
হাকিকুল ইসলাম খোকন,
ওয়াশিংটন ডিসি, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ – ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক ডায়লগ (ISD) বাংলাদেশের ১৩ তম সংসদীয় নির্বাচন, যা ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তার গণতান্ত্রিক বৈধতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।আইবিএননিউজকে সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক শায়লা আহমেদ জানিয়েছেন ।
ওয়াশিংটন ভিত্তিক এই থিঙ্ক ট্যাংক তৎকালীন ড.মুহাম্মদ ইউনূস পরিচালিত সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত “ভোটবিহীন নাটকীয়” নির্বাচনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে এবং সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে পুনরায় মুক্ত, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানাচ্ছে।
Iআইএসডি পর্যবেক্ষণ করেছে যে, বাংলাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ এর কার্যক্রম নিষিদ্ধ, ভোট কারচুপি, নির্বাচনী কৌশলগত বিকৃতি এবং অতিরিক্ত ভোটের প্রতিবেদনসমূহ জনগণের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে। এ উদ্বেগগুলো দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও উঠে এসেছে, যা গণতান্ত্রিক মানদণ্ড ও আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যবিধি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।
আইএসডি মনে করে, অন্তর্ভুক্তিমূলকতা, স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ব্যাতিত নির্বাচন প্রকৃতপক্ষে মুক্ত বা গণতান্ত্রিক বিবেচিত হয় না
আইএসডি নিম্নলিখিত জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে:
▪ নিরপেক্ষ, নির্দলীয় কেয়ারটেকার প্রশাসনের অধীনে নতুন, সত্যিকারের মুক্ত ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন, যাতে সকল রাজনৈতিক দলের পূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়।
▪ ভোট কারচুপি ও নির্বাচনী অসঙ্গতি সম্পর্কিত অভিযোগ নিয়ে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য তদন্ত পরিচালনা।
▪ রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তিমূলকতা পুনরুদ্ধারের জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর ১৪ দলীয় জোটের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহার।
▪ সকল রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের উপর আরোপিত বিধিনিষেধ অবিলম্বে প্রত্যাহার, যাতে সমান ও সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত হয়।
▪ আটক রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, গবেষক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং পেশাজীবীদের অবিলম্বে মুক্তি, যাদের আটক স্বাধীন মতপ্রকাশ এবং নাগরিক অধিকার সংক্রান্ত গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।
▪ আইন ও বিচার উপদেষ্টা আসিফ নাজরুলসহ তৎকালীন সরকারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনের অপপ্রয়োগ,উদ্ভূত দুর্নীতি ও অনিয়ম সম্পর্কিত অভিযোগের স্বচ্ছ ও নিয়মবদ্ধ তদন্ত।
বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক মোড়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক দলের অন্তভুক্তি , আইনের শাসন এবং নাগরিক স্বাধীনতার রক্ষা কেবল দেশীয় স্থিতিশীলতার জন্য নয়, আন্তর্জাতিক বিশ্বাসযোগ্যতা ও গণতান্ত্রিক স্থিতিস্থাপকতার জন্যও অপরিহার্য।
ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক ডায়লগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোরালো আহ্বান জানাচ্ছে- বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং জনগণের সকল মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে অবিলম্বে কার্যকর ও সংশোধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।