1. info@www.dailybdcrimetimes.com : দৈনিক বিডি ক্রাইম টাইমস.কম :
মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ০৯:১২ পূর্বাহ্ন
Title :
অবৈধ বালু মহাল ঘিরেই তুরাগ তীরের বেড়িবাঁধ সড়ক মৃত্যুর ফাঁদ ! অবৈধ বালু মহাল ঘিরেই তুরাগ তীরের বেড়িবাঁধ সড়ক মৃত্যুর ফাঁদ ! প্রকৃতির সাথে পরি মনির গভীর মিতালি! ঢাকা মেডিক্যালে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি আটকের প্রতিবাদে মানববন্ধন অন্যের জন্য না, নারীরা নিজের জন্য পরিবর্তনশীল বাউফলে বেল্লালের পেশাই মাদক কারবারি, কর্পূরকাঠি কে গড়ে তুলেছেন মাদকের আখড়ায়  লড়াই সংগ্রামের এক অগ্রনায়ক আমানউল্লাহ আমান পছন্দের তালিকার শীর্ষে পূবাইলে নারী হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ৩ বর্ণাঢ্য প্যারেডের মধ্য দিয়ে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ শুরু স্বামীর সাথে অভিমান করে ফেনীর আদালতে বিচারকের সামনে নারীর বি*ষ*পান

বিশ্বে বর্তমানে নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, অপহরণ, হত্যা আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৫০ Time View

আহমদ হুসাইন লস্কর, হাইলাকান্দি, আসাম :

সমগ্র বিশ্বে নারীর প্রতি সহিংসতার চিত্রটি ভয়ংকর। বিশ্বে বর্তমানে নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, অপহরণ, হত্যা আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু তাই নয়, গত কয়েক বছর এর পরিসংখ্যান পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, দক্ষিন এশিয়ার দেশগুলোতে নারীর প্রতি সহিংসতার মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে বহুলাংশে। একই সাথে সামাজিক ভাবে নারীকে বিভিন্ন জায়গায় হেনস্তা হতে দেখা যাচ্ছে আগের থেকে অনেক বেশি, নারী নির্যাতনের ঘটনাগুলোর তদন্তে সরকারের উচ্চ পদস্থ অনেক কর্মকর্তা এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মানসিকতা বিবেচনায় আনলে এই আশংকা আরও বৃদ্ধি পায়।
… “তেহলেকা” পত্রিকার করা একটি গোপন তদন্ত প্রতিবেদন অভিযানে বের হয়ে এসেছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৩০ জনেরও বেশি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার, ধর্ষিতা-নির্যাতিতা নারীর প্রতি হীন মানসিকতা, ভিডিও ফুটেজ সহ, যা আবারও সমাজে নারীর প্রতি বিরূপ ও অশ্লীল ধারণা পোষণকারীদের একটি নগ্ন চিত্র প্রকাশ করলো। তাই আবারও এই বিতর্কটি সামনে উঠে এসেছে যে, সমাজে নারীকে আসলে কি দৃষ্টিতে দেখা হয়? একজন নির্যাতিতা নারীকে সমাজ কিভাবে গ্রহণ করে? আইন নারীকে কতটুকু সাহায্য করছে? নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে সরকারগুলো কতোটা সফল?

২০১১ সালের কিছু মানবাধিকার রিপোর্ট পর্যবেক্ষণ করলে পাওয়া যায়, নারীর জন্য সবথেকে বিপদজনক দেশগুলোর মধ্যে প্রথম পাঁচটি হচ্ছে (ক্রমানুসারে) –

