
নিজস্ব প্রতিবেদক:
“বাংলাদেশ আমার অহংকার”- এই স্লোগান নিয়ে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) প্রতিষ্ঠাকাল থেকে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ নির্মূল ও মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে চাঞ্চল্যকর অপরাধে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
র্যাব সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ নির্মূলের পাশাপাশি বিভিন্ন সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য ও প্রতারকদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য সদা সচেষ্ট। এরই ধারাবাহিকতায়, গত ১১ মে ২০২৬ তারিখ রাতে র্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল ঢাকা মহানগরীর মিরপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এবং অস্ট্রেলিয়া, ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে উচ্চ বেতনে লোক পাঠানোর নামে প্রতারণা চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলোঃ (১) নুসরাত জাহান(২৮) এবং (২) মোঃ সোহান(২৪)।
মামলার এজাহার ও গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়,অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পল্লবী থানাধীন এলাকায় “বিএফসি গ্লোবাল কনসালটেন্সি” নামক অফিস খুলে ফেসবুক বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আর্কষণীয় বেতনে অস্ট্রেলিয়া, ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কাজের সুযোগের প্রচারণা চালায়। সে সুবাদে ভুক্তভোগীগণ বিগত ৬ মাস পূর্বে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অফিসে গিয়ে তাদের সাথে অস্ট্রেলিয়া, ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যাওয়া ব্যাপারে কথাবার্তা বলে। এ সময় তাদের জানানো হয়, অস্ট্রেলিয়া যেতে জন প্রতি ৯ লক্ষ, কুয়েত যেতে ৬ লক্ষ এবং ইতালি যেতে ২০ লক্ষ টাকা এবং সার্ভিয়াতে যেতে জন প্রতি ৮ লক্ষ টাকা প্রদান করতে হবে। এমতাবস্থায় অভিযুক্তদের সাথে চুক্তির পরে ভুক্তভোগীগণ কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংক একাউন্টে সর্বমোট সাড়ে ৩ কোটি টাকা প্রদান করে এবং ০৩ মাসের মধ্যে বিদেশে পাঠানোর চুক্তি করে। টাকা প্রদানের ১ মাস পর ভুক্তভোগীদের ভুয়া অস্ট্রেলিয়ান ভিসা প্রদান করে। বর্ণিত আসামিগণ ফ্লাইটের তারিখ নির্ধারণ করে ভুক্তভোগীদের নিকট বুকিং করা এয়ার টিকিট প্রদান করে এবং ফ্লাইটের তারিখ আসার ১ দিন পূর্বেই বিভিন্ন অযুহাত দেখিয়ে টিকিট বাতিল হয়েছে মর্মে প্রতারণা করে।
উক্ত ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারিত হয়। এ সংক্রান্তে পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পরপরই র্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল জড়িত আসামিদের আইনের আওতায় আনতে ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা সূত্রের ভিত্তিতে দুইজনের অবস্থান সনাক্তের মাধ্যমে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিদ্বয়ের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় প্রেরণ করা হয়েছে।