
তপন দাস, নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারী সদর উপজেলার নটখানা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনা রোধে স্পিড ব্রেকার (গতিরোধক) স্থাপনের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক, রোগী ও পথচারীরা। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে দ্রুতগতিতে যানবাহন চলাচল এবং প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁরা। বিশেষ করে হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক এই এলাকায় দ্রুত গতিরোধক স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
নটখানা এলাকায় রয়েছে ডেনিশ বাংলাদেশ লেপ্রসি মিশন (ডিবিএলএম) হাসপাতাল, নীলফামারী মেডিকেল কলেজ, মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং সেন্টার (ম্যাটস), স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয়, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া এখানে রয়েছে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত প্রথম সরকারি কুষ্ঠ হাসপাতাল। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগী, তাঁদের স্বজন, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ যাতায়াত করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটিতে যানবাহনের চাপ ও গতির কারণে নিরাপদে রাস্তা পারাপার করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে অসুস্থ রোগী, বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু ও শিক্ষার্থীদের সড়ক পারাপারে ঝুঁকি বেশি। এ অবস্থায় দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দ্রুত স্পিড ব্রেকার স্থাপনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সড়ক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
ডিমলা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা বিনত দাস বলেন, “এই এলাকায় দ্রুত একটি স্পিড ব্রেকার স্থাপন করা প্রয়োজন। সড়ক দিয়ে যে পরিমাণ যানবাহন চলাচল করে এবং গাড়িগুলো যেভাবে দ্রুতগতিতে চলে, তাতে রাস্তা পারাপার করা ঝুঁকিপূর্ণ। রোগীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
তারাগঞ্জ থেকে চিকিৎসা নিতে আসা দম্পতি শাহনাজ ও রাকিব ইসলাম বলেন, “আমরা তারাগঞ্জ থেকে এখানে চিকিৎসা নিতে এসেছি। বাস থেকে নেমে সড়কটি পার হতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় লাগছে। দ্রুতগতির যানবাহনের কারণে রাস্তা পারাপার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এখানে একটি স্পিড ব্রেকার থাকলে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে কিছুটা সহায়তা হতো।”
তাঁরা আরও বলেন, দূরদূরান্ত থেকে আসা অনেক রোগী শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকেন। তাঁদের পক্ষে দ্রুতগতির যানবাহনের মধ্যে দিয়ে রাস্তা পার হওয়া বেশ কষ্টকর। তাই রোগী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি এ এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় এক চালকের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সড়কটিতে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
সৈয়দপুর, জলঢাকা, ডোমার ও ডিমলাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনেরাও একই দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, নটখানা এলাকার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট সড়ক কর্তৃপক্ষের দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করা উচিত। পাশাপাশি যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন এবং উপযুক্ত স্থানে স্পিড ব্রেকার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
তাঁদের মতে, শুধু স্পিড ব্রেকার স্থাপনই নয়, সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দিকেও নজর দিতে হবে। এতে রোগী, শিক্ষার্থী, পথচারী ও সাধারণ মানুষের চলাচল আরও নিরাপদ হতে পারে।
নটখানা এলাকার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা।