
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ২নং গাজীপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মেকার পাড়া গ্রামে সরকারি রাস্তার কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের নিয়ম উপেক্ষা করে নিম্নমানের ইট ব্যবহার এবং ‘এজেন’ (সুরক্ষা দেয়াল) ছাড়াই রাস্তার কাজ করার বিষয়ে জানতে চাইলে সংবাদকর্মীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য ও তার স্বামী।
সরেজমিনে জানা গেছে, মেকার পাড়া এলাকায় বর্তমানে একটি গ্রামীণ রাস্তার ইটের সলিংয়ের কাজ চলছে। প্রকল্পের তদারকির দায়িত্বে আছেন ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য কামরুন নাহার সাঈদ। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি সিডিউল অনুযায়ী কাজ না করে সেখানে অত্যন্ত নিম্নমানের ও নামমাত্র ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। সবচেয়ে বড় অনিয়ম দেখা গেছে রাস্তার দুই পাশে ইটের সুরক্ষা দেয়াল বা এজেন না দেওয়ায়। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এজেন না থাকায় সামান্য বৃষ্টি বা যান চলাচলেই এই সলিং ভেঙে পড়বে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে ওই এলাকায় তথ্য সংগ্রহে গেলে সাংবাদিকরা রাস্তার এই ত্রুটিপূর্ণ কাজের বিষয়ে কামরুন নাহার সাঈদের কাছে জানতে চান। এসময় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “ইটের সলিং রাস্তার দুই পাশে এজেন দিতে হবে এমন কোনো কথা নেই।” সংবাদকর্মীরা প্রকল্পের সঠিক নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুললে তিনি এবং তাঁর সাথে থাকা স্বামী মো. আবু সাঈদ উত্তেজিত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তারা উপস্থিত সকল সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন এবং কোনো সদুত্তর না দিয়েই দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এই ঘটনার পর রোববার (৪ জানুয়ারি) অভিযুক্ত নারী ইউপি সদস্য কামরুন নাহার সাঈদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মেম্বার এবং তার স্বামী সিন্ডিকেট করে সরকারি বরাদ্দের বড় একটি অংশ আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে এই দায়সারা কাজ করছেন। এর আগেও বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে তাদের বিরুদ্ধে এমন স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। একজন জনপ্রতিনিধির মুখে সাংবাদিকদের প্রতি এমন কুরুচিপূর্ণ ভাষা ও আচরণের ঘটনায় স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
মেকার পাড়াবাসী অবিলম্বে এই নিম্নমানের কাজ বন্ধ করে সরকারি প্রাক্কলন অনুযায়ী সঠিক নিয়মে রাস্তা নির্মাণের দাবি জানিয়ে উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।