১. আফগানিস্থান
২. কঙ্গো
৩. পাকিস্থান
৪. ভারত
৫. সোমালিয়া

এর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে- নারীর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ, নারীশিশুর মৃত্যু, নারীর জন্য অপ্রতুল স্বাস্থ্যসেবা এবং অনার কিলিংস। বিশেষ করে পাকিস্থান, আফগানিস্থান এবং ভারতে ধর্ষণ ও অনার কিলিংস এর হার আশংকাজনক অবস্থায়। বিশেষজ্ঞরা এই পাঁচটি দেশেরই কিছু প্রধান সমস্যা চিহ্নিত করেছেন। নারী নির্যাতনের বিভিন্ন মাত্রা বিবেচনা করলে যা পাওয়া যায় তার চিত্র ও পরিসংখ্যান কিছুটা এরকম-যেমন আমাদের দেশ ভারতের নারী নির্যাতনের চিত্র:-
নারী পাচার, যৌন নির্যাতন, শিশুবিবাহ, অনার কিলিংস এর হার পৃথিবীর সব থেকে বড় গণতান্ত্রিক (!!) দেশটিকে এই স্থানে এনে দিয়েছে।
প্রাক্তন হোম সেক্রেটারি মধুকর গুপ্তা এর তথ্য অনুযায়ী প্রায় ১০০ মিলিয়ন এরও বেশি নারী, পাচারকারীদের হাতে নির্যাতিত।নারী ভ্রুণ হত্যা এবং নারী সন্তান হত্যার জন্য, বিগত শতকে ৫০ মিলিয়ন নিঁখোজ।এখনো আমাদের দেশে ৪৪.৫ শতাংশ নারীর বিয়ে হয় ১৮ বছরের আগেই।
বর্তমানে ভারতে নারী নির্যাতনের মাত্রা যেকোনো সময়ের পরিসংখ্যানকে আশংকাজনকভাবে ছাড়িয়ে গেছে। শুধু নির্যাতনই নয় সামাজিক বৈষম্যের মাত্রাও বেড়ে চলেছে দিনকে দিন। বিশেষ করে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লী বর্তমানে নারীদের জন্য সব থেকে বিপদজনক জায়গা। দিল্লীতে নারী ধর্ষণ নিত্যদিনের ঘটনা, সাধারনত বলা হয়ে থাকে যে, দিনের বেলাতেও কোনো নারী যদি ১০ মিনিট নিরাপদে দিল্লীতে ঘুরতে পারেন সেটা অনেক বড় একটা ব্যাপার। নয়ডা, গুরগাঁও এর মত জায়গাগুলোতে অহরহ নারীদের অপহরণ এর পর নির্যাতন ও ধর্ষণের মত ঘটনা ঘটে চলেছে।

ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরো (এনসিআরবি) এর ভাষ্যমতে, ধর্ষণ ভারতের সব থেকে দ্রুত হারে বৃদ্ধি পাওয়া একটি অপরাধ যা ২০১১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সব থেকে ভয়াবহ হারে বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। ২০০৯ সালে ২১,৩৯৭ টি ধর্ষণের অভিযোগ লিপিবদ্ধ করা হয়েছে সারা দেশ জুড়ে। ২৫,০০০ নারী অপহরণের ঘটনা ঘটেছে, সম্ভ্রমহানির ঘটনা ৩৮,০০০।১৯৯০ সালে লিপিবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ১০,০৬৮ টি, সেখানে ২০০০ সালে সেটি দাড়ায় ১৬,৪৯৬ টি। ২০০৯ সালে মধ্য প্রদেশে সব থেকে বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে যা কিনা ৩,০০০ এরও বেশি। ২০০৯ সালে লিপিবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনাগুলোর মধ্যে এক চতুর্থাংশ শুধু দিল্লীতেই সংঘটিত হয়েছে। ৩৫টি বড় শহরের মাঝে দিল্লীতে ৪০৪ টি ঘটনা লিপিবদ্ধ হয়েছে, অপহরণ এর ঘটনা ১,৩৭৯ এবং সম্ভ্রমহানির ঘটনা প্রায় ৫০০।

২০১০ এর জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী দিল্লীর ৮৫ শতাংশ নারী নির্যাতন আতংকে ভোগেন। শুধু তাই নয়, পারিবারিক ধর্ষণ এর ঘটনা ২০০৮ সালের ৩০৯ টি থেকে ২০০৯ সালে এসে দাড়ায় ৪০৯ এ। পারিবারিক ধর্ষণের অধিকাংশ ঘটনা লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে যায়, এতে নির্যাতিতা এবং নির্যাতনকারী কেউই মুখ খুলতে রাজি হননা। একারণে আশংকাজনক হারে বেড়ে চলেছে এই ঘটনা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved