
রেদওয়ানা আফরিন,রির্পোটার
জনবান্ধব নার্সিং ও মিডওয়াইফারি সেবা নিশ্চিত করা এবং নার্সদের পেশাগত উন্নয়ন দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে বরগুনা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নার্সরা আট দফা দাবি উত্থাপন করে প্রতীকী শাটডাউন, কালো ব্যাজ ধারণ ও বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি পালন করেছেন।
রোববার সকালে হাসপাতাল চত্বরে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী এ কর্মসূচিতে অংশ নেন কর্মরত নার্সরা। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান তুলে ন্যায্য দাবি মানার আহ্বান জানান।
বিক্ষোভ সমাবেশে বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএনএ) বরগুনা জেলা শাখার সভাপতি মরিয়ম আক্তার খাতুন ও সাধারণ সম্পাদক জাকিয়া পারভিন বক্তব্য রাখেন।
তারা বলেন, “নার্সিং পেশার মর্যাদা রক্ষা, পদোন্নতি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। আমাদের ৮ দফা দাবি অবিলম্বে বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির দিকে যেতে বাধ্য হবো।”
নার্সদের ৮ দফা দাবি
১. স্বতন্ত্র নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর বজায় রাখা—অন্য কোনো অধিদপ্তরের সঙ্গে একীভূতকরণ বন্ধ ও জাতীয় নার্সিং কমিশন গঠন।
২. নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর প্রণীত নিয়োগ বিধি, অর্গানোগ্রাম, ক্যারিয়ার প্ল্যান অনুমোদন ও বাস্তবায়ন।
৩. ৯ম থেকে ৪র্থ গ্রেড পর্যন্ত ভূতাপেক্ষভাবে সুপারনিউমেরারি পদোন্নতি প্রদান।
৪. নার্সিং সুপারভাইজার ও নার্সিং ইন্সট্রাক্টর পদ নবম গ্রেডে উন্নীত করা।
৫. ডিপ্লোমা নার্সদের সনদ স্নাতক (পাস) সমমান ঘোষণা এবং গ্রাজুয়েট নার্সদের জন্য প্রফেশনাল বিসিএস চালুর দাবি।
৬. বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুনির্দিষ্ট নিয়োগনীতি, মানসম্মত বেতন কাঠামো প্রণয়ন এবং ভুয়া/অপ্রশিক্ষিত নার্সদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা।
৭. নার্স-মিডওয়াইফদের ঝুঁকিভাতা প্রদান এবং জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া বর্তমান ইউনিফর্ম পরিবর্তন।
৮. শয্যা, রোগী ও চিকিৎসক অনুপাতে পর্যাপ্ত সংখ্যক নার্স-মিডওয়াইফ নিয়োগ।
বক্তারা আরও বলেন, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে সচল রাখতে নার্সরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন, কিন্তু পদোন্নতি, নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ—এ তিন ক্ষেত্রেই তারা দীর্ঘদিন উপেক্ষিত। দাবি পূরণে বিলম্ব হলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে যাবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন।
নার্সদের এ প্রতীকী শাটডাউন কর্মসূচির কারণে হাসপাতালের সাধারণ সেবায় প্রভাব না পড়লেও নার্সরা জানান, তাদের ন্যায্য দাবির জন্য ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি আসতে পারে।