1. info@www.dailybdcrimetimes.com : দৈনিক বিডি ক্রাইম টাইমস.কম :
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৩৪ অপরাহ্ন
Title :
শিক্ষার বেহাল দশা,মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী বরাবর খোলা চিঠি, সময় বহিয়া যায়, সকাল সন্ধ্যায়, কথায় কথায় (পর্ব -১) গাজীপুরের কাউলতিয়া ইউনিয়নে অবৈধ ভাবে মাটি কাটার অভিযোগ বাউফলে শিশু ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে যুবক আটক, যুবকের দাবি শত্রুতার জেরে ফাঁসানো হয়েছে গাজীপুরে মাদ্রাসার এতিমের টাকা আত্মসাৎ (পর্ব -১) দায়িত্ব গ্রহণ করলেন নবনিযুক্ত আইজিপি ঢাকার যানজট নিরসন, ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটির নব নিযুক্ত দুই প্রশাসকের কাছে খোলা চিঠি নীলফামারীতে গোড়গ্রাম ইউনিয়নের ভবানীগঞ্জ বাজারে অবৈধ ৪টি টিনসেট উচ্ছেদ ডাকাতের এলোপাথাড়ি গুলিতে পাথরঘাটায় দুই মৎসজীবী আহত জামায়াতের হাতে খালি নাটাই , ঘুড়ি নেই আকাশে, বাতাসের গতিও ধীরগতিতে, ছদ্মবেশেই অনেক দুর! জেলা গোয়েন্দা শাখা, বরগুনার বিশেষ অভিযানে ০৪ আসামি গ্রেফতার

শিক্ষার বেহাল দশা,মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী বরাবর খোলা চিঠি, সময় বহিয়া যায়, সকাল সন্ধ্যায়, কথায় কথায় (পর্ব -১)

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৪ Time View

অথই নূরুল আমিন

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা ভালোবাসা এবং অগাধ বিশ্বাস রেখেই, আজকের লেখাটি শুরু করতে যাচ্ছি। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, আপনি যখন ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ছিলেন, তখন আপনার বেশকিছু কার্যক্রম আমার কাছে ভালো লেগেছিল, যেমন নকল প্রতিরোধ ব‍্যবস্থা, সাগরের ইলিশ সুরক্ষা, শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতি এবং শিক্ষাব্যবস্থায় যথেষ্ট পরিবর্তন লক্ষণীয়। এখানে তখনকার সময়ের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর প্রশংসা ও খুব জোরেই করতে হবে।

তারপরও কথা থেকেই যায়। আর তা হলো তখনকার সময়ে আপনারা শিক্ষা নিয়ে যাই করেছেন। কিন্তু কোনো দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরেননি। বা দুর্নীতি বন্ধ করার মত কোনো ব‍্যবস্থাই গ্রহণ করেননি। আজকে যদি প্রশ্ন করি ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত আপনারা সেদিন যখন যাই করেছেন। বিশেষ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে, তা হলো গর্তের ভিতরে ইঁদুর রেখে উপরে ঢাকনা দিয়েছিলেন মাত্র ।

আমরা জানি শিক্ষাখাতে, বিশেষ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে, যারা চাকরি করে সচিব থেকে পিয়ন পর্যন্ত, প্রায় ৯৯% কর্মকর্তা- কর্মচারী,তারা সবাই অসৎ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, উপ – সচিব, জেলা- উপজেলা, শিক্ষা অফিসার বা শিক্ষা পরিদর্শক সবাই যদি অসৎ থাকে। তাহলে ছেলে / মেয়েরা সু শিক্ষিত হবে কি করে? মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রীর কাছে আমার প্রশ্ন?

