
নিজস্ব প্রতিবেদক
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হরিনাবাড়ীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে তিন ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি (টপ সয়েল) কাটার এক অশুভ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী চক্র কৃষকদের প্রলোভন দেখিয়ে দেদারসে বিক্রি করছে আবাদী জমির মাটি, যা স্থানীয়ভাবে এখন ‘মাটি বিক্রির মহোৎসবে’ রূপ নিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হরিনাবাড়ী এলাকার বিস্তীর্ণ ফসলি জমিতে বড় বড় এস্কেবেটর (ভেকু) দিয়ে গভীর গর্ত করে মাটি কাটা হচ্ছে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, জমির উপরের ৮-১০ ইঞ্চি মাটি হচ্ছে সবচেয়ে উর্বর অংশ। এই মাটি কেটে ফেলায় জমিগুলো স্থায়ীভাবে উর্বরতা হারাচ্ছে এবং ফলন মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পাশের জমির মালিকরা বাধ্য হয়ে তাদের মাটি বিক্রি করছেন, কারণ পাশের জমি নিচু হয়ে যাওয়ায় তাদের জমি ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
মাটি পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত বিশালাকার ট্রাক্টর ও ট্রলিগুলো (কাঁকড়া গাড়ি) গ্রামীণ সরু রাস্তা দিয়ে বেপরোয়া গতিতে চলাচল করছে। এতে এলজিইডি’র নির্মিত পাকা রাস্তাগুলো ভেঙে ধুলোয় মিশে যাচ্ছে। অতিরিক্ত ধুলোবালির কারণে রাস্তার ধারের বাড়িঘর ও গাছপালা বিবর্ণ হয়ে পড়ছে, সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র স্বাস্থ্যঝুঁকি। বিশেষ করে স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের চলাচল এখন বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অবৈধভাবে মাটি কাটা বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন মাঝেমধ্যেই অভিযান পরিচালনা করছে। গত কয়েক দিনে পলাশবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কয়েক লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। তবে প্রশাসনের অভিযানের খবর পেলেই মাটি দস্যুরা গা-ঢাকা দেয় এবং অভিযান শেষে পুনরায় শুরু হয় মাটি কাটার কাজ।
এলাকাবাসীর দাবি, শুধুমাত্র জরিমানা করে এই মহোৎসব থামানো সম্ভব নয়। ফসলি জমি রক্ষা এবং গ্রামীণ অবকাঠামো টিকিয়ে রাখতে মাটি কাটার সাথে জড়িত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা এবং নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।
পলাশবাড়ী উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, কৃষি জমি রক্ষায় কোনো প্রকার আপস করা হবে না এবং এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।