
এম জাফরান হারুন::
পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কার্যালয়ের সামনে ঝুলছে একটি সুদৃশ্য বিলবোর্ড। তাতে বড় বড় অক্ষরে লেখা—‘আমি ও আমার অফিস দু’র্নী’তি’মু’ক্ত’। কিন্তু বাস্তবে সেই অফিসেরই শীর্ষ কর্মকর্তার বি’রু’দ্ধে উঠেছে দু’র্নী’তি’র অভি’যোগ। মুখে সততার বুলি আওড়ালেও পটুয়াখালী পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব হোসেনের বি’রু’দ্ধে ঠিকাদারের সাথে যোগসাজশে সরকারি অর্থ লো’পা’টের তথ্য পাওয়া গেছে।
লাউকাঠি স্লুইসগেট থেকে খাদ্য গুদাম পর্যন্ত মাত্র ১,৮০০ ফিট বেড়িবাঁধ নির্মাণে ঘটেছে এই হরি’লু’টের ঘটনা। ২৩ লাখ ২১ হাজার ৭৬৮ টাকার এই প্রকল্পের সিংহভাগ টাকাই নামমাত্র কাজ দেখিয়ে পকেটস্থ করেছে পাউবো কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারি সিন্ডি’কেট।
সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, বাঁধ নির্মাণে নকশার কোনো তোয়াক্কাই করা হয়নি।
নকশা অনুযায়ী গ্রাউন্ড লেভেল থেকে রিডিউসড লেভেল পর্যন্ত ঢালের মোট দৈর্ঘ্য ১৩ ফিট ১.৫ ইঞ্চির মধ্যে গ্রাউন্ড লেভেল থেকে ৯ ফুট ১০ ইঞ্চি পর্যন্ত ১৭৫ কেজির জিও ব্যাগ দেওয়ার কথা এবং বাকি ৩ ফিট ৩.৫ ইঞ্চি ওপরের অংশ মাটি দিয়ে ভরাট করার নিয়ম ছিল। কিন্তু বাস্তবে উল্টোভাবে রাস্তার ওপরের তথা রিডিউসড লেভেল থেকে নিচের দিকে ৯ ফিটেরও কম জিও ব্যাগ দেওয়া হয়েছে। বেড়িবাধঁটির মূল উচ্চতা (ভার্টিকাল লেনথ) ৬ ফিট ৬.৬৭ ইঞ্চির কাজে ও অ’নিয়ম বেশ।
নদীর স্রোত থেকে বাঁধটিকে বাঁচাতে একদম গোড়ায় ১৭৫ কেজি ওজনের ২টি করে জিও ব্যাগের গাইড ওয়াল দেওয়ার নির্দেশনা নকশায় থাকলেও সেটা দেয়া হয়নি।
রাস্তার মূল উচ্চতা ৬ ফিট ৬.৭ ইঞ্চি নির্ধারণ করা থাকলেও কোনো কোনো জায়গায় সর্বোচ্চ ৪ ফিট উচ্চতা দেওয়া হয়েছে। আবার অনেক জায়গায় মাত্র ২ থেকে ৩ ফিট উচ্চতা দিয়েই কাজ শেষ করা হয়েছে। বাঁধের স্থায়িত্ব বাড়াতে ভালো মাটি ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও পুরো রাস্তা তৈরি করা হয়েছে নামমাত্র রাবিশ ও বালু-মাটির সমন্বয়ে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাঁধ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা ক্ষো’ভ প্রকাশ করে জানান, চোখের সামনে এই লু’ট’পা’ট চলায় তারা বারবার পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে জানিয়েছিলেন। কিন্তু দু’র্নী’তি’র সিন্ডি’কেট এতটাই শক্তিশালী যে, পাউবোর কর্মকর্তারা স্থানীয়দের কোনো অভি’যোগই আমলে নেননি। উল্টো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে র’ক্ষা করতে দ্রুত কাজ শেষ করার তাগিদ দিয়েছেন।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বাঁধের কাজ সম্পূর্ণ শেষ না করেই এবং নকশার অর্ধেক নিয়ম ভ’ঙ্গ করেই বিল উত্তোলনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
এসব অ’নিয়ম ও সরকারি অর্থ লো’পা’টের বিষয়ে জানতে পটুয়াখালী জেলা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে ক্যামেরার পেছনে দায়সারা ও অসংলগ্ন ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বি’ভ্রা’ন্ত করার চেষ্টা করেন এবং জানান, ঢাকা অফিস থেকে একটি প্রতিনিধি দল এসে এই বেড়িবাঁধটি পরিদর্শন করবেন ।