
নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত সেন্ট্রাল হাসপাতাল লিমিটেডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে আদালতে মামলা দায়ের, চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং পরবর্তীতে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি জনমহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
চিকিৎসক ডা. রুবাইয়াত আমিন খান, যিনি সেন্ট্রাল হাসপাতাল লিমিটেডের গাইনি ও অবস বিভাগে কর্মরত, ঢাকা মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালের অধ্যক্ষের সাথে কথা বলে জানা যায় যে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠা, সততা ও পেশাগত দক্ষতার সঙ্গে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট অন্তঃসত্ত্বা রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় জরুরি ব্যবস্থার বিষয়টি তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন।
পরিবারের দাবি, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সময়মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হওয়ায় রোগীর অবস্থার আরও অবনতি ঘটে এবং একপর্যায়ে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁদের অভিযোগ, হাসপাতালের প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতার বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনায় না এনে সম্পূর্ণ ঘটনাটির দায় অন্যায়ভাবে চিকিৎসকের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে নিহত নারীর স্বামী আশিকুর রহমান এ ঘটনায় ডা. রুবাইয়াত আমিন খানসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। তবে চিকিৎসকের পরিবারের অভিযোগ, মামলার পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের মানসিক চাপ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এমনকি ধানমন্ডি এলাকায় তাঁদের ওপর হামলা বা প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসী ভাড়া করা হয়েছে বলেও এলাকাবাসীর অভিযোগ ।
চিকিৎসক পরিবারের ভাষ্য, একজন চিকিৎসকের পেশাগত সিদ্ধান্ত ও দায়িত্বের সঙ্গে হাসপাতালের প্রশাসনিক দায়বদ্ধতার বিষয়টি পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি। তাঁদের মতে, রোগীর জন্য উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে অবহিত করার পরও যদি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হয়ে থাকে, তবে সেই বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটন করা উচিত।
অন্যদিকে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসায় অবহেলার কারণেই এই মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে এবং তারা বিচার পাওয়ার আশায় আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সাথে কথা বলে জানা যায় যে, ডাক্তার রুবাইয়াত আমিন খান একজন নামকরা চিকিৎসক রোগীর অবস্থা খারাপ বলেই তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বলেন কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে রোগীটি মারা যায়।