1. info@www.dailybdcrimetimes.com : দৈনিক বিডি ক্রাইম টাইমস.কম :
বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ০১:২৯ অপরাহ্ন
Title :
ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তরে নিয়োগ,বদলী, টেন্ডার ও লাইসেন্স খাতে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা! (পর্ব- ১) জুলাইকে বুকে ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে, জুলাইয়ের প্রথম প্রহরে- আমানউল্লাহ আমান তারেক রহমানের সাহসী নেতৃত্বে ৩৭ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ বাংলাদেশ ব্যাংকে তুরাগ নদীর পারে শাহআলী’ থানা পুলিশের উদ্যোগে ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠিত আমতলী উল্টাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হলেন মোঃ মামুন হাওলাদার মিছিলে হামলার জেরে মনির মোল্লা ও কবিরুজ্জামানের বাসভবন ভাংচুর সহ চেয়ারম্যানকে মারধর লুটপাটের অভিযোগ টেন্ডার ছাড়া বিদ্যালয়ের গাছ কাটলেন প্রধান শিক্ষক জাপানের দুর্ভেদ্য রক্ষণ ভেদ করে ব্রাজিলের ২-১ গোলে জয়! কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল বিএনপির গৌরীচন্না নওয়াব সলিমুল্লাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি ২০২৬ পালিত

ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তরে নিয়োগ,বদলী, টেন্ডার ও লাইসেন্স খাতে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা! (পর্ব- ১)

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬
  • ২৪ Time View

বিশেষ প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধিনস্থ একটি সেবামুলক রাষ্ট্রিয় প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিঠানটি পরিচালনায় সরকার প্রতিবছর মোটা অংকের বাজেট প্রদান করে থাকেন। অগ্নি নির্বাপন ও জাতীয় দুযোর্গ মোকাবেলায় কাজকরেন এই প্রতিষ্টানটি। ইদানিং তাদের সেবার মান নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। দক্ষ ব্যবস্থাপনার অভার এবং একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠায় সীমাহীন অণিয়ম দুর্নীতি বাসা বেঁধেছে এই সরকারী প্রতিষ্ঠানটিতে।
এই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে মহাপরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়। সেই সুত্রে এখন মহাপরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল। পরিচালক প্রশাসনের দায়িত্বে রয়েছেন উপসচিব মো: শহীদ আতাহার হোসেন। তারা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সাথে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হচ্ছেন কতিপয় কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি দুর্নীতিবাজ শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কারণে। এই সিন্ডিকেট নানা কৌশলে মহাপরিচালক ও পরিচালক প্রশাসনকে জিম্মি করে রেখেছেন। ফলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কোটি কোটি টাকা চলে যাচ্ছে সিন্ডিকেটের পকেটে। আর বদনামের ভাগি হচ্ছেন মহাপরিচালক ও পরিচালক প্রশাসন।
সম্প্রতি এই প্রতিষ্ঠানে ফায়ার ফাইটার পদে জনবল নিয়োগ চলছে। এই নিয়োগকে ঘিরে শত কোটি টাকার বাণিজ্য হওয়ার আশংকা করা হচ্ছে। ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা নেওয়া হচ্ছে একজন ফায়ার ফাইটার নিয়োগে। এজন্য অগ্রিম টাকাও গ্রহন করা হচ্ছে।
একাধিক সুত্রে জানাগেছে, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর প্রধান কার্য়ালয়ে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ১৪/১৫ বছর যাবত গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। ৩ বছর পরপর বদলীর সরকারি বিধান থাকলেও তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সেবা ও সুরক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে ম্যানেজ করে বছরের পর বছর প্রধান কার্যালয়ে চাকুরী করছেন। তাদের ক্ষেত্রে সরকারে বদলী বিধান অকার্যকর করে রাখা হয়েছে। আর দীর্ঘদিন প্রধান কার্যালয়ে থাকা এই সব কর্মকর্তরা প্রতিষ্টানটিকে তাদের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন। তারা এতটাই শক্তিশালী যে, সয়ং মহাপরিচালক এবং পরিচালক প্রশাসনও তাদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েন। এই সিন্ডিকেটটি অধিদপ্তরের কেনাকাটা ও উন্নয়ন টে৫ন্ডার নিয়ন্ত্রন করেন। ফায়ার ফাইটার সহ অন্যান্য কর্মচারি নিয়োগে মুল কলকাঠি নাড়েন। ফায়ার ফাইটার লাইসেন্স খাতে সীমাহীন দুর্নীতি করেন। বদলী বাণিজ্য করেন। এদের হাতে দীর্ঘদিন যাবত রাষ্ট্রিয় এই প্রতিষ্ঠানটি জিম্মি হয়ে আছে। এ দিকে অনলাইনে ফায়ার ফাইটার লাইসেন্স এর যাবতীয় কাজ তুলে দেওয়া হয়েছে বেসরকারী একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের হাতে। তার নাম নাফিজ কবীর। তিনি বিনামূল্যে বিতরণের লাইসেন্স ফরম বিক্রি করছেন ২৯৫/- টাকা দরে। ১২ হাজার টাকার লাইসেন্স ফি নিচ্ছেন ২৫/৩০ হাজার টাকা। এমনকি তিনি ফায়ার ফাইটার নিয়োগের মধ্যস্থতার দায়িত্ব পালন করছেন।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সুত্রে জানাগেছে, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরে এখন যে সিন্ডিকেটটি সর্ব প্রকার দুর্নীতিমূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করছেন তারা হলেন: পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লেঃ কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার, সহকারী পরিচালক (অপারেশন) এ কে এম শামসুজ্জোহা (বিএফএম), সিনিয়র স্টাফ অফিসার মো: শাহজাহান শিকদার, উপসহকারী পরিচালক-
শামস আরমান, সহকারী পরিচালক (অপারেশন) এ কে এম শামসুজ্জোহা (বিএফএম) ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মোঃ রেজায়ে রাব্বী ও ঠিকাদার নাফিজ কবীর। এই ৬ষ্ট পান্ডব এর নিয়ন্ত্রণেই চলছে সবকিছু। এসব কর্মকর্তারা এককেজন ১০ থেকে ১৫ বছর প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন। ফলে প্রতিষ্ঠানটিতে তাদের একটি অসীম আধিপত্য তৈরি হয়েছে।

মহাপরিচালকের ভুমিকায় ডিএডি শামস আরমান!

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরে ডিএডি শামস আরমানের ক্ষমতার রাজত্ব চলছে। তিনি গত স্বৈরাচার সরকারের আমল থেকে শুরু করে বর্তমান সময়েও একই কর্মস্থলে বহাল রয়েছেন। তার আধিপত্য ও হাফভাব এমনই যে, মনে হয় তিনিই এই অধিদপ্তরের মহাপরিচালক! বিগত আ.লীগ সরকারের আমলে তৎকালীন মহাপরিচালকের যেমন অতি-আস্থাভাজন ছিলেন, ঠিক তেমনিভাবে বর্তমান মহাপরিচালকের অন্যতম নির্ভরযোগ্য কর্মকর্তা হিসেবে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন গোটা ডিপার্টমেন্ট।
শামস আরমানের আচরণ দেখে অনেকেই আরচোখে বলেন, “তিনি নিজেই যেন মহাপরিচালক” বাস্তবেও তার স্বেচ্ছাচারিতার ধরন অনেকটা সেরকমই। অধিদপ্তরের নিয়মনীতি, কেনাকাটা, প্রশাসনিক কার্যক্রম এমনকি বদলির মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে তার হস্তক্ষেপ এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। জনশ্রুতি আছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শেষ কথা এই আরমান? কোনো সংস্থার গোপন তদন্তে এ গুলো বের হয়ে আসতে পারে?
বদলি বাণিজ্য ও প্রশাসনিক দখলদারিত্ব ফায়ার সার্ভিসে নিয়ম অনুযায়ী একই স্টেশনে তিন বছরের বেশি সময় কেউ কর্মরত থাকতে পারে না। এই নীতির আড়ালে তৈরি হয়েছে বদলি বাণিজ্যের সুবর্ণ ক্ষেত্র। অভিযোগ আছে শামস আরমান বদলি সংক্রান্ত কাজে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন। প্রকৃতপক্ষে বদলি প্রশাসন শাখার অধীনে হলেও তিনি ডিজির পিএস পরিচয়ে নিজের লোক দিয়ে কমিটি গঠন করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
অপারেশনের কাজ বাদ দিয়ে ডিএডিদের অফিসে বসানো (ফায়ার সার্ভিসের মূল কাজ হলো আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার কার্যক্রম-অর্থাৎ অপারেশন)। কিন্তু শামস আরমানের নেতৃত্বে বহু দক্ষ ডিএডিকে মাঠের কাজ থেকে তুলে এনে দপ্তরে বসিয়ে রাখা হয়েছে। এতে অপারেশনাল দক্ষতা যেমন কমেছে, তেমনি মাঠ পর্যায়ে অফিসারদের মধ্যে হতাশা ও বিভক্তি তৈরি হয়েছে।
এডি ও ডিএডিদের পরিদর্শন চালু নতুন গ্রুপিংয়ের সৃষ্টি। ফায়ার সেফটি প্ল্যান এবং কার্যকরী সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে নতুনভাবে এডি ও ডিএডিদের পরিদর্শন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। পূর্বে যা ছিল না। ফলে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অবমূল্যায়ন করে সুবিধাভোগীদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

