
এম জাফরান হারুন::
পটুয়াখালীর বাউফলের সেই আলগী খাল থেকে উদ্ধার হওয়া অর্ধগলিত মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে পরিবার। নিহত ব্যক্তির নাম আলম গাজী ওরফে আলম ফকির (৪৭)। মরদেহ উদ্ধারের তিন দিন আগে তিনি নিখোঁজ হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে বাদী হয়ে বাউফল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
রোববার (২৫ অক্টোবর-২৬) দিবাগত রাতে আলম গাজী ওরফে আলম ফকিরের মেয়ে রিপা বেগম মামলাটি দায়ের করেন। এর আগে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর-২৬) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পৌর শহরের বাংলাবাজার জামে মসজিদসংলগ্ন আলোকি খাল থেকে অজ্ঞাতপরিচয়ে ওই ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, উদ্ধার হওয়া মরদেহ আলম গাজী ওরফে আলম ফকিরের। গত বুধবার তিনি নিখোঁজ হয়েছিলেন। শনিবার রাতে তারা একটি মরদেহ উদ্ধারের খবর জানতে পারেন। পরে রোববার সকালে কালাইয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে পুলিশের সংগ্রহ করা আলামতের মধ্যে থাকা লুঙ্গি ও টি-শার্ট দেখে মরদেহ আলম ফকিরের বলে শনাক্ত করেন তারা।
নিহতের মেয়ে ও মামলার বাদী রিপা বেগম বলেন, বাবা বিভিন্ন এলাকায় ওরস অনুষ্ঠানে ভাণ্ডারি গান পরিবেশন করতেন। তিনি তিনটি বিয়ে করেছিলেন। আমার মা পিয়ারা বেগম প্রথম স্ত্রী। দ্বিতীয় স্ত্রী ও আমাদের সঙ্গে বসবাস করতেন। তবে বাবা তার তৃতীয় স্ত্রী ফারজানার সঙ্গে আলোকি খালসংলগ্ন দাশপাড়া এলাকায় থাকতেন। সেখান থেকেই গত বুধবার তিনি নিখোঁজ হন।
কালাইয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) মনিরুজ্জামান সরদার জানান, উদ্ধার হওয়া মরদেহের পোশাক ও শারীরিক গঠনের বিবরণ মিলিয়ে পরিবারের সদস্যরা আলম ফকিরকে শনাক্ত করেছেন। মরদেহ উদ্ধারের পর নৌ-পুলিশের কর্মকর্তা সরওয়ার আলম সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। মরদেহ পানিতে ডুবিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে শরীরের সঙ্গে প্রায় ১৭টি ইটভর্তি একটি প্লাস্টিকের বস্তা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। পরে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম মরদেহের দাফনের ব্যবস্থা করে। হত্যা মামলার তদন্ত করবে বাউফল থানা পুলিশ।
বাউফল থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। তদন্তের মাধ্যমে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।