1. info@www.dailybdcrimetimes.com : দৈনিক বিডি ক্রাইম টাইমস.কম :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:১৪ পূর্বাহ্ন
Title :
৫২ বছর বয়সে এইচএসসি পাস, শেফালীর সাফল্যে গর্বিত পরিবার ধানক্ষেতে লুকিয়েও শেষ রক্ষা হলো না আওয়ামী লীগ নেতা মজনু সরকারের পুলিশ-জনতার যৌথ সভা, মাদক ও কিশোর গ্যাং নির্মূলে জিরো টলারেন্স! বাউফলে তৃতীয় স্ত্রী ফারজানার ঘরের ইট আর মরদেহে বাধা ইটের মিল, তাহলে কি খুনি ফারজানা?  গলাচিপায় বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে গণঅধিকার পরিষদ নেতা সাবেক ইউপি সদস্য আটক মৎস্য সম্পদ উন্নয়নে গবেষণা অগ্রগতির কোনো বিকল্প নেই: সচিব নীলফামারীতে জেলা ইজতেমার আখেরি মোনাজাত আগামীকাল ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ থেকে ইলিশ মাছ ধরার প্রস্তুতি সম্পন্ন বরগুনার জেলেদের নীলফামারীর নটখানায় স্পিড ব্রেকারের দাবি, দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে রোগী ও পথচারীরা আমতলীতে ৪’শত পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার!

অনুমোদনহীন নির্মাণে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ! মসজিদুল আকবর কমপ্লেক্সের ছাঁদ ধসে উঠছে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ! (পর্ব -২)

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
  • ২০৪ Time View

সোহাগ হাওলাদার:

রাজধানীর নির্মাণাধীন “মসজিদুল আকবর কমপ্লেক্স”-এর ছাঁদ ধসের ঘটনায় একের পর এক বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। গত ১৩ মে ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১১টার দিকে বিশ ফুট উচ্চতায় ঢালাই চলাকালে ভবনের একটি অংশের ছাঁদ হঠাৎ ধসে পড়ে। অল্পের জন্য বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। মহান আল্লাহর বিশেষ রহমতে কেউ নিহত না হলেও অন্তত একজন শ্রমিক আহত হয়েছেন।
ঘটনার পর অনুসন্ধানে জানা গেছে, নির্মাণাধীন এই ভবনের কোনো ধরনের রাজউক অনুমোদন নেই। অভিযোগ উঠেছে, অনুমোদন ও বৈধ নকশা ছাড়াই ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছিল। এছাড়া ভবনটি নকশাবহির্ভূতভাবেও নির্মাণ করা হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন খোদ ভবন নির্মাণ কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর।
সচেতন মহলের দাবি, প্রায় ২০ ফুট উচ্চতার ছাদ ঢালাইয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিরাপদ ও মানসম্মত সাপোর্ট ব্যবহার না করে স্ক্যাফোল্ডিংয়ের নিচে বাঁশ ব্যবহার করা হয়। প্রকৌশল সংশ্লিষ্টদের মতে, এত উঁচু কাঠামোয় এ ধরনের দুর্বল সাপোর্ট অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাদের ধারণা, দুর্বল সাপোর্ট সিস্টেমের কারণেই ছাঁদ ধসে পড়েছে।
এ ঘটনায় নির্মাণ কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তিনি কোনোভাবেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীর পরিচয় প্রকাশ করতে চাইছে না। পরে ব্যাপক অনুসন্ধানে জানা যায়, নির্মাণকাজের দায়িত্বে ছিল “বিসমিল্লাহ কনস্ট্রাকশন” নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার কামরুল ইসলাম এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত বিসিএস প্রকৌশলী হিসেবে মুন্নার নাম সামনে এসেছে। তবে দুর্ঘটনার পর থেকেই তারা গা ঢাকা দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে মসজিদের খতিব মুফতি দেলোয়ার হোসেনের আচরণ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিকরা তথ্য জানতে চাইলে তিনি উল্টো আক্রমণাত্মক আচরণ করেন এবং বলেন, “ছাঁদ ধসে পড়েছে তাতে আপনাদের কী?” এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘ বছর ধরে তিনি এই মসজিদকেন্দ্রিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। সাধারণ মুসল্লিরা কোনো বিষয়ে প্রশ্ন তুললেই মদ্রাসার ছাত্রদের ব্যবহার করে আধিপত্য বজায় রাখা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় মুসল্লিদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের দান-অনুদানের টাকায় মসজিদ নির্মাণের নামে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করা হয়েছে। তাদের ভাষায়, যেখানে আল্লাহর ঘর নির্মাণে বরকত ও রহমত থাকার কথা, সেখানে কেন এমন বিপর্যয় নেমে এলো? এ প্রশ্ন এখন এলাকাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সচেতন মহল বলছে, অনুমোদনহীন নির্মাণ, নিরাপত্তা বিধি অমান্য, নিম্নমানের সাপোর্ট ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্টদের চরম গাফিলতির ফলেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, ও দায়ীদের আইনের আওতায় আনা এবং মসজিদ নির্মাণে ব্যবহৃত অর্থের স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved