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে একটি পুরাতন লোহার ব্রিজ নিলাম ছাড়াই খুলে নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ৮নং ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মকলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে। উপজেলার রাজিবপুর গ্রামে এলজিইডি (LGED) কর্তৃক নির্মিত এই ব্রিজটি দিনের আলোতেই শ্রমিক দিয়ে সরিয়ে ফেলা হয় বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের রাজিবপুর এলাকায় জনগুরুত্বপূর্ণ একটি পুরাতন লোহার ব্রিজ দীর্ঘদিন ধরে সেখানে ছিল। অভিযোগ রয়েছে, কোনো প্রকার দরপত্র আহ্বান বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ইউপি চেয়ারম্যান মকলেছুর রহমান তার নিজস্ব লোক ও শ্রমিক লাগিয়ে ব্রিজটির লোহার এঙ্গেল ও অন্যান্য মূল্যবান মালামাল খুলে ফেলেন। সরকারি সম্পদ এভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, এলজিইডি-র কোনো পুরাতন কাঠামো অপসারণ করতে হলে তা প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করার বিধান রয়েছে, যার অর্থ সরাসরি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হয়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে কোনো নিয়মের তোয়াক্কা না করায় এটি সরাসরি ‘রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট’ হিসেবে গণ্য হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি বিষয়টিকে হালকাভাবে এড়িয়ে যান। তবে স্থানীয় উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা গেছে, ব্রিজটি নিলামের কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই এবং এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজিবপুর গ্রামের সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—জনপ্রতিনিধি হয়েও কিভাবে চেয়ারম্যান সরকারি সম্পদ এভাবে নিজের কবজায় নিতে পারেন? তারা এই লুটপাটের সুষ্ঠু তদন্ত এবং আত্মসাৎকৃত মালামাল উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।