অন‍্য দিকে প্রাথমিক পর্যায়ে যখনই শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। তখনই চলে আসে ঘুষের বিষয়। তাও সেই ঘুষের পরিমাণ আপনাদের সেই আমলে, লাখ দুই লাখেই হয়ে যেত সম্ভবত। এখন সেটা তিন থেকে পাঁচ লাখ পর্যন্ত আছে। আর অধিদপ্তর, জেলা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নিয়োগের বেলায় সাগর চুরি বলাই যায়। দশ লাখ পর্যন্ত শোনা যায়। এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার কারণে শিক্ষার্থীদের জন্য গাইড বই বিক্রি করে, বাংলা বাজারের কিছু অসাধু প্রকাশক। সেখানে চলে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য। অন‍্যদিকে কিন্ডারগার্টেন প্রতিষ্ঠান গুলো বিনামূল্যের সরকারি পাঠ‍্যপুস্তক পাওয়ার পরেও কিন্ডারগার্টেন পদ্ধতির বই উচ্চ দামে বিক্রি করছে ছাত্র ছাত্রীদের অভিভাবকদের কাছে। এ যেন দিবা চুরি চলছে দেশে। শুধুমাত্র শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি আর অযোগ্যতার কারণে। তাই বিগত চুয়ান্ন বছর ধরে বিশেষ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সকল কর্মকর্তারা অযোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছে। স্কুল কলেজের শিক্ষকেরা তাদের নিজেদের সংসারজীবন নিয়ে চিন্তা করেছে। বেতন ভাতা বাড়ানোর জন্য উল্টা সরকারের বিপক্ষে আন্দোলন গড়ে তুলছে। আর সমগ্র জাতি সুশিক্ষা থেকে ঝরে পরেছে দিন দিন। দেশের জনগণ হয়ে উঠেনি দেশপ্রেমিক হয়ে। এভাবে একটি দেশের শিক্ষা ব‍্যবস্থা চলতে পারে না মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী।
আজকে আপনি একজন মন্ত্রী হিসেবে কয়েকটি নীতি পরিবর্তন করবেন হয়তো। বেশ কিছু পদ্ধতি পরিবর্তন করবেন হয়তো, তাতেই কি শিক্ষার মান ভালো হয়ে যাবে বলে আপনি মনে করবেন? না তা কখনও হবে না। আপনি হাজার টন ময়লার উপরে বসে থেকে দুই চার কেজি ময়লা সরিয়ে দিয়ে বলবেন। এখানে আর ময়লা নেই বা সব ময়লা সরিয়ে দিয়েছি বলবেন।তারপর আপনার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। এখানে অন‍্য আরেকজন মন্ত্রী আসবেন। তারপর তিনি আরেকটু পন্ডিতি দেখাবেন। এই আইন, সেই আইন,. এই সেই রদবদল করে, একদিন তিনিও চলে যাবেন। এভাবেই সারাজীবন সীতার গীত সবাই জানবে শুনবে। তারপর অন‍্যজনকে জিজ্ঞেস করবে ” সীতা কার বাপ? ” এখানে আরেকটি কথা না বললেই নয়। মনে করুন এই লেখাটি চিঠি আকারে করে যদি আপনার নামে সচিবালয়ে প্রেরণ করি আপনার কোনো সহকর্মী যদি এই চিঠিটা খুলে পড়ে তারপর আপনার কাছে আর ঐ চিঠিটা দিবে না। তারও দুটি কারণ থাকতে পারে। একটা হলো সে ভাববে এই চিঠির বিষয় গুলো যদি বাস্তবায়ন হয়। তাহলে আমাদের সকলের ভাত মরবে। অন‍্যটা হলো সে ভাবতে পারে এটা স‍্যারকে দিলে স‍্যার রেগে যেতে পারেন।
মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়ের কাছে নিম্নে দেয়া আমার প্রস্তাব গুলো বাস্তবায়ন করুন। না পারলে শিক্ষার অবস্থা কামারের লোহা পিটানোর মতই হবে, যেই সেই যেই সেই।
১. ওয়ান থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত, সকল শিক্ষার্থীদের ( সরকারি বেসরকারি এমপিওভূক্ত, কিন্ডারগার্টেন, ইংলিশ স্কুল, মাদ্রাসাসহ ) অবৈতনিক শিক্ষাব্যবস্থা চালু করুন। ( পর্যায়ক্রমে মাষ্টার্স পর্যন্ত অবৈতনিক করার পরিকল্পনাও করবেন ) কারণ বিশেষ করে বাংলাদেশে ধনী পরিবারের সংখ্যা ১৫% মধ‍্যবিক্ত পরিবারের সংখ্যা ৩০% গরিব পরিবারের সংখ্যা ৪৫% ভাসমান বা নিঃশ্ব পরিবারের সংখ্যা ১০% অথচ শিক্ষাখাতে দুর্নীতি করতে করতে ঐ শিক্ষা খরচ মধ‍্যবিক্ত পরিবারের নাগালের বাহিরে আছে। গরিব পরিবার আর ভাসমানেরা তো বেসরকারি স্কুল কলেজ চিন্তাই করতে পারে না।
২. নবীন শিক্ষক নিয়োগ দিন, প্রয়োজনে কলেজ পড়ুয়াদের সুযোগ দিন, চাকরির মেয়াদ বিশ বছর করুন।
৩. এমপিওভূক্ত এরকম বাটপারী সম্পূর্ণ পদ্ধতি বাতিল করুন।
৪. পঞ্চাশ উর্ধ্ব বয়স্ক সকল শিক্ষক শিক্ষিকাদেরকে পেনশন দিয়ে অবসরপ্রাপ্ত করুন।
৫. শিক্ষক সমিতি, শিক্ষক সোসাইটি,শিক্ষক কর্মচারী দাবী পরিষদ বাতিল করে নতুন গেজেট প্রকাশ করুন।
৬. বাংলাদেশের সকল শিক্ষাব্যবস্থা থাকবে সরকার নিয়ন্ত্রিত। সকল প্রকার শিক্ষা পদ্ধতির শিক্ষকগণ পাবেন সরকারি বেতন।
৭. প্লে, নার্সারি, কেজি পদ্ধতি সম্পূর্ণ বাতিল করুন।
৮. কিন্ডাগার্টেন, ইংলিশ মেডিয়াম মাদ্রাসাসহ সকল প্রকার শিক্ষা ক্ষেত্রে সকল শিক্ষক শিক্ষিকাদের থাকবে সরকারি চাকরি,সরকারি বেতন- পেনশন ভাতা, পারলে সেই ব‍্যবস্থা করুন। তাও তারা বা তাদের প্রজন্ম বলতে পারবেন। একদিন উনি সরকারি চাকরি করতেন।
৯. সকল শিক্ষকদের চাকরির মেয়াদ থাকবে বিশ বছর। বিশ বছর চাকরি জীবনে সরাসরি প্রমোশন হবে না। সকল প্রকার পদের জন‍্য আলাদা আলাদা নিয়োগ হবে, যার যার যোগ্যতা হিসেবে তারা আবেদন করবেন।পারলে তাই করুন।
১০. মাসে একদিন করে বন্টন কৃত এলাকায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ তারা ক্লাস নিবেন। মাঝে মাঝে যার যার বাহিনী থেকে ট্রেনিং শেখাবেন। ১০. সরকারি ডাক্তারগণ তাদের রুটিন অনুযায়ী স্বাস্থ্য সচেতন ক্লাস নিবেন।
কাজের কাজ করুন। ছয় মাস পরে যেন লিখতে না হয়। ডা. দীপু মনির মত করে, অযোগ্য শিক্ষামন্ত্রী।শুধুমাত্র সবশেষে তরকারিতে লবন দেয়ার কাজটি করেই বলতে যাবেন না। হামচে বড়ো কৌন হ‍্যায়। দ্বিতীয় পর্বে থাকছে…

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved