1. info@www.dailybdcrimetimes.com : দৈনিক বিডি ক্রাইম টাইমস.কম :
শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০০ অপরাহ্ন
Title :
টাঙ্গাইলে পবিত্র রমজান উপলক্ষে সুলভ মূল্যে দেওয়া হয়েছে দুধ, ডিম, মুরগির মাংস ও গরুর মাংস ঐক্যের অঙ্গীকারে ৪৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা বাংলাদেশ সম্মিলিত প্রেস ক্লাবের বাংলাদেশের চুয়ান্ন বছরে, উল্লেখযোগ্য জন ভোগান্তি সমস্যা গুলো নিয়ে সরকার কি সত্যিই কাজ করেন? শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সকল ভাষা শহীদদের প্রতি মিরপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের পক্ষ থেকে বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদের প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্রদ্ধা নিবেদন সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত পাইকগাছার ঐতিহ্য রক্ষায় বড় উদ্যোগ বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের জন্মভিটা সংস্কারে নেমেছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বাংলাদেশের ১৩ তম সংসদীয় নির্বাচন সম্পর্কে ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক ডায়লগের (ISD) বিবৃতি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের যাত্রা শুরু

শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সকল ভাষা শহীদদের প্রতি মিরপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের পক্ষ থেকে বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৬ Time View

সোহাগ হাওলাদার:

শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস- এর পটভূমি রচিত হয় ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষ যে ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন, তা বাঙালির ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর তৎকালীন সরকার উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্ত নেয়, যদিও পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ভাষা ছিল বাংলা। ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ ঢাকায় এক ভাষণে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা করেন, উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। এ ঘোষণার পর থেকেই ছাত্রসমাজ ও বুদ্ধিজীবীরা প্রতিবাদে সোচ্চার হন। ১৯৫২ সালের জানুয়ারিতে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। ২১ ফেব্রুয়ারি প্রাদেশিক পরিষদের অধিবেশন চলাকালে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ধর্মঘট ও বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সরকার ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা এ আদেশ অমান্য করে মিছিল বের করেন। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের উপর লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ এবং একপর্যায়ে গুলি চালায়। পুলিশের গুলিতে শহীদ হন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ আরও অনেকে। তাঁদের আত্মত্যাগে পুরো পূর্ববাংলা উত্তাল হয়ে ওঠে। ২২ ফেব্রুয়ারি শোক মিছিলেও আবার গুলি চালানো হয় এবং আরও প্রাণহানি ঘটে। এই রক্তক্ষয়ী ঘটনার পর ছাত্ররা দ্রুত শহীদদের স্মরণে প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ করেন, যা পরবর্তীতে প্রতীক হয়ে ওঠে ভাষা আন্দোলনের।
ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলা পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এই আন্দোলনই পরবর্তীতে বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের ভিত্তি রচনা করে এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণা জোগায়।
১৯৯৯ সালে UNESCO ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে, যা ২০০০ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে।
ভাষা আন্দোলন শুধু ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই ছিল না, এটি ছিল বাঙালির আত্মপরিচয় ও সাংস্কৃতিক অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম। শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের শিখিয়েছে,অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামই পারে ইতিহাস রচনা করতে।
১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনে শহীদ হওয়া সকল ভাষা শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে আজ সকালে “মিরপুর রিপোর্টার্স ক্লাব” এর উদ্যোগে রাজধানীর সরকারি বাঙলা কলেজ শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা শহীদদের স্মৃতির প্রতি নীরবতা পালন করেন এবং তাঁদের আত্মত্যাগের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন “মিরপুর রিপোর্টার্স ক্লাব” এর সভাপতি ও দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, সাধারণ সম্পাদক মো. ইস্রাফিল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আফজাল আকাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক আনিস মাহমুদ লিমন, দপ্তর সম্পাদক মো. সোহাগ হাওলাদার, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আনিসুল হক ক্লিপটন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা রাবেয়া সুলতানা, কার্যনির্বাহী সদস্য সোহাগ জোয়ার্দ্দার ও মো. কামাল হোসেন এবং সাধারণ সদস্য মোশাররফ হোসেন মনা।
এ সময় সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন তাঁর বক্তব্যে বলেন, আজ আমরা যে স্বাধীনভাবে নিজের মাকে ‘মা’ বলে ডাকতে পারি, তা সম্ভব হয়েছে ৫২’র ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে। তাদের ত্যাগের কারণেই বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা পেয়েছে। তিনি নবগঠিত সরকার প্রধানের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা ও বিচারবিভাগ-রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার যথাযথ চর্চা ও প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে আদালতের রায় বাংলায় প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা সময়ের দাবি।
পরিশেষে ভাষা আন্দোলনের সকল শহীদের প্রতি পুনরায় বিনম্র শ্রদ্ধা ও গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে মিরপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের নেতাকর্মীরা সরকারি বাঙলা কলেজ শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved