
নিজস্ব প্রতিবেদক:
আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলেন মাগুরা জেলার মহম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃআশরাফুজ্জামান গত ২৪/০১/২০২৬ ইং তারিখে আদালত থেকে আসা গ্রেফতারি ওয়ারেন্ট মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় ওয়ারেন্টভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার না করার অভিযোগ উঠেছে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বিরুদ্ধে। ওয়ারেন্টভুক্ত এক আসামিকে দীর্ঘদিনেও গ্রেপ্তার না করায় স্থানীয় মহল ও ভুক্তভোগীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী বাদীর অভিযোগ, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে আদালত থেকে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর তিনি একাধিকবার মহম্মদপুর থানায় গিয়ে আসামিকে গ্রেপ্তারের অনুরোধ জানান। কিন্তু তার অভিযোগ, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন।
পরবর্তীতে তিনি মহম্মদপুর প্রেসক্লাবে গিয়ে বিষয়টি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।
অভিযুক্ত আসামি মো. তানভীর রহমান রাজু (পিতা: মৃত আবুল হোসেন মোল্লা), গ্রাম: জাঙ্গালিয়া, থানা: মহম্মদপুর, জেলা: মাগুরা।
সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে মহম্মদপুর থানায় ২-৩টি এবং ঢাকার বিভিন্ন থানায় ৪-৫টিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া ঢাকার রমনা থানার একটি মামলা বর্তমানে ডিবির সাইবার ক্রাইম ইউনিটে তদন্তাধীন।
আইসিটি আইনে একাধিক অভিযোগ, ভুয়া খবর মহম্মদপুর ফেসবুক আইডি পরিচালনা এবং অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
থানার ভেতরের চিত্র: ‘ওসি স্যারের নির্দেশ ছাড়া কিছুই সম্ভব নয়’
থানার একাধিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মহম্মদপুর থানায় বর্তমানে ১০০০-এরও বেশি গ্রেফতারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) অনিষ্পন্ন রয়েছে। তাদের ভাষ্য,
“এত বিপুল সংখ্যক ওয়ারেন্ট থাকা সত্ত্বেও আমরা অনেক ক্ষেত্রেই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারি না। ওসি স্যারের সরাসরি নির্দেশ ছাড়া কোনো আসামিকে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।”
ওসির বক্তব্য: ‘ওয়ারেন্ট পুরনো, আসামি অসুস্থ’এ বিষয়ে মহম্মদপুর থানার ওসি মো. আশরাফুজ্জামান বলেন,
ওয়ারেন্টটি অনেক পুরনো হওয়ায় তা তামিল করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া আসামি অসুস্থ রয়েছে। তিনি আরও জানান,
উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় অনেক সময় গ্রেপ্তার কার্যক্রম বিলম্বিত হয়।
মাগুরার পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন,আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করা পুলিশের দায়িত্ব। কোনো আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলে তাকে গ্রেপ্তার করাই স্বাভাবিক ও আইনসম্মত প্রক্রিয়া।
আইন বিশেষজ্ঞের মতামত সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো: নজরুল ইসলাম বলেন,গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলে তা বাস্তবায়ন করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাধ্যবাধকতা। এখানে অবহেলার সুযোগ নেই।
রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন,আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। যার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে, তাকে গ্রেপ্তার করা উচিত। বিচার করবে আদালত।
অভিযুক্ত তানভীর রহমান রাজুর পরিবারের একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তার আচরণে পরিবার দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কিত ও অস্বস্তিতে রয়েছে।
পরিবারের এক সদস্যের দাবি,তার আচরণ ও কর্মকাণ্ডের কারণে পরিবারের সদস্যরা অনেক সময় দূরে থাকতে বাধ্য হন। আমরা চাই বিষয়টি আইন অনুযায়ী সমাধান হোক।
অনুসন্ধানে আরও অভিযোগ উঠেছে যে, মহম্মদপুর থানার এক উপ-পরিদর্শক (এসআই) মামুন আসামি তানভীর রহমান রাজুকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছেন। স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, তিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত এবং তার নির্দেশনা অনুসারেই বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন।
এছাড়া সূত্রগুলো আরও দাবি করে,থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তিনি অতীতে রাজনৈতিক সুপারিশের ভিত্তিতে পুলিশ বাহিনীতে এসআই পদে ২০০০ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালনে অনিয়ম করছেন। এমনকি আসামিকে গ্রেপ্তার না করার পেছনে প্রভাব বা অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও তা বাস্তবায়নে বিলম্ব বা গাফিলতির অভিযোগ নতুন করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতির সুষ্ঠু সমাধান প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।
এসআই মামুন তাদেরকে আদালত থেকে জাবিন নেয়ার পরামর্শ দেন এই রিপোর্টটি লেখা পর্যন্ত রাজু ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী টুকটুকি এখন মাগুরা আদালতে।