রিপোর্ট ও তদন্তে হস্তক্ষেপ:
ফায়ার দুর্ঘটনার রিপোর্ট কিংবা তদন্তে আরমানের হস্তক্ষেপ বহু পুরনো অভিযোগ। নিজের পকেটের লোক দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রভাবিত রিপোর্ট তৈরি করা যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে।
প্যাক ও ট্রেনিংয়ে অংশ না নিয়ে অর্থ উত্তোলন ,আরেকটি গুরুতর অভিযোগ হলো-শামস আরমান বিভিন্ন প্যাকেজের ও প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ না করেও ভুয়া বিল তৈরি করে অর্থ উত্তোলন করেছেন।

বই প্রকাশ ও অডিট আপত্তি:
মিরপুর ট্রেনিং কমপ্লেক্সে অবস্থানকালে ডিপার্টমেন্টের কিছু প্রকাশনার পেছনে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিল করেন শামস আরমান। সরকারি অডিট টিম এ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বিলের অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

অব্যাহত দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রশ্ন:
ফায়ার সার্ভিসের অত্যন্তরে ও বাইরে নানা প্রশ্ন উঠছে একজন কর্মকর্তা কীভাবে এতদিন অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রভাব খাটিয়ে বহাল তবিয়তে থাকেন? সরকারি দপ্তরের স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় যেখানে জবাবদিহিতার দাবি উঠে সেখানে শামস আরমানের এই অবস্থান কি প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়? শামস আরমানকে নিয়ে জুলাই আন্দোলনে সংশ্লিষ্ট মহল প্রশ্ন তুলতে এমন একজন স্বৈরতান্ত্রিক কর্মকর্তাকে কবে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে?

শামস আরমানের অপকর্মে সমূহ:
১.একই স্টেশনে তিন বছরের অধিক সময়কাল চাকরির কারণে ফায়ার ফাইটার, ড্রাইভার ও অফিসারদের বদলি বাধ্যতামূলক। এর কারণে প্রচুর বদলীর সুযোগ তৈরি হয় এবং বদলি বাণিজ্যের সুবিধা হয়েছে।২.ফায়ার সেফটি প্ল্যান ও কার্যকরী সনদের পরিদর্শনের অন্য অধিদপ্তরে নিয়োজিত এডি ও ডিএডিদের পরিদর্শন প্রথা চালু করা (যা আগে ছিল না)। এর ফলে অপারেশন কাজে নিয়োজিত মাঠ পর্যায়ের অফিসারদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। ফলে একটা গ্রুপিং তৈরি হয়েছে।
৩.ফায়ার সার্ভিসের উন্নয়নের চিন্তা না করে বদলীর ভয় দেখিয়ে অফিসার ও অন্যান্য স্টাফদের চাপে রাখা হয়েছে। ৪.ফায়ার সার্ভিদের মূল কাজ অপারেশন কর্মকান্ড। সে কাজ বাদ দিয়ে ডিএডিদের বিভিন্ন দপ্তরে সংযুক্ত রাখা হয়েছে। ৫.ডিএডি শামস আরমান বিভিন্ন ফায়ার রিপোর্টে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন। কমিশনের কন্ডিশনে নিজের পছন্দের লোক দিয়ে কমিটি তৈরি করেন।
৬.মোটা অংকের টাকার বিনিময় ফায়ার ফাইটার এবং অফিসার বদলিতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করা এবং পছন্দের লোকদের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসিয়ে মোটা টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। ৭. প্যাকের এবং ট্রেনিংয়ে অংশগ্রহণ না করেও টাকা উত্তোলন করেন। ৮.বদলী সংক্রান্ত কাজ হলো প্রশাসন শাখার কিন্তু সেটা উপেক্ষা করে নিজেই বদলীর ফাইলে হস্তক্ষেপ করেন। ৯.ফায়ার ফাইটার পদ সহ অন্যান্য পদে লোক নিয়োগে হস্তক্ষেপ করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। ১০. তিনি এক নাগাড়ে ১৫/১৬ বছর ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে অবস্থান করছেন। ৩ বছর পর পর বদলীর নিয়ম থাকলেও তার ক্ষেত্রে সেই বিধান কার্যকর হচ্ছে না।

এ বিষয়ে ডিএডি শামস আরমানের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি ডিজির পারমিশন ছাড়া কোন কথা বলতে পারবেন না বলে জানান এ প্রতিবেদককে।

তিনি ডিজির অঘোষিত “ক্যাশিয়ার”

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সাময়িক বরখাস্তকৃত ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মোঃ রেজায়ে রাব্বীকে ঘিরে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আসছে।
দুর্নীতি, প্রভাব বাণিজ্য, সরকারি কোয়ার্টার অপব্যবহার, আন্দোলন বিরোধী ভূমিকার অভিযোগের পাশাপাশি এবার এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে অশ্লীল আচরণ ও অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। ফলে ফায়ার সার্ভিসের অভ্যন্তরে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
মাত্র প্রায় ৪০ হাজার টাকা বেতনের একজন ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর হয়েও রাজধানীর অভিজাত বেইলি রোড এলাকায় প্রায় ৫০ হাজার টাকা ভাড়ার আলিশান ফ্ল্যাটে বসবাস, সন্তানদের ভিকারুননিসা স্কুল এন্ড কলেজে এ পড়াশোনা এবং বিলাসবহুল জীবনযাপন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন খোদ সহকর্মীরাই। ফায়ার সার্ভিসের অভ্যন্তরে এখন বড় প্রশ্ন, একজন ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টরের প্রকৃত আয় কত?” অভিযোগ রয়েছে, ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ লাইসেন্সিং জোনে পোস্টিং বাগিয়ে নিয়ে প্রতি মাসে প্রায় ১০ লাখ টাকার বেতন বহির্ভূত আয় করতেন রেজায়ে রাব্বী।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পিএন-১০০৩১৮ নম্বরধারী রেজায়ে রাব্বী দীর্ঘদিন ঢাকা অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ সালের ৮ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ৩০ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন লাইসেন্সিং জোনে কর্মরত থাকাকালে তাকে ঘিরে তদবির, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ বাড়তে থাকে।
এদিকে সম্প্রতি এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সঙ্গে অশোভন আচরণ ও অশ্লীলতার চেষ্টার অভিযোগও ছড়িয়ে পড়ে ফায়ার সার্ভিসের ভেতরে। অভিযোগটি নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব ও উচ্চপর্যায়ের আশীর্বাদ কাজে লাগিয়ে বারবার সুবিধাজনক পদায়ন নিশ্চিত করেছেন তিনি। বিভিন্ন সময়ে বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারণে বদলি করা হলেও রহস্যজনক ভাবে আবারও গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ফিরে আসতেন। ফায়ার সার্ভিসের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী তাকে মহাপরিচালকের “বিশ্বস্থ ক্যাশিয়ার” হিসেবেও আখ্যা দিয়ে থাকেন।
সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি সরকারি আবাসন নিয়ে। অভিযোগ আছে, নিজের নামে সরকারি কোয়ার্টার বরাদ্দ নিয়ে সেখানে নিজে না থেকে চাকরিচ্যুত ফায়ার ফাইটার হান্নানকে বিনামূল্যে থাকার সুযোগ দিয়েছেন রেজায়ে রাব্বী। সরকারি সম্পদের এমন অপব্যবহার নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে ফায়ার সার্ভিসের অভ্যন্তরে।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় তার ভূমিকা নিয়েও উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। অভিযোগ অনুযায়ী, দায়িত্বস্থলে অনুপস্থিত থেকে আন্দোলনবিরোধী অবস্থান নেন তিনি। পরবর্তীতে এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে রংপুরে পদায়ন দেওয়া হয়। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, সাময়িক বরখাস্ত ও নানা বিতর্কের পরও ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক জায়েদ কামাল-এর ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে আবারও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পদায়নের চেষ্টা চালাচ্ছেন রেজায়ে রাব্বী। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও বাড়ছে ক্ষোভ ও অসন্তোষ। (আগামী পর্বে এই সিন্ডিকেট অন্য সদস্যদের অনিয়ম-দুর্নীতি তুলে ধরা হবে। )

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved