
তপন দাস, নীলফামারী
নীলফামারী জেলা পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে চোরাই চারটি ব্যাটারিচালিত চার্জার অটোভ্যান ও একটি ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আন্তঃজেলা চোরচক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) নীলফামারী জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, গত ২০ অক্টোবর রাতে নীলফামারী সদর উপজেলার পলাশবাড়ী বাজারে তয়েজ বাস কাউন্টারের সামনে এক অটোভ্যানচালককে চেতনানাশক ওষুধ মেশানো চা খাইয়ে তাঁর ভ্যান ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে চোরচক্রের সদস্যরা। এ সময় স্থানীয় লোকজন একজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অসুস্থ চালককে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে পাঠায় এবং আটক ব্যক্তিকে হেফাজতে নেয়।
আহত চালক মো. নুর ইসলাম জলঢাকা উপজেলার মীরগঞ্জ বাজারপাড়ার বাসিন্দা। তাঁর স্ত্রী মমতা বেগমের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এবং আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিষয়ে তথ্য পায় পুলিশ।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁনের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নীলফামারী সার্কেল) মো. ফারুক আহমেদ পিপিএম (সেবা)-এর নেতৃত্বে তদন্ত ও অভিযান শুরু হয়।
এর ধারাবাহিকতায় ২১ অক্টোবর নীলফামারী সদর উপজেলার পঞ্চপুকুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. মফিজুল ইসলাম ওরফে হাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে একটি চোরাই চার্জার ভ্যান উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তী সময়ে কিশোরগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বাড়ির আঙিনায় পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা আরও একটি চোরাই চার্জার ভ্যান উদ্ধার করা হয়। এরপর জলঢাকা উপজেলার কিশামত বটতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. রবি ইসলাম (২৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তাঁর শ্বশুরের বাড়ি থেকে একটি চোরাই ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া ২২ অক্টোবর দিনাজপুরের খানসামা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. রফিকুল ইসলাম (৪৫) নামে এক ব্যক্তির দোকান থেকে আরও একটি চোরাই চার্জার ভ্যান উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, ওই ব্যক্তি চোরাই মালামাল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
জেলা পুলিশ জানায়, উদ্ধার করা যানবাহনের মধ্যে রয়েছে চারটি ব্যাটারিচালিত চার্জার ভ্যান ও একটি ইজিবাইক। এ ঘটনায় নীলফামারী থানায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একাধিক চুরির মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
চোরচক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে চুরি প্রতিরোধ এবং চোরাই যানবাহন উদ্ধার ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন নীলফামারীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপারেশন্স অ্যান্ড মিডিয়া) এ.বি.এম. ফয়জুল ইসলাম।