
এম জাফরান হারুন::
পটুয়াখালীর বাউফলে সন্তানের পিতৃপরিচয় ও বৈবাহিক স্বীকৃতির দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন করেছিলেন নিপা আক্তার (২৩) নামের এক তরুণী। কোলে ছয় মাস বয়সী শিশুকে নিয়ে তার এই অবস্থান নেওয়ায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল।
পরবর্তীতে বাউফল থানায় মামলা হলে পটুয়াখালী বিজ্ঞ অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত আমলে নিয়ে বাউফল থানাকে ডিএনএ টেস্টের জন্য আলামত সংগ্রহ পূর্বক ফরেনসিক সিআইডি কে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে নিপা আক্তারের নমুনা রক্ত, শিশু বাচ্চা আরিয়ানের দুইটি নমুনা বাক্কাল সোয়াব ও কবির হাওলাদারের নমুনা রক্ত সংগ্রহ পূর্বক আলামত নিয়ে ফরেনসিক সিআইডিতে ডিএনএ টেস্ট হলে বাবা কবির হাওলাদারই বাবা শনাক্ত হয়েছে।
উল্লেখ্য, উপজেলার সূর্যমণি ইউনিয়নের গোয়ালিয়াবাগা গ্রামে চলতি বছরের গত ২০ই এপ্রিল- ২০২৬ সালের সোমবার প্রেমিক কবির হাওলাদারের নিজ বাড়িতে বিকেল থেকে অবস্থান নেন নিপা আক্তার। ওইসময় আগমনের খবর পেয়ে কবির ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান।
পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, নিপার সঙ্গে জহির নামের এক ইটভাটা শ্রমিকের বিয়ে হয়েছিল এবং তাদের একটি চার বছর বয়সী কন্যাসন্তান রয়েছে। প্রায় দেড় বছর আগে স্বামী কাজের জন্য বাইরে গেলে প্রতিবেশী কবির হাওলাদারের সঙ্গে নিপার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। নিপার দাবি, বিয়ের আশ্বাসে কবির তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন যার ফলে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন।
পরে স্বামী বাড়ি ফিরে বিষয়টি জানতে পেরে বিবাহবিচ্ছেদ করেন। এরপর নিপা একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। ওইসময় যার বয়স হয়েছিল ছয় মাস। শিশুটির পিতৃত্ব নিয়ে সৃষ্টি হয় জটিলতা। নিপার বাবা জুলফু হাওলাদার তখন অভিযোগ করে বলেন, তার মেয়ের জীবন ধ্বংস হয়েছে এবং নবজাতকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়েছে। তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে সন্তানের পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করার দাবি জানান। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলে দ্রুত ব্যবস্থা নেন বাউফল থানা প্রশাসন।
এবিষয়ে ঘটনার সত্যতা জানিয়ে বাউফল থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ডিএনএ টেস্টে ধরা পড়েছে বাবা কবির হাওলাদার। আমাদের পরবর্তী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।