1. info@www.dailybdcrimetimes.com : দৈনিক বিডি ক্রাইম টাইমস.কম :
মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৩:০৮ পূর্বাহ্ন
Title :
দল ও ভোল পাল্টে শেবাচিমে আওয়ামীপন্থী কর্মচারীদের আধিপত্য বহাল (পর্ব -১) মেহেন্দিগঞ্জে ডিএমসি’র উদ্যোগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ। প্রশংসায় তরুণরা! ‘ঐশী মঞ্জিল’ ঘিরে বিতর্ক: সার্ভেয়ারের চারতলা ভবনে সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন বরগুনায় ভুয়া—চিকিৎসকদের তালিকায় মাহবুবুর রহমান গোবিন্দগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শামসুন্নাহার রুমাকে হ*ত্যা এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি দেশজুড়ে মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসন! নেশার করাল ছোবলে আসক্ত নারীরাও! আগামীকাল রবিবার ১–১২তম নিবন্ধনধারীদের নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন কালিয়াকৈর উপজেলা পৌর বিএনপির নেতা সাইজুদ্দিন আহমেদ: নির্যাতন পেরিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার মেয়র হিসেবে নীলফামারী জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত  কলাপাড়া সাংবাদিক ক্লাবের ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

দল ও ভোল পাল্টে শেবাচিমে আওয়ামীপন্থী কর্মচারীদের আধিপত্য বহাল (পর্ব -১)

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬
  • ৬৩ Time View

স্টাফ রিপোর্টার:

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আওয়ামী সরকারে সময়ে সুবিধাভোগী ও দমন পীড়নে জড়িত কর্মচারীরা এখনো বহাল তবিয়তে। কেউ কেউ ভোল পাল্টে রাতারাতি হয়ে গেছে বিএনপি কিংবা জামায়াত। এভাবে এখনো যাতাকলে পিষ্ট হচ্ছে সেই সময়ে বিএনপি জামায়াত ট্যাগ দিয়ে হেনস্তা হওয়া কর্মচারীরা।
শেবাচিম সূত্রে জানা গেছে, কিছু দিন পূর্বে চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী ইউনিয়নের একটি কমিটি পাশ করানোর জন্য বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারের দারস্থ হয় একটি মহল। তাদের ব্যাকগ্রাউন্ডে আওয়ামী লীগের সংস্লিষ্টতা থাকার তথ্য পেয়ে তাদেরকে এড়িয়ে যান সরোয়ার। এরপর এই চক্র বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লার দারস্থ হয়। তাকে ভুলভাল বুঝিয়ে তার মাধ্যমে কমিটি করে। কমিটির শীর্ষ পর্যায়ের দু’একজন বিএনপি পন্থী হলেও বাকী অধিকাংশ সদস্য ঘোর আওয়ামী পন্থী। তৎকালীন সময়ে আওয়ামী ক্যাডার ডা. সায়েম ও ইউসুফ আলী মিলনের ছত্রছায়ায় কাজ করতো। তাদের মধ্যে ওয়ার্ড মাস্টার মশিউল আলম ফেরদৌস, সাইফুল ইসলাম, মাহমুদুল হাসান বাপ্পি, আল মামুন রাব্বি, সিদ্দিকুর রহমান, মনিরুল ইসলাম সহ আরো অনেকে। বিগত দিনে নানা অপকর্মে জড়িত ছিল তারা। বার বার ধরা খেলেও তৎকালী স্বাস্থ্য কমিটির সভাপতি আবুল হাসানত আবদুল্লাহ এবং সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর হস্তক্ষেপে পার পেয়ে যেত। আওয়ামী পরিচয় ব্যবহার করে অনেকে হয়েছেন ধনকুবের মালিক। এদের মধ্যে অন্যতম বিতর্কিত ওয়ার্ড মাস্টার মশিউল আলম মল্লিক ওরফে ফেরদৌস অক্সিজেন সিলিন্ডার চুরি, ডিসপেন্সরী থেকে ৩০ লক্ষাধিক টাকার ঔষধ চুরি, অবৈধ সুবিধা নিয়ে আউটসোর্সিং নিয়োগসহ নানা কান্ডে আলোচিত। তাছাড়া বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক (ফাসিস্ট) মেয়র ও মহানগর আ.লীগের সেক্রেটারি সাদিক আবদুল্লাহর বিশ্বস্ত লাঠিয়াল ছিলেন তিনি। জুলাই বিপ্লবের পর ভোল পাল্টে এখন পুরো হাসপাতালের চার্জ নিয়ে টাকা কামাচ্ছেন দু’হাতে। ফেরদৌসের অন্যতম সহযোগী তাইজুল ছিটকে পড়লেও ফেরদৌস এখনো রয়েছে দুধে-ভাতে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালের ১ মার্চ হাসপাতলের ঔষধ চুরির সময় হাতেনাতে ওয়ার্ড মাস্টার ফেরদৌসকে আটক করে যৌথবাহিনী। এরপরে শেবাচিমের তৎকালীন উপ-পরিচালক ডাঃ সুভাস দাশ কোতয়ালী থানায় একটি এজাহার দাখিল করেন। যার নং ৩২৫৯/০৭। সেখানে ফেরদৌসের বিরূদ্ধে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৩০ লক্ষাধিক টাকার ঔষধ চুরির কথা উল্লেখ করা হয়। পরবর্তিতে জেলা আ.লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর হস্তক্ষেপে সেসব অভিযোগ গিলে ফেলে ফেরদৌস।
এদিকে ২০২১ সালে করোনা ওয়ার্ড থেকে ১০০ অক্সিজেন সিলিন্ডার চুরির অভিযোগ ওঠে ফেরদৌসের বিরূদ্ধে। তখন তৎকালীন সহকারী পরিচালক ডা. মনিরুজ্জামান শাহীনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। সেই কমিটি তদন্তকালে ফেরদৌসের সরাসরি সম্পৃক্ততা পেলে বিসিসির তৎকালীন মেয়র সাদিকের হস্তক্ষেপে সেই তদন্ত আলোর মুখ দেখেনি। এসব নানা অপকের্মর প্রেক্ষিতে ওয়ার্ড মাস্টার ফেরদৌসকে মন্ত্রণালয় থেকে একাধিকবার অন্যত্র বদলীর আদেশ দিলেও সাদিক আবদুল্লাহ তার পিতাকে দিয়ে সেসব বদলি অর্ডার বাতিল করান। সাদিকের জন্মদিন পালন, বিসিসি নির্বাচন কালীন সময়ে দিনরাত ডিউটি ফেলে সাদিকের নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত ছিল ফেরদৌস। জুলাই আন্দোলনে ছাত্র জনতা দমনে সাদিক ও সাজ্জাদ সেরনিয়াবাতের সাথে হামালায় সরাসরি অংশ নেয় ফেরদৌস। ৩ আগস্ট চৌমাথা এলাকায় বিএনপি নেতা জিয়া শিকদারের উপর হামলার ঘটনায়ও সাজ্জাদ সেরনিয়াতাবাতের সাথেই ছিল ফেরদৌস ও তার ছেলে ১২ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল প্রিন্স। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, এসব দাগী ও ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগার এখনও শেবাচিম হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকে কিভাবে ?
এ ব্যাপারে ওয়ার্ড মাস্টার মশিউল আলম ফেরদৌস বলেন, আমাকে আটক করেছে যৌথ বাহিনী এটা সত্য। আমি সেই মামলায় খালাস পেয়েছি। এছাড়া আমার বিরুদ্ধে যেসব অভযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা। তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অনুসন্ধান করারও অনুরোধ জানান।
এ বিষয়ে ডক্টর এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) বরিশাল জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও শেবাচিম হাসপাতালের সহকারি পরিচালক ডা. আব্দুল মোনেম সা’দ বলেন, ওয়ার্ড মাস্টার মশিউল আলম ফেরদৌস এর বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এ ব্যাপারে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর বলেন, এ ধরনের অভিযোগ আমিও শুনছি। বিতর্কিত কয়েকজনকে ডিউটিস্থল পরিবর্তন করেও দিয়েছি। হাসপাতালে জনবল সংকট থাকায় এসব লোক দিয়েই সার্ভিস চালাতে হচ্ছে। ডিজি হেলথ থেকে যদি লোক পরিবর্তন করে দেয় তাহলে সার্ভিস আরো ভালো করা সম্ভব।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved