
অথই নূরুল আমিন
শত বাধা শত বিপদ শত শত বদনাম পেরিয়ে এবং যাদের লাখ লাখ নেতাকর্মী বিভিন্ন সমস্যা জুলুম নির্যাতন সহ্য করে ২০২৬ এর ১২ ই ফেব্রুয়ারি সবচেয়ে বেশি ভোট এবং আসন পেয়ে আজকে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। তারা সরকার ও গঠন করেছে। যদিও আমি বিএনপির সমর্থক নই কখনও। তবু ও দেশের নাগরিক হিসেবে একটি সরকারকে নিয়ে ভালো মন্দ লেখার বা পরামর্শ দেয়ার এই অধিকার মনে করি আমার আছে।
এখানে কথা থাকে যে, আমাদের দেশের রাজনীতি হয়ে গেছে হিংসাত্মক। তাই ভিন্ন মতের বা মতাদর্শের লোকজন যতই জ্ঞানী মেধাবী বা বুদ্ধিজীবী থাকুক না কেন? এসব কখনও মেনে নিতে পারে না অন্য দলগুলো। এটাও কিন্তু বড় একটা সমস্যা। বর্তমান সরকারের কাজ শুরু করার পূর্বে প্রথমেই খোঁজে বের করা দরকার। বিগত আওয়ামী লীগের সরকারের আমলে এত উন্নয়ন করার পরেও। জনগণ কেন তাদেরকে মূল্যায়ন করেনি। জনগণের কাছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেন প্রিয় একজন প্রধানমন্ত্রী হয়ে উঠেনি? এই সকল কিছু প্রশ্নের উত্তর খোঁজে যদি বর্তমান সরকারের এমপি মন্ত্রীরা বের করতে পারেন। তবেই তারা সফলতার পথ খোঁজে পাবেন বলে আমার বিশ্বাস।
আওয়ামী লীগ আমলে প্রায় ষোল বছর ধরে জনগণের জন্য কল্যাণকর একটি কাজও করতে পারেনি। এবং যে ভুল গুলো আওয়ামী লীগ সরকার করেছে। তা নিজেরাও অনেক বিষয় জানে না। এবং অনেক বিষয় তারা স্বীকার ও করে না। আওয়ামী লীগ আমলের ভুল গুলো ছিল, যথাক্রমে :
১. আইন ব্যবস্থা। দেশের কোনো জনগণই আওয়ামী লীগের আমলে আইনের সুশাসন পায়নি। সারা দেশ জুড়ে সকল আদালতে ছিলো মামলা জট। এখানে বাদী বিবাদী সবাই ছিল চরম বিরম্বনার শিকার। যার ফলে সরকারের প্রতি জনগণের একটি অনীহা ভাব নীরবে প্রকাশ পায়। এখানে ছিলো ঘুষের রাম রাজ্য। পুলিশ আইনজীবী বিচারপতি সবাই আইন বিভাগে ঘুষের মাধ্যমে কাজ করেছে। অথচ আওয়ামী লীগ সরকারের আইনমন্ত্রী তা নিয়ে কোনো মাথা ঘামায়নি। জনগণের ভোটে সরকার ক্ষমতায় আসলো। আর সেই জনগণ যখন হলো ভূক্তভোগী। তখন জনগণ আর সরকারের সাথে থাকে না। তাদের কিছু নেতাকর্মী ছাড়া।
২. শিক্ষাব্যবস্থা। শিক্ষাব্যবস্থা চরমভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার। তারা শিক্ষাব্যবস্থাও রাজনীতিতে নিয়ে এসেছে। যার ফলে উচ্চ শিক্ষিত ৬০% ছেলে মেয়ে বেকার করে দিয়েছে।
৩. স্বাস্থ্যখাত। স্বাস্থ্যখাতে চরম দুর্নীতি জনগণ অবহেলিত। তাছাড়া খরচ সীমাহীন। এককথায় গরিবেরা কোনো সেবাই পেল না আওয়ামী লীগের আমলে।
৪. পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি। নিত্য পণ্যের মল্য বৃদ্ধির ফলে দেশের ৬৫% জনগণ আজকে দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাস করছে। আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন উন্নয়ন প্রচারের তলে ছিল এই দেশের জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষা।
৫. প্রবাসী। প্রবাসীরা যেন আওয়ামী সরকারের কাছে কোনো মানুষই ছিল না। কোনো পদক্ষেপ নেয়নি প্রবাসীদের জন্য।
৬. যানজট।। যানজট বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা। ষোল বছরেও আওয়ামী লীগ সরকার একবারও চিন্তা করেনি যানজট কমানোর জন্য। যার ফলে জনগণ আওয়ামী সরকারকে ব্যর্থ সরকার মনে করে। ( তাদের নেতাকর্মী ছাড়া )
৭. বন্যা। দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা হচ্ছে। কিন্তু কোন খাল বা নদী খনন কাজ করেনি আওয়ামী সরকার।
৮. ঘুষ প্রথা। সরকারি কর্মচারীদের ঘুষ প্রথা বন্ধ করেনি। যার জন্য জনগণ চরম ক্ষিপ্ত হয়েছে।
৯. যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। শেখ হাসিনার একক সিদ্ধান্তে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা যা জনগণের কোনো সমর্থন ছিল না। এই বিচার করার ফলে সরকারের প্রতি জনগণের সমর্থন কমে যায় নব্বই ভাগ।
১০. একনেক। একনেক এই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি মঙ্গলবারে যত অমঙ্গলের হাজার হাজার কোটি টাকার কাজ করানো হত জনগণের সকল মতামত উপেক্ষা করে। এগুলো জনগণ কখনও মেনে নেয়নি।
১১. নৌকা মার্কা। দেশের জনগণ সবচেয়ে বিরক্ত হয়েছিল। যখন তাদের নৌকা মার্কাটা মেয়র এবং পৌরসভা উপজেলা এমনকি ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচনে ও নৌকা মার্কা দেয়া হয়েছিল। তার কারণ ছিল। এই নৌকা মার্কায় নব্বই ভাগ অসৎ লোকগুলো জনপ্রতিনিধি হয়ে। সমাজের জনগণের সাথে চরমভাবে প্রতারণা করেছিল।
১২. দলীয় কমিটি।। আওয়ামী লীগের প্রায় বারোটা অঙ্গ সংগঠনের এমনকি মুল দল আওয়ামী লীগের পর্যন্ত কমিটির পদ গুলো চড়া দামে বিকি হতো । যার ফলে প্রকৃত ত্যাগী নেতাকর্মীরা হারিয়ে যায়। সব হাইব্রীড আর হাইব্রীড একসময় দলে দেখা যায়। তাই সাবধান। যারাই ক্ষমতায় আছেন। উপরের বিষয় গুলো লক্ষ্য রাখতে পারলেই জনপ্রিয়তা পাওয়া যাবে জনগণের।
কথা থাকে ক্ষমতায় আসলে পরে মন্ত্রী এমপিরা একটা সময় দল নিয়ে ভাবে না। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে থাকে। আর দলের জনপ্রিয়তা নষ্ট হয়ে যায়। তাই দলীয় প্রধানের সব লক্ষ্য রাখা উচিৎ।।