
আলমগীর হোসেন শুভ
বরগুনা জেলা প্রতিনিধি, বরগুনা:
বরগুনা সদরের ৪ নং ঘটবাড়িয়া এলাকায় চলন্ত অটোরিকশা থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মরক্ষা করেছে দ্বাদশ শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী। বখাটে এক বৃদ্ধ ও অটোরিকশা চালকের যৌন নিপীড়নের হাত থেকে বাঁচতে শনিবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ঘটবাড়িয়া বাজারসংলগ্ন পেট্রোল পাম্পের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, উক্ত শিক্ষার্থী চান্দুখালী থেকে প্রতিদিনের মতো কোচিং শেষ করে অটোরিকশায় বাড়ি ফিরছিল। পথিমধ্যে বাদামতলা স্টেশন থেকে ওঠেন ফুলঝুড়ি ইউনিয়নের সাহেবেরআলা গ্রামের বাসিন্দা এবং ঘটবাড়িয়া বাজারের ব্যবসায়ী সত্তার (৫৫)।
সন্ধ্যা নেমে এলে নির্জন রাস্তার সুযোগ নিয়ে সত্তার ও অটোরিকশা চালক উক্ত ছাত্রীকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করা শুরু করে। একপর্যায়ে সত্তার মেয়েটিকে জড়িয়ে ধরে এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়। আত্মরক্ষার উপায় না দেখে চলন্ত অটোরিকশার গতি আনুমানিক ৩৫-৪০ কিলোমিটার থাকা অবস্থাতেই ছাত্রীটি ছিটকে রাস্তায় লাফ দেয়।
এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা অপর একটি অটোরিকশার সামনে পড়ে গেলে চালকের দ্রুত বুদ্ধিমত্তায় বড় ধরণের দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পায় সে।
ঘটনাটি স্থানীয় পেট্রোল পাম্পের কর্মচারীরা ও পথচারীরা দেখতে পেয়ে দ্রুত এগিয়ে আসেন। ভুক্তভোগী ছাত্রীটি কান্নাজড়িত কণ্ঠে উপস্থিত নারীদের কাছে পুরো ঘটনাটি ব্যক্ত করে। মুহূর্তে এই খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটবাড়িয়া বাজারে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং কয়েকশত উত্তেজিত জনতা সেখানে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানান।
উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত সত্তারকে না পেয়ে ঘটবাড়িয়া বাজারে অবস্থিত তার দোকান ঘেরাও করে এবং তার বড় ছেলে ছগির সহ দোকানটি তালাবদ্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও অভিভাবকবৃন্দের উপস্থিতিতে উপযুক্ত বিচারের আশ্বাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে জানান, অভিযুক্ত সত্তার দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছিল। বিগত দিনেও সে একাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থী ও নারীদের ওপর যৌন নিপীড়ন চালিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তার এমন কর্মকাণ্ডে এলাকার অভিভাবক ও কিশোরী-তরুণীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য কাইয়ুম জানান, “ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয় ও জঘন্য। সে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পার পেয়ে গেছে। প্রসাশনের কাছে এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও উপযুক্ত বিচারের দাবি জানাচ্ছি।”
ভুক্তভোগীর বাবা মোঃ হিরো মিয়া বরগুনা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন এবং অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সাহাদৎ মোঃ হাচনাইন পারভেজ
জানান,এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি গৃহীত হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে। লিখিত অভিযোগ পেলেই অভিযুক্তকে আইনের আওতায় এনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।