
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:
মুন্সীগঞ্জ জেলার বালিগাঁও বাজার এলাকার একটি হিন্দু সংখ্যালঘু পরিবারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, বাড়িঘরে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও পরবর্তীতে রাজনৈতিক মামলা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তারা বিভিন্নভাবে চাপ ও হয়রানির শিকার হয়ে আসছেন এবং এসব ঘটনার কারণে বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্নেহা সরকারের বাবা বালিগাঁও বাজারে দীর্ঘদিন ধরে একটি মুদি দোকান পরিচালনা করে আসছেন। তিনি নিজে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তবে দোকানটি বাজারের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হওয়ায় বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা সেখানে বসতেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করতেন। পরিবারের দাবি, শুধুমাত্র এ কারণেই তাদের পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে এলাকায় ভুল ধারণা তৈরি হয়।
পরিবারের তরুণীর অভিযোগ, এ সুযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা রকিব মিয়া তাকে বিভিন্ন সময় উত্ত্যক্ত ও মানসিকভাবে হয়রানি করতেন। ওই তরুণী এলাকায় টিউশনি করিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তিনি হিন্দু পরিবারের মেয়ে হওয়া সত্ত্বেও রকিব মিয়া তাকে পোশাক পরিবর্তন করে বোরকা পরার জন্য চাপ দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে রকিব মিয়া তাকে প্রেমের প্রস্তাবও দেন বলে ওই তরুণী দাবি করেন।
তরুণীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর একপর্যায়ে বিপুলসংখ্যক লোকজন নিয়ে তাকে প্রকাশ্যে অপমান ও হয়রানি করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার দাবি, ওই ঘটনার পর তাদের পরিবারের ওপর ভয়ভীতি ও চাপ আরও বেড়ে যায়।
পরিবারটির অভিযোগ, পরবর্তীতে তাদের বসতবাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে তরুনীর বাবা ঘটনা স্থলে মারা যান এবং তাহার মা দগ্ধ অবস্থায় এক সপ্তাহ পর মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন একই সময়ে তাদের বাড়িতে থাকা বিভিন্ন হিন্দু ধর্মীয় মূর্তি ভাঙচুর করা হয় বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। এসব ঘটনার ফলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং তারা স্বাভাবিক জীবনযাপন থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন বলে দাবি করেন।
এরপর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে পরিবারের দাবি। তাদের বিরুদ্ধে মামলা ও দায়ের করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে হয়রানিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করেন এবং ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
পরিবারটির আরও অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাদের বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক মামলাও দায়ের করা হয়। তারা কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন না। বাবার মুদি দোকানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বসা বা আসা-যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে তারা মনে করেন।
এলাকাবাসীর দাবি, ব্যক্তিগত বিরোধ, ধর্মীয় পরিচয় এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে একত্র করে তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে একের পর এক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। ফলে তারা নিজেদের বাড়িঘর, ব্যবসা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
পরিবারটি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা তদন্ত এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।