
সিংড়া,(নাটোর) প্রতিনিধি :
নাটোরের সিংড়া উপজেলার ২ নম্বর ডাহিয়া ইউনিয়নে বিভিন্ন সরকারি ও সামাজিক কার্যক্রমে বিতর্কিত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ডাহিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. কায়েম উদ্দিন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কায়েম উদ্দিন বিভিন্ন সময়ে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন কিংবা ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছেন। কখনো আওয়ামী লীগ, কখনো বিএনপি এবং কখনো জামায়াতে ইসলামীর পরিচয় ব্যবহার করে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ ছাড়া বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল গ্লোবাল টেলিভিশনের পরিচয় এবং সিংড়া মডেল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিজের পদমর্যাদা ব্যবহার করেও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি তাদের।
সম্প্রতি ফ্যামিলি কার্ডের শুমারির মতো একটি সরকারি কার্যক্রমে তাকে প্রাথমিকভাবে সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি সামনে এলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। তাদের প্রশ্ন, রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত হিসেবে যাকে স্থানীয়ভাবে আলোচনা করা হচ্ছে, তাকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো সরকারি কার্যক্রমে দায়িত্ব দেওয়ার আগে তার রাজনৈতিক ও সামাজিক ভূমিকা যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না।
এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি কোনো কার্যক্রমে দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে সততা, নিরপেক্ষতা, যোগ্যতা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে কায়েম উদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সচেতন মহলের ভাষ্য, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য জানা এবং যাচাই-বাছাই ছাড়া কাউকে দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা উচিত নয় বলেও মত দিয়েছেন তারা।